শরণখোলা প্রতিনিধি
বাগরহাটের পুলিশ সুপার কে এম আরিফুল হক পিপিএম বলেছেন, বর্তমান সরকারের সময় সুন্দরবনকে দস্যুমুক্ত করা হয়েছে। দীর্ঘদিন সুন্দরবনের বনজীবীরা নির্বিঘ্নে ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে তাদের জীবন জীবীকা করে আসছে। কিন্তু হঠাৎ করে ১৩ থেকে ২০ ডিসেম্বর এই সাত দিনে ছোট একটি দস্যুদল কিছু জেলেদের অপহরণ করে সরকারের এ অর্জন কে বিনষ্ট করতে চেয়েছে। ইতিমধ্যে পুলিশ অপহৃত জেলেদের অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার করেছে। অস্ত্রসহ ৩ দস্যু কে আটক করা হয়েছে। অন্যদের ও গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে। সুন্দরবনের দস্যুতা দমনে পুলিশ তৎপর রয়েছে।
শুক্রবার সকালে বন সংলগ্ন শরণখোলা উপজেলা সদরের রায়েন্দা সরকারী পাইলট হাইস্কুল মাঠে দস্যুতা দমনে শরণখোলা থানা পুলিশ আয়োজিত জেলে বাওয়ালীদের সাথে এক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
শরণখোলা থানার অফিসার ইনচার্জ একরাম হোসেন এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এ সভায় আরো বক্তৃতা করেন, বাগেরহাটের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আসাদুজ্জামান আসাদ, শরণখোলা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নুর ই আলম সিদ্দিকী, শরণখোলা উপজেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক আসাদুজ্জামান মিলন, বীর মুক্তিযোদ্ধা আলহাজ্ব সাইফুল ইসলাম খোকন, শরণখোলা প্রেসক্লাবের সভাপতি ইসমাইল হোসেন লিটন, ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জাকির হোসেন খান মহিউদ্দিন ও মাইনুল ইসলাম টিপু।
এক পর্যায়ে প্রধান অতিথি, সমবেত জেলে বাওয়ালীদের কাছে তাদের সমস্যা ও সুবিধা অসুবিধা শোনার জন্য উন্মুক্ত বক্তব্য আহবান করেন। এসময় বেশ কয়েকজন বনজীবী খোলামেলা ভাবে তাদের নানা সমস্যার কথা তুলে ধরেন।
এ প্রেক্ষিতে প্রধান অতিথি তার বক্তব্যে কঠোর হুশিয়ারী উচ্চারন করে বলেন, হঠাৎ করে গজিয়ে ওঠা এ দস্যুতার সকল তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে। দস্যুতার সাথে কারা জড়িত, কারা তাদের সাথে যোগাযোগ করে তার সব তথ্য এখন পুলিশের হাতে। তিনি বিপথগামী এসব দস্যুদের স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসার আহবান জানিয়ে বলেন, সুন্দরবনের দস্যুতা কঠোর হস্তে দমন করা হবে।
এসময় তিনি সুন্দরবনে পুলিশের টহল ও জরুরী অভিযানের জন্য একটি দ্রুতগামী জলযান দেয়ার ঘোষনা দেন।
সভা শেষে প্রধান অতিথি সুন্দরবনের শতাধিক জেলে ও বাওয়ালীর মধ্যে শীতবস্ত্র বিতরণ করেন।
প্রকাশক ও সম্পাদক- আলি আবরার । নিরালা, খুলনা থেকে প্রকাশিত