মোংলায় তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে তিন নারীসহ ৫ জনকে মেরে রক্তাক্ত জখম করেছে সন্ত্রাসীরা। মোংলা উপজেলার দ্বিগরাজ বাজার এলাকায় এ ঘটনা ঘটলে থানায় অভিযোগ দিয়েও পুনরায় মারধরের স্বীকার হয়েছে এ অসহায় পরিবারটি। স্থানীয়রা রক্তাক্ত অবস্থায় তাদের উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। সন্ত্রাসীদের প্রকাশ্য হুমকিতে প্রানের ভয়ে এখন পালিয়ে বেড়াচ্ছে নির্যাতনের স্বীকার ওই পরিবারের সদস্যরা। পুলিশ বলছে, আহতদের চিকিৎসার ব্যবস্থাসহ আসামীদে গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।
থানার অভিযোগ সুত্রে ও প্রত্যাক্ষদর্শীরা জানায়, ফরিদা বেগমের পরিবার ও বাচ্চু মৃধা, নুপুর বেগম, শরিফুলসহ অন্যান্যরা প্রতিপক্ষরা একই এলাকায় বসবাস করে। আগে থেকেই বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আসামীদের সাথে ফরিদার পরিবারের বিরোধ চলে আসছিল। গত ২৭ অক্টোবর সন্ধ্যায় দ্বিগরাজ বাজারে তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে ফরিদা বেগমকে বাচ্চু মৃধা অহেতুক ভাবে অকথ্য ভাষায় গালাগালী করতে থাকলে ফরিদা বেগম এতে প্রতিবাদ করে। এসময় কিছু বুঝে ওঠার আগেই বাচ্চু মৃধা হঠাৎ তার চুলের মুঠি ধরে এলাপাথারী ভাবে মারতে থাকে। জীবন বাঁচাতে ডাক চিৎকার দিলে ছেলে ফরিদ খান (৩৫) মাকে বাচাতে আসলে বাচ্চু, শরিফুল, জাকিরসহ কয়েকজন সন্ত্রাসী তাদের দুজনকেই হত্যার উদ্দেশ্যে লোহার রড দিয়ে পিটিয়ে মাথায় ও শরীরে রক্তাক্ত জখম করে অচেতন অবস্থায় একটি দোকানের পাশে মা-ছেলেকে ফেলে রাখে। এছাড়া ওই সকল সন্ত্রাসীরা আহত ওই নারীর সাথে থাকা নগদ টাকা ও স্বর্ণালংকার ছিনিয়ে নেয় বলেও থানার অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। পরে স্থানীয়রা তাদের রক্তাক্ত অবস্থায় উদ্ধার করে মোংলা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভতি করে।
পরের দিন সকালে হাসপাতালে আহত মা-ছেলেকে দেখতে যাওয়ার সময় তাদের পরিবারের অন্য সদস্যদের উপর আবারও হামলা করে ওই সকল সন্ত্রাসীরা। এ সময়ও বৃদ্ধা নারী মমোতাজ বেগম (৬০), পারভিন বেগম (৩০) সহ ৩ জনকে মেরে গুরুতর আহত করে। এতে মমোতাজ বেগমের হাতের কজ্বি ভেঙ্গে যায় এবং গর্ববতী পারভিন বেগম রক্তক্ত জখম হয়ে জ্ঞান হারিয়ে ফেলে। তাদেরকেও স্থানীয়রা গুরুতর অবস্থায় উদ্ধার করে মোংলা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে। তবে আহত অন্যান্যরা কিছুটা সুস্থ্য থাকলে গর্ভবতী পারভিন বেগমের অবস্থা গুরুতর। মারামারির বিষয় নিয়ে এলাকায় উভয়ের মধ্যে উত্তেজনা বিরাজ করছে। পুলিশের তৎপরতায় পরিস্থিতি কিছুটা শান্ত। তবে ওই সকল সন্ত্রাসীরা অসহায় এ পরিবারটিকে প্রকাশ্যে হুমকি দিচ্ছে বলেও অভিযোগে উল্লেখ করেণ ভুক্তভোগীরা।
মোংলা উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ মোঃ শাহিন বলেন, ফরিদা বেগমের মাথায় আঘাতে বেশ কয়েকটি সেলাই ও ভেন্ডেজ করা হয়েছে এবং বৃদ্ধা মমোতাজ বেগমের হাত ভেঙ্গে গেছে। এছাড়া গর্ভবতী পারভিন বেগম তার পেটে প্রচন্ড আঘাত প্রাপ্ত হওয়ায় তাকে নিবিড় পরিচর্যায় রাখা হয়েছে। আগামী ২৪ ঘন্টায়ও সুস্থ্য না হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য দ্রæত তাকে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাপাতালে পাঠানো হবে বলেও জানায় এ স্বাস্থ্য কর্মকর্তা।
আহতরা হাসপাতালে চিকিৎসা শেষে এঘটনায় নিয়ে সোমবার রাতে ফরিদা বেগম ও ফরিদ খাঁন বাদী হয়ে মোঃ বাচ্চু মৃধা, শরিফুল শেখ, মোঃ জাকির, নুপুর, ঝুমা, রিজিয়া বেগম সহ বেশ কয়েক জন সন্ত্রাসীদের নাম উল্লেখ করে মোংলা থানায় পৃথক দুইটি এজাহার দাখিল করা হয়েছে।
মোংলা থানার অফিসার ইনচার্জ মোহাম্মাদ মনিরুল ইসলাম বলেন, দ্বিগরাজ এলাকায় মারামারীর ঘটনা নিয়ে দুইটি অভিযোগ পেয়েছি। পৃথক অভিযোগে দুইজন অফিসারকে সুষ্ঠ তদন্ত করার জন্য দেয়া হয়েছে এবং আহতদের চিকিৎসার ব্যাপারে সহায়তা করা হচ্ছে। আসামীদের গ্রেফতারেরও চেষ্টা চলছে বলে জানায় থানার এ কর্মকর্তা।
প্রকাশক ও সম্পাদক- আলি আবরার । নিরালা, খুলনা থেকে প্রকাশিত