
রাষ্ট্রীয় একটি গুরুত্বপূর্ণ সফরে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের খুলনা ও বাগেরহাট অঞ্চলের সুন্দরবন, দাকোপ এবং মোংলা বন্দর পরিদর্শনের ব্যস্ততম দিনে খুলনায় রক্তক্ষয়ী দুটি হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) ভোরে পূর্ব বানিয়াখামার এবং সন্ধ্যায় লবণচরা এলাকায় এসব সহিংসতার ঘটনা ঘটে। একদিনের ব্যবধানে দুটি খুনের ঘটনায় গোটা শহরে চাঞ্চল্য ও চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে।
বৃহস্পতিবার ভোর সাড়ে ৫টার দিকে নগরীর সদর থানার পূর্ব বানিয়াখামার আনসার আলী গলির সামনে তুষার (৩২) নামের এক যুবককে গুলি করে হত্যা করে দুর্বৃত্তরা।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ভোরে পূর্ব বানিয়াখামার খাদেমুল উলুম মাদ্রাসার সামনে কয়েকজন যুবকের মধ্যে ধস্তাধস্তির একপর্যায়ে অস্ত্র বের করে গুলি চালানো হয়। এতে তুষারের পিঠে গুলিবিদ্ধ হয়ে ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয়। পরে খবর পেয়ে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠায়।
পুলিশের প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, নিহত তুষার কারাগারে আটক খুলনার শীর্ষ সন্ত্রাসী পলাশ গ্রুপের সক্রিয় সদস্য ছিলেন এবং তাঁর বিরুদ্ধে মাদক ও অস্ত্র আইনে একাধিক মামলা রয়েছে। প্রতিপক্ষ গ্রুপের গুলিতেই এই হত্যাকাণ্ড ঘটে বলে ধারণা করছে পুলিশ। খুলনা থানার অফিসার ইনচার্জ মো. লোকমান হোসেন রিপন জানিয়েছেন, হত্যাকারীদের শনাক্ত করা হয়েছে এবং তাদের গ্রেফতারে অভিযান চলছে।
দিনের দ্বিতীয় হত্যাকাণ্ডটি ঘটে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যার দিকে। নগরীর লবণচরা থানার জিন্দাপাড়া সাত নম্বর গলিতে দুর্বৃত্তদের অতর্কিত হামলায় খুন হন খুশি (২৫) নামের এক গৃহবধূ। তিনি ওই এলাকার সুমন সরদারের স্ত্রী।
প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ জানায়, নিহত খুশি ও তাঁর স্বামী সুমন ওরফে ‘ব্লেডবাবু’ এলাকার চিহ্নিত মাদক কারবারি হিসেবে পরিচিত। মাদক সংক্রান্ত বিরোধের জের ধরে দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয় একটি সন্ত্রাসী বাহিনীর সাথে তাঁদের দ্বন্দ্ব চলে আসছিল। এরই ধারাবাহিকতায় সন্ধ্যা পৌনে ৭টার দিকে একটি মোটরসাইকেলে করে আসা দুই যুবকের একজন খুশিকে কুপিয়ে ও গুলি করে পালিয়ে যায়। স্থানীয়রা তাঁকে উদ্ধার করে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
লবণচরা থানার অফিসার ইনচার্জ মো. মোশারেফ হোসেন জানান, ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে এবং আসামিদের গ্রেপ্তারে বিভিন্ন স্থানে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
এদিকে, যখন খুলনায় আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির এই চিত্র ফুটে উঠছে, ঠিক একই দিনে সরকারি সফরে খুলনা ও বাগেরহাটে অবস্থান করছিলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
বৃহস্পতিবার সকালে তেজগাঁও বিমানবন্দর থেকে হেলিকপ্টারে যাত্রা করে সুন্দরবনের হিরণ পয়েন্ট ও উপকূলীয় এলাকা পর্যবেক্ষণ শেষে তিনি দাকোপের নলিয়ান মাধ্যমিক বিদ্যালয় মাঠ এবং পরে নৌপথে মোংলায় পৌঁছান। মোংলা বন্দর জেটি ও প্রস্তাবিত বেজা অর্থনৈতিক অঞ্চল পরিদর্শনের পাশাপাশি স্থানীয় বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কর্মসূচি ও সভায় অংশ নেন তিনি।
প্রধানমন্ত্রীর এই সফরকে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের জন্য ‘আশীর্বাদস্বরূপ’ আখ্যা দিয়ে খুলনার রাজনৈতিক অঙ্গনে উষ্ণ অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা জানিয়েছেন স্থানীয় নেতৃবৃন্দ। তবে একই দিনে শহরের অভ্যন্তরে জোড়া খুনের মতো গুরুতর অপরাধ সংঘটিত হওয়ায় জনমনে নিরাপত্তা নিয়ে ও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
প্রকাশক ও সম্পাদক- আলি আবরার । নিরালা, খুলনা থেকে প্রকাশিত