
খুলনা (১৩ মার্চ)
হাতে হাত রেখে সারাটি জীবন পাশাপাশি থাকার কথা ছিল। কথা ছিল মৃত্যুর পরও পাশাপাশি কবর হবে দুজনার। কিন্তু নিয়তি সেটি হতে দেয়নি। ‘রামপাল ট্রাজেডি’ মৃত্যুর পরও নবদম্পত্তিকে আলাদা করে দিল। নববধু মারজিয়া আক্তার মিতুর দাফন হলো খুলনার কয়রার নাকশা গ্রামে। আর স্বামী আহাদুর রহমান ছাব্বির চির নিদ্রায় শায়িত হলেন বাগরেহাটরে মোংলা উপজলোর শলোবুনয়িা গ্রামে।
গতকাল বৃহস্পতিবার বিকালে বাগেরহাটের রামপালে সড়ক দূর্ঘটনায় ১৪ জন নিহত হওয়ার পর পরিবারের আবেদনের প্রেক্ষিতে ময়নাতদন্ত ছাড়াই রাতে লাশ হস্তান্তর করা হয়। এর মধ্যে নববধু মিতুসহ তিনজনের লাশ কয়রার নাকশা গ্রামে নিয়ে যাওয়া হয়। আজ শুক্রবার সকালে সেখানেই তাদেরকে দাফন করা হয়। মিতুর নানী আনোয়ারা বেগমের লাশ তার গ্রামের বাড়িতে পাঠিয়ে দেওয়া হয়। অপরদিকে ছাব্বিরসহ অন্যান্যদের মরদেহ মোংলায় নিয়ে যাওয়া হয়। জুম্মার নামাজের পর সেখানেই দাফন করা হয়।
বাগেরহাটের রামপালে সড়ক দূর্ঘটনায় নিহত নববধূ খুলনার কয়রার নাকশা গ্রামের মারজিয়া আক্তার মিতু, বোন লামিয়া ও দাদি রাশিদা বেগমের জানাজা শেষে দাফন সম্পন্ন হয়েছে। আজ শুক্রবার সকাল সাড়ে ৯টায় নাকশা গ্রামের বাড়ির পাশে মাঠে জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। পরে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন সম্পন্ন হয়। মর্মান্তিক এ ঘটনায় গতকাল বৃহস্পতিবার থেকে নাকসা গ্রামে শোকের ছায়া নেমে আসে।
স্থানীয়রা জানায়, সালাম মোড়লের মা রাশিদা বেগম, মেয়ে নববধূ মিতু ও ছোট মেয়ে লামিয়ার মরদেহ গ্রামের বাড়ি নাকশায় আনার পর আজ সকালে তাদের জানাজার নামাজ শেষে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়। গ্রামে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। কনের নানি আনোয়ারা বেগমের মরদেহ তাদের গ্রামে দাফনের জন্য পাঠানো হয়েছে।
এদিকে এ রকম মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় ১৪ জন নিহত হওয়ার ঘটনা খুলনায় এই প্রথম। যেখানে উৎসবের আনন্দ থাকার কথা সেখানে শোকে স্তব্ধ মানুষ। মিতুর বাবা আব্দুস সালাম মাঝে মাঝে মূর্ছা যাচ্ছেন। এলাকার মানুষ কান্নায় ভেঙে পড়েছেন। তাদের জন্য মানুষ দোয়া করছেন।
জানা গেছে, গত বুধবার রাতে খুলনার কয়রা উপজেলার নাকসা গ্রামের বাসিন্দা আবদুস সালাম মোড়লের মেয়ে মার্জিয়া আক্তারের (মিতু) সঙ্গে বিয়ে হয় মোংলা পৌরসভার ৮নং ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি আবদুর রাজ্জাকের ছোট ছেলে আহাদুর রহমানের সাব্বিরের।
বিয়ের পর বর-কনেসহ দুই পরিবারের সদস্যরা মাইক্রোবাসে ফিরছিলেন। এরপর মাইক্রোবাসটি রামপাল উপজেলার বেলাইবিজ এলাকায় বিপরীত দিক দিয়ে আসা বাসের সঙ্গে মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে মাইক্রোবাসের চালকসহ ১৪ জন নিহত হন।
এদিকে মর্মান্তিক এই সড়ক দূর্ঘটনায় নিহতদের আত্মার শান্তি কামনা এবং ঘপনার সুষ্ঠু তদন্তের দাবি জানিয়েছেন খুলনা-৬ আসনের সংসদ সদস্য মাওলানা আবুল কালাম আজাদ।
প্রকাশক ও সম্পাদক- আলি আবরার । নিরালা, খুলনা থেকে প্রকাশিত