একুশে ফেব্রুয়ারি রাত ১২ টা বেজে ১৫ মিনিটে ফেসবুকে সাংবাদিকদের মুক্ত মতামত এর একটি গ্রুপ প্লাটফ্রম মিডিয়াওয়াচ এ বাদল সাহা নামে একজন পেশাদার সাংবাদিক একটি স্ট্যাটাস পোস্ট করেন। তিনি সেখানে তার মানবেতর জীবনযাপন ও হতাশার কথা বলেছেন এবং অভিযোগ তুলেছেন স্যাটেলাইট টেলিভিশন এসএ টিভির দিকে। তিনি উল্লেখ করেছেন দীর্ঘ ১৩ মাস এসএ টিভি তার বেতন বন্ধ করে রেখেছে এবং বিভিন্ন সময় প্রতিশ্রুতি দিয়েও প্রতিষ্ঠানটি তার বেতন দেয়নি।
তার ব্যক্তিগত ফেসবুকের ওয়ালে থেকে স্ট্যাটাসটি তুলে ধরা হল
আমি বাদল সাহা। আমি বর্তমানে এসএ টিভিতে গোপালগঞ্জ জেলা প্রতিনিধি হিসাবে কর্মরত রয়েছি। কিন্তু দীর্ঘ ১৩ মাস ধরে বেতন বন্ধ করে রেখেছে এসএ টিভি কর্তৃপক্ষ। দীর্ঘ ১৩ মাস বেতন না পাওয়ায় মানবেতর জীবন যাবন করতে হচ্ছে। বাসা ভাড়া, ইন্টারনেট বিল, নিউজ কভার করতে গিয়ে যাতায়েত বিল পরিশোধ করতে ইতিমধ্যে বন্ধু-বান্ধব ও পরিজনদের কাছ থেকে টাকা ধার করায় দেনায় জর্জরিত হয়ে পরেছি। ইতিমধ্যে দুই মাসের বাসা ভাড়া, ৪ মাসের ইন্টারনেট বিল বকেয়া পড়াসহ গত ১৩ মাসে প্রায় লক্ষাধিক টাকার মত দেনা হয়ে পড়েছি। গত চার মাস ধরে এসএ টিভি কর্তৃপক্ষের কাছে বেতন পাবার বিষয়ে বললে প্রতি উত্তরে এই হবে, কয়েক দিনের মধ্যে হবে, পুরো ১ বছরের বিল পাবেন, এই চার মাসের বিল পাবেন বলে বলে জানানো হয়। কিন্তু আমরা আর বেতনের মুখ দেখতে পাই না আর আলোর মুখ ও দেখতে পাই না।বেতনের বিষয়ে কথা বলায়, এসএ টিভির গ্রুপে লেখায়, নিজের ফেসবুকে লেখায় আমার পাঠানো নিউজ অন এয়ার করা হবে না বলে জানানো হয়।আমরা যারা মানুষের অধিকার নিয়ে লিখি আজ আমরাই অধিকারহীন, বেতনহীন হয়ে মানবেতর জীবন যাপন করছি। সৎভাবে সাংবাদিকতা করায় আমার পক্ষে টাউটারি, বাটপারি আর দালালী করে অর্থ ইনকাম করা সম্ভব নয়। আমি আমার সমুদয় বকেয়া বিল পরিশোধ করে অব্যাহতি দেয়ার কথাও বলেছি। কিন্তু কোনভাবে কোন কিছু হচ্ছে না। এভাবে চলতে থাকলে আর্থিক অভাবের কারনে আত্মহত্যা করার ছাড়া আমাদের আর উপায় থাকবে না।এই এসটিভি কর্তৃপক্ষ দু’টি নিয়োগ পত্র দিয়েছে। প্রথমটিতে বেসিক বেতনসহ অন্যান্য বিল ধরা হয়েছিল। কিন্তু পরে অবস্থা পরিবর্তিত হয়ে মাহামুদ আল ফয়সাল এসএ টিভির প্রধান বার্তা সম্পাদক হবার পর আমাদের অধিকার খর্ব করে বেসিক বেতন বাদ দেওয়া ছাড়াও প্যাকেজ বিল কমানো হয়। কিন্তু এতেও আমরা নিষ্ঠার সাথে কাজ করে যাচ্ছিলাম। কিন্তু এখন বেতন বললেও ভুল হবে বিলগুলো দেয়া হচ্ছে না আমদের।তাই সাংবাদিক নেতা বা অভিভাবক যাই বলি না কেন আপনাদের সহযোগীতা চাই। যাতে অন্তত শ্রমিকের মুজুরিটা সম্মানের সাথে পেতে পারি।

বাদল সাহা বর্তমানে গোপালগঞ্জ টিভি জার্নালিস্ট অ্যাসোসিয়েশনের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন
বিস্তারিত আসছে….
পি এস/এন আই
প্রকাশক ও সম্পাদক- আলি আবরার । নিরালা, খুলনা থেকে প্রকাশিত