রাষ্ট্রপতি পদ লাভজনক বলে যারা বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে তাদের ধারণা অবান্তর ও অমূলক বলে মন্তব্য করেছেন রাষ্ট্রের প্রধান আইন কর্মকর্তা অ্যাটর্নি জেনারেল আবু মোহাম্মদ (এএম) আমিন উদ্দিন। রাষ্ট্রপতি লাভজনক কোনো পদ নয় বলেও জানান রাষ্ট্রের প্রধান এই আইন কর্মকর্তা ।
বুধবার (১৫ ফেব্রুয়ারি) দুপুর পৌনে ২টায় অ্যাটর্নি জেনারেল তার নিজ কার্যালয়ে এ কথা বলেন।
অ্যাটর্নি জেনারেল বলেন, রাষ্ট্রপতি কোনোভাবেই সরকারের কর্মে নিয়োজিত কোনো ব্যক্তি নন। এটা নিয়ে প্রশ্ন তোলা উচিত নয়। প্রশ্নটাই ‘অবান্তর’ বলে মন্তব্য করেন তিনি।
সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে রাষ্ট্রের প্রধান এ আইন কর্মকর্তা বলেন, যারা প্রশ্ন তুলেছেন তারা দুদক আইনের যে কথা বলছেন সেখানে (আইনে) কিন্তু স্পষ্ট করে লেখা আছে তিনি প্রজাতন্ত্রের কোনো লাভজনক পদে পরবর্তীতে অধিষ্ঠিত হওয়ার যোগ্য হবেন না। এখানে কিন্তু রাষ্ট্রপতি নির্বাচন সম্পর্কে কোনো বিধিনিষেধ নেই।’
আর সংবিধানের ৪৮ অনুচ্ছেদে রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হওয়ার অযোগ্যতার যে তিনটি ক্রাইটেরিয়া আছে তা হলো-পঁয়ত্রিশ বছরের কম বয়স্ক হলে, সংসদ-সদস্য নির্বাচিত হওয়ার যোগ্য না হলে এবং কখনো এ সংবিধানের অধীন অভিশংসন দ্বারা রাষ্ট্রপতির পদ থেকে অপসারিত হয়ে থাকলে।
এছাড়া সংবিধানের ৬৬ অনুচ্ছেদেও বলা নেই যে এটা লাভজনক পদ। আর সংবিধানের ১৪৭ অনুচ্ছেদে যে পদগুলো লাভজনক পদ হবে না বলা হয়েছে, সেখানে রাষ্ট্রপতির পদের বিষয়টি রয়েছে।
অ্যাটর্নি জেনারেল আরও বলেন, হাইকোর্টের এ সংক্রান্ত রায়ে স্পষ্ট করে বলা আছে প্রজাতন্ত্রের লাভজনক পদ কোনটা। সে রায়ের আলোকে বলতে পারি একদম সম্পূর্ণভাবে তিনি বৈধ এবং এটাতে কোনো প্রশ্ন করা উচিত না। এ প্রশ্নটাই অবান্তর। রাষ্ট্রপতি কোনোভাবেই সরকারের কর্মে নিয়োজিত কোনো ব্যক্তি নন।
গত ১২ ফেব্রুয়ারি সকালে আওয়ামী লীগ দেশের ২২তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে প্রার্থী হিসেবে মো. সাহাবুদ্দিনকে মনোনয়ন দেয়। এ পদে একক প্রার্থী হওয়ায় ১৩ ফেব্রুয়ারি তাকে পরবর্তী রাষ্ট্রপতি হিসেবে ঘোষণা করে নির্বাচন কমিশন।
বর্তমান রাষ্ট্রপতি মো.আবদুল হামিদের মেয়াদ শেষ হচ্ছে আগামী ২৪ এপ্রিল।
মো. সাহাবুদ্দিন এর আগে ছিলেন দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) কমিশনার। আইন অনুযায়ী, দুদক কমিশনাররা কোনো ধরনের লাভজনক পদে অধিষ্ঠিত হতে পারেন না। তিনি রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হওয়ার পর এ নিয়ে বিতর্ক উঠেছে।
প্রকাশক ও সম্পাদক- আলি আবরার । নিরালা, খুলনা থেকে প্রকাশিত