পরিকল্পনা মন্ত্রী এম এ মান্নান এমপি বলেছেন, মোংলা সমুদ্র বন্দরের গুরুত্ব আগের তুলনায় অনেক বেড়ে গেছে, তাই চট্টগ্রাম বন্দরের বিকল্প বন্দর হিসেবে মোংলা বন্দরকে গড়ে তোলা হচ্ছে। তবে বন্দর সচল রাখতে হলে চ্যানেলের গভীরতা থাকাটা বিশেষ প্রয়োজন, কিন্ত বন্দরের পশুর চ্যানেল পলি পরে ভরাট হচ্ছে, এটা কাগজে-কলমে দেখতে পাই, তাই সরে জমিনে পরির্দশনে এসে নিজের চোখে দেখা গেলাম।
তিনি শনিবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে বন্দরের পশুর চ্যানেলের ইনার বার ড্রেজিং প্রকল্প পরির্দশনকালে একথা বলেন ।
মন্ত্রী আরো বলেন, মোংলা বন্দর একটি সম্ভাবনাময় বন্দর, তাই দেশের সার্থে এ বন্দরকে আরো বেশী উন্নয়ন করা প্রয়োজন। চ্যানেলের ইনার বার ড্রেজিংয়ের মাটি ফেরা নিয়ে একটু সমস্যা ছিল, এটাও দেখা হচ্ছে। বন্দরকে যদি পরিবেশ বান্ধব এবং আধুনিক বন্দর হিসেবে গড়ে তুলতে এর সাথে সংশ্লিষ্ট বা এর আশপাশের মানুষদের একটু ত্যাগ স্বীকার করতে হবে। কারণ বন্দর যদি না থাকে তবে এর আশপাশ এলাকার কোন মূল্য থাকবে না। বন্দর আছে বলেই এ এলাকার মূল্য দেশের সব স্থানের চেয়ে অনেক বেশী। এজন্য এ বন্দরকে আধুনিক বন্দরের রুপান্তর করাসহ সকল উন্নয়ন করতে সরকার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। একটি সমুদ্র বন্দরের প্রাণ হলো চ্যানেল পরিষ্কার ও গভীরতা বজায় রাখা। চ্যানেল যদি গভীরতা কম থাকে তা হলে অধিক গভীরতা জাহাজ বিদেশ থেকে সরাসরী বন্দরে ঢুকতে পারবেনা। এখানে অন্যান্য উন্নয়ন মুলক প্রকল্পের পাশাপাশী চ্যানেল ড্রেজিং চলমান রাখা একান্ত প্রয়োজন।
জানা গেছে মোংলা বন্দরকে উজ্জীবিত করতে বঙ্গোপসাগরের মোহনা থেকে বন্দর জেটি পর্যন্ত প্রায় ১শ’ ৩২ কিলোমিটার চ্যানেল খননের জন্য দু’টি প্রকল্প গ্রহন করে সরকার। এর মধ্যে আউটারবার ড্রেজিং খননের কাজ শেষ করে ২০২১ সালের ১৩ মার্চ শুরু হয় ১৯ কিলোমিটার ইনার বার ড্রেজিং প্রকল্প খননের কাজ। শুরু হওয়া এ প্রকল্পের কাজ ২০২২ সালের ৩০ জুন শেষ হওয়ার কথা থাকলেও ড্রেজিংয়ের কাজ সম্পূর্ণ হয় মাত্র ২৫ শতাংশ। প্রকল্পের মেয়াদ বাড়ানো হলেও বালু ফেলার জায়গা না থাকায় আবারও স্থবির হয়ে যায় ইনার বার প্রকল্পের কাজ। তাই এবারে প্রকল্পে ব্যয় বাড়িয়ে ২০২৪ সালের ৩০ জুন কাজটি সম্পন্ন করা হবে। বন্দরের তথ্যমতে, প্রথমে প্রকল্পের ব্যয় ধরা হয় ৭৯৩ কোটি ৭২ লাখ টাকা। আরো ১৯৮ কোটি ৫৪ লাখ টাকা বাড়িয়ে এখন ৯৯২ কোটি ২৬ লাখ টাকা নির্ধারণ করা হয়।এর আগে শুক্রবার সন্ধ্যা ৬টায় পরিকল্পনা মন্ত্রী প্রথমে বন্দর কর্তৃপক্ষের রেস্ট হাউজ পারিজাতে এসে পৌঁছান। সেখানে তিনি ও তার পরিবারের সদস্যরা রাত্রিযাপন করেন। সেখানে বন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যানসহ অন্যান্য কর্মকর্তা-কর্মচারীরা তার সাথে সাক্ষাৎ করেন।
শনিবার সকাল সাড়ে ৮টার দিকে মোংলা বন্দর চ্যানেলের ইনার বারসহ বন্দরের চলমান বিভিন্ন প্রকল্প পরিদর্শন করেন। পরে বেলা সাড়ে ১১টায় তিনি সুন্দরবনের একমাত্র সরকারী বন্যপ্রাণী প্রজনন কেন্দ্র বনের করমজল ঘুরে দেখেন মন্ত্রী। এ সময় সুন্দরবনের সৌন্দার্য উপভোগ করেন। এছাড়া ঘুরে দেখেন সুন্দরী, বাইন, পশুরসহ বিভিন্ন গাছপালা। বন্যপ্রাণী প্রজনন কেন্দ্রে রক্ষিত মায়াবী চিত্র হরিণ, বানর, কুমিরসহ হরেক রকমের বন্যপ্রাণীর ও গহীন বনের নানা জাতের পাখির কিচির-মিচির ডাক শুনে মুগ্ধ হন পরিকল্পনা মন্ত্রীসহ তার পরিবারের সদস্যরা।
এ সময় মন্ত্রীর একান্ত সচিব, সহকারী একান্ত সচিব, বন্দরের ইনার বার ড্রেজিং প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক প্রকৌশলী শওকাত হোসেন, প্রধান নিরাপত্তা কর্মকর্তা কমান্ডার আব্দুলাহ আল মেহেদী এবং মন্ত্রীর ব্যক্তিগত ও বন্দরের কর্মকর্তারা ছাড়াও তার পরিবারের সদস্যরা সফর সঙ্গী হিসেবে উপস্থিত ছিলেন।
প্রকাশক ও সম্পাদক- আলি আবরার । নিরালা, খুলনা থেকে প্রকাশিত