
খুলনা(০১ অক্টোবর)
ছাত্রদলের নেতা থাকাকালে ২০১০ সালে রায়হান বিন কামালকে কুপিয়ে জখম করা হয়। এঘটনার ১৪ বছর পর ২০২৪ সালে তিনি মামলা দাযের করেন। এর দুই বছর পর চলতি ২০২৬ সালে মামলার ফাইনাল রিপোর্ট দাখিল করে তদন্ত কর্মকর্তা। ফলে এ তদন্ত রিপোর্ট বাতিল করে সিআইডি অথবা পিবিআইয়েকে পুনঃতদন্ত প্রদানের দাবি জানিয়েছেন সাবেক এই ছাত্রদল নেতা।
সাবেক ছাত্রদল নেতা ও বর্তমান স্বেচ্ছাসেবক দল খুলনা সদর থানার সদস্য সচিব রায়হান বিন কামাল আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে খুলনা প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন এ দাবি জানান।
তার চারটি দাবির মধ্যে রয়েছে- মামলার প্রধান আসামী সাবেক ছাত্রলীগ নেতা বি. এম. মহিমকে স্থায়ীভাবে রাষ্ট্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা এনএসআই থেকে অপসারণ, সোনাডাঙ্গা থানা পুলিশ কর্তৃক দাখিলকৃত পক্ষপাতমূলক ও মিথ্যা ‘ফাইনাল রিপোর্ট’ অবিলম্বে বাতিল করা, মামলাটির নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু তদন্তের জন্য দ্রুত সিআইডি/ পিবিআই-তে হস্তান্তর করা, বি. এম. মহিম, সবুজ হাজরা, সাদী, বাপ্পি, রেজা সহ জড়িত সকল চিহ্নিত ক্যাডারকে দ্রুত গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা এবং মামলার চার্জশিট প্রদানকারী তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই ইমরান হোসেনকে বরখাস্ত এবং তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণ।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন, ২০১০ সালের ৮ মার্চ বাবা গুরুতর অসুস্থ থাকায় চিকিৎসার জন্য নগরীর পিটিআই মোড় অগ্রনী ব্যাংক থেকে ৫০ হাজার টাকা উত্তোলন করে বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা হন। সোনাডাঙ্গা থানার সঙ্গীতা সিনেমার মোড়ে পৌছালে সিটি কলেজের ছাত্রলীগের ভিপি প্রার্থী বিএম মহিমের নেতৃত্বে ১৪-১৫টি মোটরসাইকেলে আসা দুর্বৃত্তরা তাকে ঘিরে ফেলে। অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে শেখপাড়ার বিভিন্নস্থান ঘুরিয়ে তাকে ফারাজীপাড়া সাবেক স্পীকার রাজ্জাক আলীর বাড়ির গলিতে নিয়ে যায়। সেখানে আগে থেকে থাকা দুর্বৃত্ত সাদী তার কাছে থাকা মোবাইল ও বাবার চিকিৎসার জন্য ৫০ হাজার টাকা ছিনিয়ে নেয়। বাঁধা দিলে তাকে ছুরি দিয়ে আঘাত করা হয়। এখানে নির্যাতনের মাত্র শেষ হয়নি।
পরে দুর্বৃত্তরা তাকে অটো রিক্সায় করে শান্তিধাম ফুল মার্কেটে নেয়। সেখানে থাকা ছাত্রলীগ ক্যাডার দেব দুলাল বাড়ই বাপ্পি, সবুজ, হাসানসহ অন্যন্যরা চাপাতি ও লোহার পাইপ দিয়ে আক্রমণ চালায়। রেজা তাকে টেনে হেঁচড়ে, নিচে নেয় এবং সবুজ হাজরা চা-পাতি দিয়ে কোপা দেয়। ঠেকাতে গেলে তার বাম হাতের রগ কেটে যায়।
তিনি আরও বলেন, হাসপাতালে গেলে সেখানেও হয়রানির শিকার হতে হয় তাকে। অপারেশন থিয়েটারে থাকা চিকিৎসকদের তারা হুমকি প্রদান করে। সেদিন চিকিৎসকদের সহায়তায় লাশ নামানো সিঁড়ি বেয়ে তাকে এম্বুলেন্সে তুলে দেন তারা। গোপালগঞ্জ হাসপাতালের উদ্দেশ্যে রওনা হই। কিন্তু সেখানে গিয়ে বাঁধার শিকার হন তিনি। এরপর ঢাকার উত্তরার একটি হাসপাতালে চিকিৎসা সেবা গ্রহণ করেন তিনি। এই ঘটনার ছয় মাস পর তার অসুস্থ্য বাবা মারা যান। সে সময়ে থানায় মামলা করতে গেলে পুলিশ মামলা নেযনি।
তিনি আরও বলেন, ক্ষমতা পট পরিবর্তনের পর তিনি বাদী হয়ে ২০২৪ সালের ২৯ অক্টোবর সোনাডাঙ্গা থানায় মামলা দায়ে করা হয়। সেখানে তিনি ছাত্রলীগ ও যুবলীগের ১৩ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা আও ১০-১৫ জন ব্যক্তিকে আসামি করে মামলা করেন।
এ দু’বছরের মধ্যে কয়েকজন কর্মকর্তাও পরিবর্তন হয়। তার দায়ের করা মামলার প্রধান আসামি বিএম মাহিম রাষ্ট্রীয় গোয়েন্দা সংস্থায় রয়েছে। গত ৩০ আগস্ট তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই ইমরান হোসেন ফাইনাল রিপোর্ট দাখিল করেন।
সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
প্রকাশক ও সম্পাদক- আলি আবরার । নিরালা, খুলনা থেকে প্রকাশিত