প্রথম দিনের সংলাপে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের (সিইসি) ‘তলোয়ার ও রাইফেল’ নিয়ে দেয়া বক্তব্য ঘিরে দিনভর আলোচনা-সমালোচনা চলছে। এরমধ্যেই নিজের সকালের দেয়া বক্তব্য থেকে সরে এসে রাজনৈতিক দলগুলোকে ভোটের মাঠে সহিংসতাকারীদের অস্ত্র নয়, ব্যালট নিয়ে যুদ্ধ করার পরামর্শ দিলেন সিইসি।
রোববার (১৭ জুলাই) রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে সংলাপ শুরুর প্রথম দিনে জাতীয়তাবাদী গণতান্ত্রিক দল এনডিএমের সঙ্গে বসে ইসি। সেখানে দেয়া বক্তব্যে সিইসি নির্বাচনে কোনো দলের কর্মীরা তলোয়ার নিয়ে দাঁড়ালে প্রতিদ্বন্দ্বীদেরকে রাইফেল নিয়ে দাঁড়ানোর পরামর্শ দেন।
যদিও সংলাপে অংশ নেয়া দিনের সবশেষ দল বাংলাদেশ কংগ্রেসের সঙ্গে সংলাপে তলোয়ার ও রাইফেল নিয়ে নয়, বরং নিজেদের শক্তি দিয়ে ব্যালটের যুদ্ধ করার পরামর্শ দিয়েছেন তিনি।
রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে শুরু হওয়া এই সংলাপ চলবে জুলাই মাসজুড়ে।
গত ফেব্রুয়ারিতে দায়িত্ব নেয়া কমিশন এর আগেও রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে সংলাপ করেছে ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন বা ইভিএম নিয়ে। আগামী জাতীয় নির্বাচনে এই যন্ত্রটি ব্যবহার করা হবে কি না, এই সিদ্ধান্ত নিয়ে দলগুলোর মতামত শুনে এখনও অবশ্য কমিশন তার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানায়নি।
দ্বিতীয় ধাপের এই সংলাপ করা হচ্ছে আগামী জাতীয় নির্বাচনের কর্মপদ্ধতি নিয়ে।
প্রথম দিনের সংলাপে সিইসি প্রথমে কথা বলেন জাতীয়তাবাদী গণতান্ত্রিক আন্দোলনের (এনডিএম) সঙ্গে আলোচনার সময় দলগুলোকে ভোটের মাঠে থাকার তাগিদ দিতে গিয়ে সিইসি বলেন, ‘আপনাদের দায়িত্ব নিতে হবে। কারণ খেলোয়াড় হচ্ছে রাজনৈতিক দল। আপনারা মাঠে যাবেন; মাঠে খেলবেন। আমরা রেফারি। আমাদের অনেক ক্ষমতা আছে। ক্ষমতা কিন্তু কম না। আমরা ক্ষমতা প্রয়োগ করবো। মাঠে কেউ যদি তলোয়ার নিয়ে দাঁড়ায়, আপনাকে একটা রাইফেল ও তলোয়ার নিয়ে দাঁড়াতে হবে।’
যদিও সিইসির এমন বক্তব্যের পর এনডিএমের চেয়ারম্যান ববি হাজ্জাজ বলেন, ‘আইনে আমাদের শটগান নিয়ে দাঁড়ানো পারমিট করে না।’
এদিকে সিইসির এই বক্তব্য গণমাধ্যমে ফলাও করে প্রচার হলে অনেকেই সমালোচনা শুরু করেন। ইসিতেও বিষয়টি নিয়ে নানা কথাবার্তা চলে দিনভর।
পরে অবশ্য বাংলাদেশ কংগ্রেসের সঙ্গে সংলাপে সিইসির সেই বক্তব্য থেকে সরে এসে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে সম্পর্ক বাড়ানোর প্রতি জোর দেন। পরামর্শ দেন নিজেদের মধ্যে আন্ত:সম্পর্ক বাড়ানো, বিএনপি-আওয়ামী লীগসহ অন্য দলগুলোর মধ্যে নিজেদের সংলাপ আলোচনা করারও তাগিদ দেন।
সিইসি বলেন, ‘নির্বাচন এক ধরনের যুদ্ধ। অনেকেই বলছেন আসেন যুদ্ধের মাঠে আসেন। সেখানে আসলে অস্ত্র নিয়ে যুদ্ধ করলে হবে না। আপনাদের আসলে জনসমর্থম নিয়ে যুদ্ধ করতে হবে। আপনারা তলোয়ার, রাইফেল নিয়ে যুদ্ধ করবেন না। আপনাদের জনসমর্থন যেগুলো আছে তারা আসবে। আপনারা ব্যালট নিয়ে যুদ্ধ করবেন। সেই যুদ্ধটা আপনাদের করতে হবে।
তিনি বলেন, ‘শক্তির ভাষায় কথা না বলে টেবিলে বসে যুক্তির ভাষায় কথা বলুন। গঠনমূলক আলোচনা করুন। সংকট থেকে যেতে পারে। অনাস্থা দূর হতে পারে; বা কমে আসতে পারে।’
রাজনৈতিক দলগুলোকে নিজেদের মধ্যে দূরত্ব কমানোর তাগিদ দেন সিইসি। বলেন, ‘আপনার ভোট আপনি আমার ভোট আমি দেব। আমার লোককে আপনি ভোট দিতে দেন। আপনার লোককেও আমি সমভাবে ভোট দিতে দেব।’
সুষ্ঠু ভোটের অনুকূল পরিবেশ এবং সবার জন্য সমান সুযোগ নিশ্চিত করার কথা বলে সিইসি বলেন, ‘সকলের দায়িত্বশীল আচরণ এবং একান্ত সহযোগিতা প্রয়োজন।’
এসময় নির্বাচন কমিশনার বিগ্রেডিয়ার জেনারেল (অব.) আহসান হাবীব খান বাংলাদেশ কংগ্রেসের নেতাদের কাছে গত চারমাসের কার্যক্রমের মূল্যায়ন জানতে চান।
তিনি বলেন, আমরা দায়িত্ব নেয়ার পর ১৭০টি নির্বাচন করেছি। সেখানে আমাদের কাজের কি মূল্যায়ন করবেন? আপনাদের মাঠের লোকজনের ভাবনা কী? এর জবাবে দলটির চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট রেজাউল হোসেন বলেন, আপনারা কিছু জায়গায় নির্বাচনে ভালো ভূমিকা রেখেছেন। সেটা ভালোই। চট্টগ্রামের বাঁশখালী, আরো কয়েকটি জায়গায় আপনারা শক্ত অবস্থান নিয়েছেন। এখন আমাদের পরামর্শ সামনের নির্বাচনে আপনারা যদি যে ক্ষমতা দেয়া আছে তার প্রয়োগ করেন তাহলেই ভালো নির্বাচন করা সম্ভব হবে।’
সোমবার সংলাপের ডাক পেয়েছেন যারা
সংলাপের দ্বিতীয় দিনে (সোমবার) নির্বাচন কমিশন থেকে আমন্ত্রণ পেয়েছে চারটি দল। তারা হলো- সকাল সাড়ে ১০টা থেকে সাড়ে ১১টা বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্ট (নিবন্ধন নং--৩৫), দুপুর ১২টা থেকে ১টা বাংলাদেশ সাংস্কৃতিক মুক্তিজোট (মুক্তিজোট)(নিবন্ধন নং-৪২), আড়াইটা থেকে সাড়ে ৩টা খেলাফত মজলিস (নিবন্ধন নং-৩৮) ও বিকাল ৪টা থেকে ৫টা বাংলাদেশের বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টি (নিবন্ধন নং-৩৭)।
পি এস / এন আই
প্রকাশক ও সম্পাদক- আলি আবরার । নিরালা, খুলনা থেকে প্রকাশিত