
বিজ্ঞপ্তি
প রে চলে আসা বৈষম্যের অবসান এবং ন্যায্য অধিকার প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে দেশের মাধ্যমিক শিক্ষাব্যবস্থাকে গতিশীল করতে সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়সমূহে কর্মরত শিক্ষকদের ৭ দফা দাবি দ্রুত বাস্তবায়নের দাবি জানানো হয়েছে। ‘স্বতন্ত্র মাধ্যমিক শিক্ষা অধিদপ্তর বাস্তবায়ন জাতীয় কমিটি, বাংলাদেশ’-এর পক্ষে গণমাধ্যমে পাঠানো এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জনাব তারেক রহমানের সুদৃষ্টি কামনা করেছেন সংগঠনের মুখপাত্র ও সরকারি করোনেশন মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়ের (খুলনা) সহকারী শিক্ষক মোঃ ওমর ফারুক।বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, স্বাধীনতার পর থেকেই সরকারি মাধ্যমিক সেক্টরের শিক্ষকদের সঙ্গে বিমাতাসুলভ আচরণ ও বৈষম্য করা হচ্ছে। দেশের এই ভঙ্গুরপ্রায় মাধ্যমিক শিক্ষা ও শিক্ষকদের সামগ্রিক কল্যাণ এবং শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ বিবেচনায় অন্তর্বর্তীকালীন ও শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জরুরি ভিত্তিতে এই ৭ দফা বাস্তবায়নের নির্দেশ প্রদানের জন্য প্রধানমন্ত্রীর প্রতি জোর দাবি জানানো হয়েছে।সরকারি মাধ্যমিক শিক্ষকদের ৭ দফা দাবিগুলো হলো:১. পৃথক মাধ্যমিক শিক্ষা অধিদপ্তর প্রতিষ্ঠা: জাতীয় শিক্ষা কমিশন-২০০৩, জাতীয় শিক্ষা নীতি ২০১০ এবং শিক্ষা সংস্কার কমিশনের সুপারিশের আলোকে মাধ্যমিক শিক্ষার সামগ্রিক উন্নয়নে অনতিবিলম্বে "পৃথক মাধ্যমিক শিক্ষা অধিদপ্তর"-এর গেজেট প্রকাশ ও বাস্তবায়ন।২. এন্ট্রি পদ নবম গ্রেডে উন্নীতকরণ ও পদসোপান প্রণয়ন: সরকারি কলেজের ন্যায় চার থেকে ছয় স্তর বিশিষ্ট যৌক্তিক একাডেমিক পদসোপান (ক্যারিয়ার পাথ) প্রণয়ন এবং সহকারী শিক্ষকের এন্ট্রি পদটিকে নবম গ্রেডে উন্নীত করা।৩. বকেয়া টাইমস্কেল ও সিলেকশন গ্রেড প্রদান: সর্বোচ্চ আদালতের রায়ের আলোকে ২০১৫ সালের পে-স্কেলের পূর্বের প্রাপ্য বকেয়া টাইমস্কেল ও সিলেকশন গ্রেডের ন্যায্য পাওনা পরিশোধের প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ।৪. শূন্য পদে নিয়োগ ও পদোন্নতি নিশ্চিতকরণ: বিদ্যালয় ও পরিদর্শন শাখার প্রায় ৫০-৫৫ শতাংশ শূন্য পদে দ্রুত নিয়োগ এবং বিধি অনুযায়ী ৭ বছর পূর্ণ হওয়া সহকারী শিক্ষকদের সিনিয়র শিক্ষক পদে পদোন্নতি প্রদান। বিসিএস রিক্রুটমেন্ট রুলস-১৯৮১ এর প্রয়োজনীয় সংশোধনসহ প্রশাসনিক পদগুলোতে অভিজ্ঞ শিক্ষকদের পদায়ন।৫. বাস্তবায়নযোগ্য বদলি নীতিমালা প্রণয়ন: শিক্ষকদের হয়রানিমূলক বদলি অবিলম্বে বন্ধ করে একটি সুসামঞ্জস্যপূর্ণ ও বাস্তবায়নযোগ্য বদলি নীতিমালা প্রণয়ন ও তার যথাযথ প্রয়োগ।৬. আঞ্চলিক উপপরিচালকদের আর্থিক ক্ষমতা পুনর্বহাল: আঞ্চলিক শিক্ষা অফিসের উপপরিচালকদের কেড়ে নেওয়া আর্থিক ক্ষমতা ফিরিয়ে দেওয়া এবং আঞ্চলিক অফিসে মাধ্যমিক শিক্ষা প্রশাসনের স্বাতন্ত্র্য ও স্বকীয়তা রক্ষা করা।৭. উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার পদে প্রেষণ প্রথা বাতিল: উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার পদে বিধি মোতাবেক সরকারি মাধ্যমিকের সিনিয়র শিক্ষকদের ৫০ শতাংশ পদায়ন নিশ্চিত করা। কলেজের শিক্ষকদের প্রেষণে ৪০ শতাংশ পদায়নের অযৌক্তিক প্রস্তাব বাতিল করে সহকারী উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার পদে যোগ্য ও দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞ কর্মকর্তাদের পদোন্নতির মাধ্যমে পদায়ন করা।শিক্ষক সমাজ আশা প্রকাশ করেছে যে, শিক্ষাবান্ধব সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী এই দীর্ঘদিনের বৈষম্য ও বঞ্চনা নিরসনে দ্রুত কার্যকরী পদক্ষেপ গ্রহণ করবেন।
প্রকাশক ও সম্পাদক- আলি আবরার । নিরালা, খুলনা থেকে প্রকাশিত