
রাশিয়ার বিভিন্ন প্রান্তে শত শত লক্ষ্যব্স্তুতে এক হাজারের বেশি ড্রোন ব্যবহার করে হামলা চালিয়েছে ইউক্রেন। যুদ্ধ শুরুর পর ইউক্রেনের অন্যতম এই বৃহৎ ড্রোন হামলায় রোববার সেন্ট পিটার্সবার্গের একটি তেল রপ্তানি টার্মিনালে ভয়াবগ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে।
এদিকে, রাশিয়ার তেল অবকাঠামোতে কিয়েভের হামলার কঠোর সমালোচনা করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ইউক্রেন ও ওয়াশিংটনের মাঝে ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মাঝে ওই হামলার ঘটনা ঘটেছে।
সেন্ট পিটার্সবার্গের স্থানীয় গভর্নর আলেকজান্ডার বেগলভ বলেছেন, ইউক্রেনের ড্রোন হামলায় একজন নিহত ও পাঁচজন আহত হয়েছেন। হামলায় পিটার্সবার্গ তেল টার্মিনাল এবং রুচি তেল ডিপোতে অগ্নিকাণ্ডের সৃষ্টি হয়েছে। রুশ খুচরা বিক্রেতা প্রতিষ্ঠান ওজনের লজিস্টিক সেন্টার এবং স্থানীয় প্রযুক্তি সংস্থা ভিকের একটি ডেটা সেন্টারকেও লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে বলে সংস্থা দুটি জানিয়েছে।
রোববার রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় বলেছে, ইউক্রেনের সামরিক বাহিনী রাশিয়ার ১৫টি অঞ্চলসহ দখলকৃত ক্রিমিয়া উপদ্বীপ এবং কৃষ্ণসাগরের ওপর ১ হাজার ১৫টি ইউক্রেনীয় ড্রোন ধ্বংস করেছে।
ক্রেমলিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেশকভ রুশ রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা তাসকে বলেছেন, কিয়েভের আগ্রাসন প্রতিরোধ করছে মস্কো। কিন্তু চলমান যুদ্ধের বর্তমান গতিপথ পরিবর্তন করতে পারবে না ইউক্রেন।
এদিকে, রাশিয়ার দক্ষিণাঞ্চলীয় ইউক্রেনীয় শহর জাপোরিঝিয়ায় জোড়া হামলায় এক নারী নিহত এবং ৬ বছরের এক শিশুসহ অন্তত দুজন আহত হয়েছেন বলে স্থানীয় কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।
জাপোরিঝিয়ার আঞ্চলিক সামরিক প্রশাসনের প্রধান মাইখাইলো সেমিকিন বলেন, এই হামলায় দুটি আবাসিক ভবন, ১৮টি গাড়ি এবং একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প গত ১১ অক্টোবর বলেছিলেন, সাড়ে চার বছরের পুরোনো এই যুদ্ধে একটি জ্বালানি যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়েছে রাশিয়া ও ইউক্রেন। তবে এ বিষয়ে বিস্তারিত কোনও তথ্য জানাননি তিনি। ট্রাম্পের এই ঘোষণার পর মস্কোর জ্বালানি কেন্দ্রগুলোতে কিয়েভ হামলা বাড়িয়েছে বলে জানিয়েছে রাশিয়া।
তিন দিন বন্ধ রাখার পর গত বৃহস্পতিবার রাশিয়ার তেলের ওপর পুনরায় হামলা শুরুর তথ্য নিশ্চিত করে ইউক্রেন।
উভয় পক্ষকে হামলা বন্ধ করার জন্য ট্রাম্প আহ্বান জানালেও তার তোয়াক্কা না করে রোববার রাশিয়ায় সহস্রাধিক ড্রোনের হামলা চালিয়েছে কিয়েভ। যদিও ইউক্রেনের জ্বালানি অবকাঠামোতে রাশিয়ার ধারাবাহিক বিমান হামলার ঘটনায় তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছিলেন জেলেনস্কি।
রোববার এক্সে দেওয়া এক পোস্টে জেলেনস্কি বলেন, ট্রাম্পের জ্বালানি যুদ্ধবিরতির ঘোষণার পর এক সপ্তাহের মধ্যে রাশিয়া ইউক্রেনের জ্বালানি, তেল ও গ্যাস খাতে ৭৬ বার হামলা চালিয়েছে।
তিনি বলেন, শুধু গত রাতেই ইউক্রেনের চারটি অঞ্চলের জ্বালানি স্থাপনায় হামলা চালানো হয়েছে এবং এখনও হাজার হাজার পরিবার বিদ্যুৎহীন অবস্থায় রয়েছে। রাশিয়ার বিরুদ্ধে ইউক্রেনে ব্ল্যাকআউট তৈরির চেষ্টা করার অভিযোগ করেছেন তিনি।
জেলেনস্কি লেখেন, ‘‘আমেরিকার দেখা উচিত, নিষেধাজ্ঞা শিথিল বা চুক্তির জবাবে রাশিয়া কোনো পারস্পরিক পদক্ষেপ নিচ্ছে না। বরং অর্থ উপার্জনের সুযোগের প্রতিটি সংকেতকে মস্কো প্রমাণ হিসেবে গ্রহণ করেছে যে, যুদ্ধের ওপর তাদের বাজি কাজে দিচ্ছে এবং তারা যুদ্ধ চালিয়ে যেতে পারে।
তিনি বলেন, ইউক্রেন আত্মরক্ষা করছে বলেই যুদ্ধ চলছে না। রাশিয়ার হামলার কারণেই যুদ্ধ চলছে। শান্তির সুযোগ তৈরি করতে হলে রাশিয়াকেই চাপের মুখোমুখি হতে হবে। যারা এটি বোঝেন এবং সাহায্য করেন তাদের সবাইকে ধন্যবাদ।
যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় স্বার্থের কথা উল্লেখ করে শুক্রবার রাতে ট্রাম্প পরিকল্পিত বিধিনিষেধ মওকুফের নির্বাহী আদেশে স্বাক্ষর করা সত্ত্বেও শনিবার সাংবাদিকদের বলেছেন, রাশিয়া সম্পর্কিত পরবর্তী নিষেধাজ্ঞার বিষয়ে তার সিদ্ধান্ত কী হবে তা সাধারণ মানুষ এখনও জানেন না।
ফ্লোরিডায় নিজ প্রাসাদে আয়োজিত এক নৈশভোজে ট্রাম্প বলেন, আমরা বিষয়টি অনুধাবন করব, আর আপনারাও জেনে যাবেন। তবে এটি খুব ভালো সিদ্ধান্ত হতে যাচ্ছে এবং এমন সিদ্ধান্ত হবে যা দেশের জন্য ভালো এবং আমি মনে করি বিশ্ববাসীর জন্যও ভালো হবে।
প্রকাশক ও সম্পাদক- আলি আবরার । নিরালা, খুলনা থেকে প্রকাশিত