
যশোর মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষাবোর্ডের অধীনে অনুষ্ঠিত ২০২৬ সালের এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় পাসের হারে শীর্ষস্থান অর্জন করেছে খুলনা জেলা। সোমবার (১০ আগস্ট) যশোর শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক প্রফেসর এস. এম. হোসেন আলী এক আনুষ্ঠানিক তথ্যের মাধ্যমে এই ফলাফল নিশ্চিত করেন। প্রকাশিত ফলাফল বিশ্লেষণে দেখা যায়, এ বছর খুলনা জেলা থেকে ৫৪টি কেন্দ্রের আওতাধীন ৩৯৩টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মোট ২০ হাজার ৭৩৯ জন পরীক্ষার্থী এই পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে। এর মধ্যে সফলভাবে পাস করেছে ১৪ হাজার ৪২১ জন শিক্ষার্থী। এই সাফল্যের ভিত্তিতে খুলনার পাসের হার দাঁড়িয়েছে ৬৯ দশমিক ৫৪ শতাংশ, যা যশোর বোর্ডের অন্তর্ভুক্ত জেলাগুলোর মধ্যে সর্বোচ্চ। বোর্ডে পাসের হার ও অবস্থানের দিক থেকে খুলনা জেলার পরেই দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে যশোর জেলা।
বোর্ডের অধীনে অন্যান্য জেলাগুলোর ফলাফলের পরিসংখ্যানে দেখা যায়, দ্বিতীয় অবস্থানে থাকা যশোর জেলায় ৫৩টি কেন্দ্রের আওতাধীন ৪৯৫টি প্রতিষ্ঠানের ২১ হাজার ৯০৯ জন পরীক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নিয়ে পাস করেছে ১৫ হাজার ১১৮ জন। এছাড়া বাগেরহাট জেলায় ২০ হাজার ৭৩৯ জন পরীক্ষার্থী অংশ নিয়ে ৭ হাজার ৭৫৭ জন পাস করেছে এবং এখানকার পাসের হার ৬৬ দশমিক ৩৭ শতাংশ। সাতক্ষীরা জেলায় ১৪ হাজার ২৪৬ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে পাস করেছে ৯ হাজার ৪৪৩ জন, যেখানে পাসের হার ৬৬ দশমিক ২৯ শতাংশ। কুষ্টিয়া জেলায় অংশ নেওয়া ১৯ হাজার ৯৮২ শিক্ষার্থীর মধ্যে কৃতকার্য হয়েছে ১২ হাজার ৫৬৯ জন এবং পাসের হার ৬২ দশমিক ৯০ শতাংশ। চুয়াডাঙ্গা জেলায় পরীক্ষার্থী ছিল ৮ হাজার ৫৯৪ জন, যার মধ্যে পাস করেছে ৫ হাজার ৯০৪ জন এবং পাসের হার ৬৮ দশমিক ৭০ শতাংশ। মেহেরপুর জেলায় অংশ নেওয়া ৬ হাজার ১২৫ শিক্ষার্থীর মধ্যে পাস করেছে ৩ হাজার ৯৩৫ জন, পাসের হার ৬৪ দশমিক ২৪ শতাংশ। নড়াইল জেলায় পরীক্ষা দিয়েছে ৬ হাজার ১৯৪ জন এবং পাস করেছে ৪ হাজার ৩৬ জন, পাসের হার ৬৫ দশমিক ১৬ শতাংশ। ঝিনাইদহ জেলায় ১৫ হাজার ৯৬৯ শিক্ষার্থীর মধ্যে পাস করেছে ১০ হাজার ৫৪ জন, পাসের হার ৬২ দশমিক ৯৬ শতাংশ। এবং মাগুরা জেলায় ৭ হাজার ৪৯৫ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে পাস করেছে ৪ হাজার ৮৬০ জন, যা পাসের হারে ৬৪ দশমিক ৮৪ শতাংশ।
ফলাহলের সার্বিক মূল্যায়ন সম্পর্কে যশোর শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক প্রফেসর এস. এম. হোসেন আলী জানান, মূলত ইংরেজি ও গণিত বিষয়ে তুলনামূলক খারাপ ফলাফলের কারণে সার্বিক পাসের হার কিছুটা কমেছে। তবে ফলাফলের প্রতিটি সূচকেই ছেলেদের তুলনায় মেয়েরা এগিয়ে রয়েছে এবং জিপিএ-৫ অর্জনের ক্ষেত্রেও নারী শিক্ষার্থীদের সংখ্যাই বেশি। তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, পরীক্ষার খাতা মূল্যায়নে সম্পূর্ণ নিরপেক্ষতা বজায় রাখা হয়েছে এবং কঠোরভাবে নির্ধারিত নিয়ম অনুসরণ করা হয়েছে। সংখ্যার আধিক্যের চেয়ে শিক্ষার গুণগত মান নিশ্চিত করাকেই বোর্ড সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিচ্ছে। ফল বিপর্যয় বা ফলাফল নিয়ে অসন্তুষ্ট শিক্ষার্থীদের জন্য খাতা পুনঃনিরীক্ষার সুযোগ রাখা হয়েছে এবং বোর্ডের নির্দেশনা অনুযায়ী মঙ্গলবার থেকে টেলিটক মোবাইল সংযোগের মাধ্যমে এই পুনঃনিরীক্ষার আবেদন গ্রহণ শুরু হবে।
১১ টি শিক্ষার প্রতিষ্ঠান থেকে পাশ করেনি কেউ
যশোর মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের অধীনে ২০২৬ সালের এসএসসি পরীক্ষার ফলে ১১টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের কোনো শিক্ষার্থীই পাস করতে পারেনি। এসব প্রতিষ্ঠানের পাসের হার নেমে এসেছে শূন্য শতাংশে।
যশোর শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রকের দপ্তর থেকে প্রকাশিত তালিকায় এ তথ্য জানা গেছে।
তালিকা বিশ্লেষণে দেখা যায়, শূন্য পাসের এই ১১টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে মোট ৩৫ জন শিক্ষার্থী এবারের এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নেয়। তবে ফল প্রকাশের পর দেখা যায়, তাদের কেউই কৃতকার্য হয়নি।
শূন্য পাসের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো হলো—সাতক্ষীরা নাইশা সেকেন্ডারি স্কুল, মণিরামপুরের হেলানচি কৃষ্ণবাটি সেকেন্ডারি গার্লস স্কুল, ডুমুরিয়ার কাটেঙ্গা সেকেন্ডারি স্কুল, শরণখোলার ডি. এন. একতা গার্লস হাইস্কুল, আশাশুনির গোদাড়া সেকেন্ডারি স্কুল, খালিশপুরের আসমা সরোয়ার ইসলামিক হাইস্কুল, মণিরামপুরের চাঁদুয়া সমস্কাটি গার্লস হাই স্কুল, শার্শার শরৎতলা জুনিয়র গার্লস হাইস্কুল, দেবহাটার বাবুরাবাদ ধাপুখালী সেকেন্ডারি স্কুল, শার্শার মুক্তিযোদ্ধা জি. কে. জি. এস. সেকেন্ডারি গার্লস স্কুল এবং শ্যামনগরের সাহেবখালী সিদ্দিক গাজী সেকেন্ডারি স্কুল।
প্রকাশক ও সম্পাদক- আলি আবরার । নিরালা, খুলনা থেকে প্রকাশিত