ঢাকার দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানার মঠবাড়ি এলাকায় শাকিল নামে এক ইজি বাইক চালককে হত্যার ঘটনায় চারজনকে গ্রেফতারের পর চাঞ্চল্যকর তথ্য বেরিয়ে এসেছে। মূলত মদের টাকা সংগ্রহ করতেই চালককে জবাই করে হত্যা করা হয়। এসময় হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত একটি রক্তমাখা সুইসগিয়ার চাকু, আসামীদের ব্যবহৃত রক্তমাখা সিএনজি ও লুণ্ঠিত ইজিবাইক উদ্ধার করা হয়। আর এ হত্যাকাণ্ড ছিল পরিকল্পিত। তবে এ হত্যার সাথে সরাসরি জড়িত কিশোর গ্যাং গ্রুপের সদস্যরা। শনিবার (২০ মে) রাতে এ হত্যায় জড়িত চারজনকে বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে গ্রেফতার করা হয়। তারা হলেন, জনি (২০), শারাফাত (২০), ইব্রাহিম চান (২১), সাব্বির হোসেন মেহেদী (২২)।
রোববার (২১ মে) দুপুরে রাজধানীর পুরান ঢাকার জনসন রোডে নিজ কার্যালয়ে সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান ঢাকা জেলার পুলিশ সুপার মো. আসাদুজ্জামান।
ঢাকা জেলার পুলিশ সুপার বলেন, কিশোর গ্যাংয়ের সদস্যরা হত্যাটি করে, যাদের সকলে মাদকাসক্ত। গত বৃহস্পতিবার ইজিবাইক ছিনতাই করে ব্যাটারি বিক্রির টাকা দিয়ে মদের পার্টি করার পরিকল্পনা করে তারা। পরিকল্পনা অনুযায়ী ১৮ মে সন্ধ্যায় গ্রেফতার ইব্রাহিম চানের সিএনজি নিয়ে দক্ষিণ কেরানীগঞ্জের কাউটাইল ঘাটে টার্গেট ইজিবাইকের জন্য অপেক্ষা করতে থাকে। পরে কোন টার্গেট ইজিবাইক না পেয়ে শরাফত ও জনি কাটাইল ঘাট এলাকা থেকে সামনে এগিয়ে গিয়ে শাকিলকে পায়। শাকিল জনির পূর্ব পরিচিত হওয়ায় সহজেই শাকিলকে নির্জন স্থানে নিয়ে যায়। পরে জনি, শারাফাত ও সাব্বির গাড়ি নিয়ে মঠবাড়ী পরিত্যক্ত ইটখোলায় যায়। অপরদিকে ইব্রাহিম চান সিএনজি নিয়ে পিছু পিছু আসে। সেখানে পৌঁছানো মাত্রই পূর্বপরিকল্পনা অনুযায়ী শারাফাত সুযোগ বুঝে সুইসগিয়ার দিয়ে শাকিলের গলায় টান দেয়। এতে শাকিল ইজিবাইক থেকে পড়ে যায় এবং গলা চেপে ধরে চিৎকার শুরু করে। তখন জনি পেছন থেকে শাকিলের পিঠে এলোপাথাড়ি চাকু মারতে থাকে। কিন্তু তারপরও শাকিল চিৎকার ও দাপাদাপি করতে থাকায় জনি, সাব্বির ও ইব্রাহিম চান শাকিলের মাথা ও হাত-পা চেপে ধরে এবং শরাফাত শাকিলকে সুইসগিয়ার দিয়ে মাথার সামনে-পেছনে জবাই করে মাথা প্রায় বিচ্ছিন্ন করে মৃত্যু নিশ্চিত করে। এরপর শরাফত, জনি ও ইব্রাহিম চান সিএনজিতে করে চলে যায়। আর সাব্বির নিহত শাকিলের ইজিবাইক নিয়ে চলে যায়। মূলত মদের পার্টির টাকার জনাই তারা পূর্ব পরিচিত ইজিবাইক চালক শাকিলকে হত্যা করে।
পুলিশ আরও জানায়, নিহত শাকিল ১০ ম শ্রেণীর ছাত্র ছিল ও তার বাবা ছোটবেলায় মারা যায়। শাকিলের অসুস্থ মা ও ছোট ভাইকে নিয়ে থাকতো সে। নিজের পড়াশুনা, মায়ের চিকিৎসা ও সংসারের খরচ মেটাতে শাকিল স্কুল শেষে প্রতিদিন বিকেল থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত ইজিবাইক চালাত। গত বৃহস্পতিবার বিকেলে ইজিবাইক নিয়ে বের হলেও রাতে তার বাসায় ফিরে আসেনি। পরদিন তার লাশ উদ্ধার করে পুলিশ।
পুলিশ জানায়, গত শুক্রবার সকাল ৬ টার দিকে স্থানীয়রা দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানায় ফোন করে জানান মঠবাড়ী পদ্মা রেলওয়ে সেতুর নিচে সাবেক চেয়ারম্যান গিয়াস উদ্দিনের পরিত্যক্ত ইটের খোলার ভিতরে একটি গলা কাঁটা লাশ পড়ে আছে। পরে পুলিশ গিয়ে লাশটি উদ্ধার করে। মৃতদেহটি একই ইউনিয়নের পালিরা গ্রামের মৃত সিদ্দিক মিয়ার ছেলে শাকিলের (১৭)। মরদেহ সনাক্ত করেন পরিবারের সদস্যরা।
এর আগে এ ঘটনায় শাকিলের বড় বোন সীমা বাদী হয়ে আসামী অজ্ঞাত উল্লেখ করে দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানায় একটি হত্যা মামলা করেন। তদন্তে নেমে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে আসামীদের শনাক্ত করে চারজনকে গ্রেফতার করে পুলিশ।
প্রকাশক ও সম্পাদক- আলি আবরার । নিরালা, খুলনা থেকে প্রকাশিত