রাজশাহী সিটি কর্পোরেশন, আরডিএ ও সংশ্লিষ্ট অন্যান্য উন্নয়ন সহযোগী সংস্থার সঙ্গে আলাপ করে জায়গা চিহ্নিত করে সাংবাদিকদের আবাসনের জন্য বহুতল ভবন নির্মাণ পরিকল্পনা গ্রহণ করা হবে বলে জানিয়েছেন আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য ও রাসিক মেয়র এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটন।
বুধবার (১০ মে) দুপুরে রাসিক ভবনের অ্যানেক্স হলরুমে রাজশাহী নগরীতে কর্মরত সাংবাদিকদের সঙ্গে শুভেচ্ছা ও মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে মেয়র এসব বলেন।
খায়রুজ্জামান লিটন বলেন, ২০১৯ সালে প্রায় তিন হাজার কোটি টাকার রাজশাহী মহানগরীর সমন্বিত নগর অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্প অনুমোদন দেন প্রধানমন্ত্রী। প্রকল্পে সরকারি বরাদ্দ প্রায় ২৭০০ কোটি টাকা। করোনার কারণে দেড় বছর আমরা কোনো কাজ করতে পারিনি। সে সময় মানুষকে বাঁচাতে কাজ করতে হয়েছে।
এরপর রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ এবং যুদ্ধের প্রভাবে ডলার দাম বৃদ্ধি, নির্মাণ সামগ্রীর দাম বৃদ্ধি পাওয়া সহ সারাবিশ্বে নাভিশ্বাস এক অবস্থা দেখা দেয়। যার কারণে রাজশাহীতেও উন্নয়ন ব্যাহত হয়েছে। উক্ত প্রকল্পের মাত্র ১২০০ কোটি টাকা ব্যয় করতে পেরেছি। যার উন্নয়ন আপনাদের সামনে দৃশ্যমান। প্রকল্পের আরও ১৫০০ কোটি টাকা বরাদ্দ রয়েছে। নির্বাচিত হলে প্রধানমন্ত্রীকে অনুরোধ জানিয়ে আরও মোটা অঙ্কের অর্থ বরাদ্দ নিয়ে আসতে চান রাসিক মেয়র।
আসন্ন রাসিক নির্বাচনের নৌকা প্রতীকের প্রার্থী বলেন, রাজশাহীকে যানজট মুক্ত শহর হিসেবে গড়ে তুলতে পাঁচটি ফ্লাইওভার নির্মাণ করা হবে। দুইটির টেন্ডার ইতোমধ্যে হয়ে গেছে, আরও তিনটি প্রক্রিয়াধীন। এগুলোর কাজ নির্বাচনের পর শুরু হবে। রাজশাহী সিটি কর্পোরেশনের উন্নয়নে মাস্টারপ্ল্যান করতে চাই। এটি বুয়েটের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক থাইল্যান্ড বা সিঙ্গাপুরের কোন কোম্পানির সঙ্গে চুক্তি করে কাজটি করা হবে।
নগরীর আয়তন বৃদ্ধির প্রসঙ্গে মেয়র লিটন বলেন, রাজশাহী সিটি এলাকা ৯৬ বর্গ কি.মি. থেকে বাড়িয়ে প্রায় ৩৫০ বর্গ কি.মি থেকে ৪০০ বর্গ কি.মি করতে চাই। সম্প্রসারিত এলাকার কৃষি জমি নষ্ট না করে প্রশস্ত ড্রেন, রাস্তা সহ নাগরিক সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করতে চাই।
পদ্মার চরে রিভার সিটি নির্মাণের পরিকল্পনা করছি। বিষয়টি মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকে অবহিত করেছি। আগামী জাতীয় নির্বাচনের পরে এই কাজটি এগিয়ে নেওয়া হবে। সেটা একটা দেখার মতো পরিবেশ হবে। সেটি বিদেশী পর্যটকদেরও রাজশাহীতে আসতে আগ্রহী করবে বলে মনে করেন মেয়র প্রার্থী।
আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য লিটন বলেন, আওয়ামী লীগ সভাপতি ও মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আমাকে আবারও মেয়র পদে দলীয় মনোনয়ন দিয়েছেন। ইতোমধ্যে নির্বাচন কমিশন অফিস থেকে মনোনয়নপত্র উত্তোলন করেছি। আগামী ২১ মে মনোনয়নপত্র দাখিল করব। এরপরে ২ জুন প্রতীক বরাদ্দের পর আনুষ্ঠানিক প্রচার-প্রচারণা শুরু করব।
বিএনপির প্রসঙ্গ টেনে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী বলেন, বিএনপি ও তাদের সঙ্গে যে ছোট দলগুলো রয়েছে, তারা বলছে, ‘তারা নির্বাচনে অংশ নিবে না।’ নির্বাচন করবে কি করবে না, সেটি তাদের দলীয় বিষয়। কিন্তু এরপরে যেটি তারা বলছে, ‘নির্বাচন হতে দেবে না।’ এটি অগণতান্ত্রিক, সংবিধানবিরোধী ও স্বেচ্ছাচারী একটা বক্তব্য।
নির্বাচন বর্জন করে আবার যদি তারা ২০১৪/২০১৫ সালের মতো ধ্বংসাত্মক কর্মকাণ্ড করে, মানুষকে পুড়িয়ে হত্যা করে তাহলে জনগণ তার সুমচিত জবাব দেবে। কারণ সবাই এখন উন্নয়ন চায়। দেশের মানুষের আর্থসামাজিক অবস্থার উন্নীত হয়েছে। মাথাপিছু আয় বেড়েছে। আগামী ২০৩০ সালের মধ্যে বাংলাদেশ মধ্যম আয়ের দেশে পরিণত হবে বলেও আশাবাদী রাসিক মেয়র।
রাজশাহী মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি (ভারপ্রাপ্ত) বীর মুক্তিযোদ্ধা মোহাম্মদ আলী কামালের সভাপতিত্বে সভায় আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য বেগম আখতার জাহান ও রাজশাহী মহানগর আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আহসানুল হক পিন্টু বক্তব্য রাখেন।
অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন রাসিকের জনসংযোগ কর্মকর্তা মোস্তাফিজ মিশু। এসময় রাজশাহীতে কর্মরত প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
প্রকাশক ও সম্পাদক- আলি আবরার । নিরালা, খুলনা থেকে প্রকাশিত