সারাবছর যাত্রী সংকটে ভাড়া কমিয়েও ব্যবসা চালানো কঠিন হয়ে পড়েছে লঞ্চ মালিকদের। আশায় ছিলেন ঈদে ভরপুর যাত্রী পাবেন। কিন্তু ঈদের আগের যে কয়দিন চাপ থাকার কথা তখন আশানুরূপ যাত্রীর দেখা মেলেনি। বৃহস্পতিবার (২০এপ্রিল) সকাল থেকে দুপুর অবধিও সদরঘাট টার্মিনালে ছিল না ঈদের আগের চিরচেনা ভিড়। তবে দুপুর গড়িয়ে বিকেল হতে চাপ বাড়ে যাত্রীদের। সন্ধ্যার পর অনেকটা পুরানো চেহারায় রূপ নেয় এই নৌ বন্দর।
যদিও দিনের বেলায় বেশিরভাগ রুটের লঞ্চ ঘাট ছেড়ে গিয়েছে। তবে বরিশালে চলা সবগুলো লঞ্চই রাতে ছাড়ার কারণে বিকেলের দিকে বেশি যাত্রী বরিশালের জন্য ঘাটে গিয়েছেন।
এছাড়াও চাঁদপুরে মধ্যরাত পর্যন্ত লঞ্চ পাওয়া যায়। ভোলাসহ আরও কিছু রুটে রাতেও লঞ্চ থাকে। ফলে সেসব দিকেরও যাত্রীরাও তীব্র গরম ও আর ঘাট অভিমুখে যানজট অতিক্রম করে সদরঘাটে পৌঁছেছেন।
এরআগে বিকেলে ছেড়ে যাওয়া লঞ্চে যাত্রী চাপ বেশি ছিল পটুয়াখালী, বগা, ইলিশা, হাতিয়া, চরফ্যাশন রুটের লঞ্চে।
তবে অন্য সময়ের চেয়ে বরিশাল রুটে চলা বিলাসবহুল লঞ্চ বাড়ানোর কারণে অনেকটা আরামদায়কভাবে বাড়ি ফেরার প্রত্যাশা করছেন যাত্রীরা।
এদিকে দিনভর মোটামুটি চাপ কম থাকলেও বিকেলের দিকে সদরঘাট লঞ্চ টার্মিনাল ও এর আশপাশের এলাকায় সিএনজি চালিত অটোরিকশা, রিকশা ও প্রাইভেটকারের কারণে প্রচণ্ড যানজট সৃষ্টি হয়। ঘরমুখো যাত্রীদের ব্যাগ-বস্তা হাতে নিয়ে ঘাটে পৌঁছেছেন।
লঞ্চ স্টাফ ও কর্মকর্তারা বলছেন, বিগত ঈদের মতো এবারও লঞ্চে কেবিনের চাহিদা বেশি। তবে অনেকে লঞ্চ ছাড়ার অনেকটা আগে ঘাটে আসলেও পাচ্ছেন না কেবিন। বাধ্য হয়েই অনেককে ঈদ যাত্রায় ডেকে বসে যাতে হচ্ছে।
যাত্রীদের চাপ বাড়ায় লঞ্চ কেবিনগুলোর ভাড়া স্বাভাবিকের চেয়ে কিছুটা বাড়ানো হয়েছে বলেও অভিযোগ আছে। বিশেষ করে বরিশাল রুটের লঞ্চে আগের তুলনায় কেবিন ভাড়া বাড়ানোর কথা জানা গেছে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে বিআইডব্লিউটিএর চেয়ারম্যান কমডোর আরিফ আহমেদ মোস্তফা বলেন, আমরা যতটুকু শুনেছি পদ্মা সেতু চালুর পর যাত্রী কম থাকায় লঞ্চ মালিকরা নির্ধারিত ভাড়ার চেয়ে কম ভাড়া নিতেন। ঈদের সময় তারা নির্ধারিত ভাড়া নেওয়ায় এটি নিয়ে একটা ভুল বোঝাবুঝির সৃষ্টি হয়েছে। তারপরও যদি বাড়তে ভাড়া নেওয়ার অভিযোগ পাওয়া যায় অবশ্যই আমরা ব্যবস্থা নেব। কোনোভাবে বাড়তি ভাড়া নেওয়া যাবে না।
পারাবত-১৩ লঞ্চের পরিচালক শাহিন হোসেন বলেন, আমাদের টিকিটের মূল্যবৃদ্ধির কোনো নির্দেশনা এখনও দেওয়া হয়নি। তাই আমরা নির্ধারিত ভাড়াই নিচ্ছি, পূর্বের ভাড়াই বহাল রেখেছি।
বরিশাল রুটে চলা মানামি লঞ্চের সুপারভাইজার শুভ বলেন, আমাদের লঞ্চের কেবিনের যাত্রী ফুলফিল আছে। ডেকে ঈদের সময় যে পরিমাণ যাত্রী আমরা পেতাম তা নেই। পদ্মা সেতু চালুর পর থেকেই একই অবস্থা চলছে।
এদিকে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ-চলাচল যাত্রী পরিবহন সংস্থার মহাসচিব সিদ্দিকুর রহমান পাটোয়ারী জানিয়েছেন, বরিশাল ও পটুয়াখালী রুটে ৮টি করে লঞ্চ ও অন্যান্য রুটগুলোতে কমপক্ষে ২-৩টি করে লঞ্চ যাবে। যাত্রী চাপ আছে, তবে আশানুরূপ নয়। অন্যান্য সময়ের তুলনায় চার ভাগের এক ভাগ।
বাড়তি ভাড়া বা কেবিনের টিকিট কালোবাজারি নিয়ে তিনি বলেন, অভিযোগ পেলে আমরা অবশ্যই ব্যবস্থা নেব। তবে আমাদের কাছে এখনও কোনো অভিযোগ আসেনি।
আর বিআইডব্লিউটিএ সদরঘাটের নৌ-নিরাপত্তা ও ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা বিভাগের যুগ্ম পরিচালক মো. কবীর হোসেন বলেন, যাত্রী চাপ সামাল দিতে আমরা প্রস্তুত। কোনো ধরনের হয়রানি করা যাবে না। ভ্রাম্যমাণ আদালত ও ম্যাজিস্ট্রেট সার্বক্ষণিক টার্মিনাল মনিটরিং করছেন। আশা করি শেষ পর্যন্ত শান্তিপূর্ণভাবে ঈদযাত্রা শেষ হবে।
এদিকে সদরঘাটে যাত্রীদের নিরাপত্তা ও ঈদযাত্রা স্বস্তির করতে পুলিশ, র্যাব ও আনসার সদস্যরা কাজ করছেন। সন্দেহজনক কিছু দেখলে তল্লাশিও চালানো হচ্ছে। টার্মিনালে ঢাকা মহানগর পুলিশ ও নৌ পুলিশের পক্ষ থেকে আলাদা মনিটরিং কক্ষ করা হয়েছে। যেখানে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা সার্বক্ষণিক মনিটরিংয়ের কাজ করছেন।
প্রকাশক ও সম্পাদক- আলি আবরার । নিরালা, খুলনা থেকে প্রকাশিত