
সুন্দরবনে ১১ জন জেলেকে অপহরণ করেছে বনদস্যু জাহাঙ্গীর বাহিনী। জেলেদের মুক্তির জন্য জনপ্রতি ১ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করা হয়েছে।
গত ৩ মে দিবাগত রাতে পূর্ব সুন্দরবনের আলোরকোল এলাকা থেকে বনদস্যু জাহাঙ্গীর বাহিনী মুক্তিপণের দাবিতে ওই ১১ জেলেকে অপহরণ করে সুন্দরবনের অজ্ঞাত স্থানে আটকে রেখেছে।
শরণখোলার উত্তর রাজাপুর গ্রামের কুদ্দুস হাওলাদার বুধবার (৬ মে) বিকেলে জানান, তার পুত্র রাকিব হাওলাদার (২৪) সুন্দরবনে মাছ ধরতে গিয়ে ৩ মে রাতে বনদস্যুদের হাতে অপহৃত হয়েছে। একই এলাকার আলতাফ হাওলাদার বলেন, তার ভাইপুত্র ছগির (৩২)কেও সুন্দরবনে বনদস্যুরা অপহরণ করেছে।
জেলেদের মহাজন, নিরাপত্তার স্বার্থে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক, শরণখোলার রাজাপুর এলাকার এক মৎস্য ব্যবসায়ী জানান—তাদের তিন মহাজনের ১১ জেলেকে বনদস্যু জাহাঙ্গীর বাহিনী গত ৩ মে রাতে সুন্দরবনের আলোরকোল এলাকা থেকে একটি নৌকাসহ অপহরণ করে অজ্ঞাত স্থানে আটকে রেখেছে।
অপহৃত অপর ৯ জেলে হলেন: উত্তর রাজাপুর গ্রামের লুৎফর হাওলাদার (৩০), বাদল হাওলাদার (৩৫), সজিব হাওলাদার (২৭), রুবেল হাওলাদার (৩০), হাফিজুল (২২), আলমগীর ফরাজী (৫০), ইয়াসিন হাওলাদার (২৩), পাথরঘাটা পদ্মাস্লুইস এলাকার রুবেল (২৫) এবং খুলনার বটিয়াঘাটার দেব চন্দ্র (২৫)।
এছাড়াও দস্যুদের কব্জায় আরও কয়েকজন জেলে ও মৌয়াল আটক রয়েছে বলে জানা গেছে। বর্তমানে সুন্দরবনে বনদস্যুদের নীরব মুক্তিপণ বাণিজ্য চলছে, এতে জেলে-মৌয়ালরা চরম আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন।
মহাজনরা জানান, সুন্দরবনে মাছ ধরতে গিয়ে আবার বিপদে পড়ার আশঙ্কায় কেউ মুখ খুলতে সাহস পাচ্ছেন না।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক জেলে মহাজন বলেন, দস্যুরা মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করে জেলেদের মুক্তির জন্য জনপ্রতি ১ লাখ টাকা দাবি করেছে।
শরণখোলা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোঃ শামিনুল হক বলেন, সুন্দরবনে ১১ জেলে অপহরণের বিষয়টি তার জানা নেই। কেউ কোনো অভিযোগ দেয়নি। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
প্রকাশক ও সম্পাদক- আলি আবরার । নিরালা, খুলনা থেকে প্রকাশিত