
পূর্ব সুন্দরবন বন বিভাগ চলমান কম্বিং অপারেশনে ব্যাপক সাফল্য অর্জন করেছে। গত দুই মাসের অভিযানে হরিণ শিকারীদের ফাঁদ, হরিণের মাংস, বিষমিশ্রিত চিংড়ি ও নিষিদ্ধ কাঁকড়া ধরার যন্ত্রপাতি উদ্ধার করা হয়েছে।
অভিযানটি শুরু হয় গত ১ মে, যখন হঠাৎ করে হরিণ শিকারের ঘটনা বেড়ে যায়। চাঁদপাই ও শরণখোলা রেঞ্জে বনপ্রহরীরা গভীর অরণ্যে পায়ে হেঁটে অভিযান চালিয়ে ফাঁদ, বিষযুক্ত মাছ ধরার সরঞ্জাম, ও অবৈধ ট্রলার জব্দ করেন।
গত দুই মাসে:
৭৬ জনকে আটক করা হয়েছে
৪২ কেজি হরিণের মাংস ও ৩টি হরিণের মাথা উদ্ধার
২,০৬৫টি নাইলনের হরিণ ধরার ফাঁদ জব্দ
৪৪৫ কেজি বিষমিশ্রিত চিংড়ি ও ৫৩টি ট্রলার জব্দ
৫৩২টি অবৈধ কাঁকড়া ধরার ফাঁদ ধ্বংস
৮৬টি বিশেষ অভিযান পরিচালনা এবং ৪২টি মামলা দায়ের
বৃহস্পতিবার বড়ো বস্তা খালে ৬টি ডিঙ্গি নৌকা আটক করে ১২০ কেজি বিষমিশ্রিত চিংড়ি ও ৫টি কীটনাশকের বোতল জব্দ করা হয়।
পূর্ব সুন্দরবন বিভাগের বন কর্মকর্তা মো. রেজাউল করিম চৌধুরী বলেন, “অভিযানের ফলে হরিণ শিকার অনেকাংশে কমে এসেছে। তবে কিছু অসাধু ব্যক্তি এখনো রাতে বনাঞ্চলে ঢুকে কীটনাশক দিয়ে মাছ ধরছে।”
বন সংরক্ষক ইমরান আহমেদ জানান, “কিছু চোরাকারবারি জেলেকে ছদ্মবেশে হরিণ শিকার ও পাচারে জড়িত। তবে নিয়মিত টহল ও অভিযান হরিণ শিকার রোধে ভূমিকা রাখছে।”
আইইউসিএন-এর এক জরিপে (ডিসেম্বর ২০২৩) দেখা যায়, সুন্দরবনে বর্তমানে হরিণের সংখ্যা ১,৩৬,৬০৪ যা ২০০৪ সালে ছিল প্রায় ৮৩,০০০—বাড়তি ৫৩,৬০৪টি হরিণ, অর্থাৎ উল্লেখযোগ্য প্রবৃদ্ধি।
গ্রেটার খুলনা ডেভেলপমেন্ট অ্যাকশন কোঅর্ডিনেশন কমিটির সভাপতি শেখ আশরাফুজ্জামান বলেন, “হরিণের চাহিদা বাড়ায় চোরাকারবারিরা আরও মরিয়া হচ্ছে। তাই নিয়মিত অভিযান চালাতে হবে।”
বন বিভাগের কর্মকর্তারা জানান, অভিযান চলবে এবং শিগগির আরও কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
প্রকাশক ও সম্পাদক- আলি আবরার । নিরালা, খুলনা থেকে প্রকাশিত