
শহীদ হুমায়ূন কবীর বালু ছিলেন এক কিংবদন্তি সাংবাদিক। দল-মতের ঊর্ধ্বে উঠে তিনি সাংবাদিকদের নিজের পরিবারের সদস্য মনে করতেন এবং আপন ভাইয়ের মতো মিশতেন। মানুষ হিসেবে সদালাপী ও বন্ধুবৎসল বালু রাগীও ছিলেন; কাউকে ধমক দিলে পরে আবার তিনি বুকে টেনে নিতেন। সাংবাদিকদের বিপদে সবার আগে ছুটে যেতেন তিনি; ছিলেন সাংবাদিকদের প্রকৃত আশ্রয়স্থল।
রোববার বিকেলে দৈনিক জন্মভূমি ভবনে আয়োজিত খুলনা প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি, দৈনিক জন্মভূমি ও দৈনিক রাজপথের দাবীর সম্পাদক এবং একুশে পদকপ্রাপ্ত সাংবাদিক শহীদ হুমায়ূন কবীর বালুর ২২তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত স্মরণ সভা ও দোয়া মাহফিলে বক্তারা এসব কথা বলেন।
বক্তারা আরও বলেন, সে সময় এ অঞ্চলে নিষিদ্ধ ঘোষিত বিভিন্ন সংগঠন এবং খুনি এরশাদ শিকদারের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড নিয়ে দৈনিক জন্মভূমি ও রাজপথের দাবীর সাংবাদিকরা নির্ভয়ে লিখতেন। সাংবাদিক হুমায়ূন কবীর বালু ছিলেন মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক। খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার আন্দোলনে প্রেসক্লাবের উদ্যোগে যে নাগরিক কমিটি গঠিত হয়েছিল, তিনি সেই কমিটির আহ্বায়ক ছিলেন। এ সময় বক্তারা তাঁর আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে সাংবাদিকদের দেশ ও জাতির কল্যাণে কাজ করার আহ্বান জানান।

স্মরণ সভায় বক্তারা সাংবাদিক বালুর বর্ণাঢ্য কর্মজীবন ও সাহসী কর্মকাণ্ড শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করেন এবং মহান আল্লাহর কাছে তাঁর বিদেহী আত্মার মাগফেরাত কামনা করেন।
দৈনিক জন্মভূমির যুগ্ম সম্পাদক মুহাম্মদ আবু তৈয়বের সভাপতিত্বে ও উপ-সম্পাদক সোহরাব হোসেনের পরিচালনায় স্মরণ সভায় বক্তৃতা করেন খুলনা প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মো. তরিকুল ইসলাম, মকবুল হোসেন মিন্টু, এস এম জাহিদ হোসেন, মোতাহার রহমান বাবু ও নাজমুল করিম তুষার প্রমুখ।
অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন দৈনিক জন্মভূমির নির্বাহী সম্পাদক সরদার আবু তাহের, মহেন্দ্রনাথ সেন, রকিব উদ্দীন পান্নু, খুলনা প্রতিদিনের সম্পাদক সোহাগ দেওয়ান, বিমল সাহা, মো. বেল্লাল হোসেন সজল ও এস এম মারুফ হোসেন প্রমুখ।
প্রকাশক ও সম্পাদক- আলি আবরার । নিরালা, খুলনা থেকে প্রকাশিত