
খুলনা সিটি কর্পোরেশের প্রশাসক নজরুল ইসলাম মঞ্জু বলেছেন, হামের প্রাদুর্ভাবের কারণে ইতোমধ্যে অনেক শিশু ঝরে পড়েছে। সরকার যথাযথ গুরুত্বের সাথে শিশুদের টিকার আওতায় আনার সকল আয়োজন সম্পন্ন করেছে। হাম-রুবেলা টিকাদান ক্যাম্পেইনের আজ প্রথম দিন। তিনি বলেন, কোভিডের মতো হাম ভাইরাসজনিত রোগ তাই করোনার মতো হামের টিকার বিষয়ে সকলকে গুরুত্ব দিতে হবে। ক্যাম্পেইনে যেন কোন শিশুবাদ না পড়ে সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে। বিশেষ করে মায়েদের অধিক যতœবান হতে হবে এবং তাদের শিশুদেরকে টিকাদান কেন্দ্রে নিয়ে আসতে হবে। সরকারের এই টিকাদান কার্যক্রম সফল করতে আমাদেরকে নাগরিক দায়িত্ব পালন করতে হবে। তাহলেই জাতিকে জাতীয় দুর্যোগ থেকে রক্ষা করা যাবে। শেষে তিনি হাম-রুবেলা টিকাদান ক্যাম্পেইনের ঘোষণা উদ্বোধন করেন।
তিনি সোমবার খুলনা সিটি কর্পোরেশনের স্বাস্থ্য বিভাগের আয়োজনে ২২নং ওয়ার্ডে কাস্টমঘাট আমিরাবানু বেগম নগর মাতৃসদন এ হাম-রুবেলা টিকাদান ক্যাম্পেইন ২০২৬ উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় একথা বলেন।
কেসিসি’র প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা রাজিব আহমেদের সভাপতিত্বে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে কেসিসি’র প্রধান প্রকৌশলী মশিউজ্জামান খান, কেএমপির উপ-কমিশনার (অপারেশন) আব্দুল্লাহ আল মাসুদ, স্থানীয় সরকার উপ-পরিচালক মোঃ আরিফুল ইসলাম, সিভিল সার্জন ডাঃ মোছাঃ মাহফুজা খানম, খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের উপ-পরিচালক ডাঃ সুজাত আহমেদ, খুলনা জেনারেল হাসপাতালের তাত্ত¡বধায়ক ডাঃ মোঃ রফিকুল ইসলাম, থানা শিক্ষা অফিসার মোঃ শাহজাহানসহ ইউনিসেফের ন্যাশনাল ইপিআই স্পেশালিষ্ট ডাঃ তাপস কুমার হালদার, বিশ^ স্বাস্থ্য সংস্থার এসআইএম নাজমুর রহমান সজিব, ইউনিসেফ প্রধান মোঃ কাওছার আহমেদ প্রমুখ বক্তৃতা করেন ও উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন কেসিসি’র প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডাঃ শরীফ শাম্মীউল ইসলাম।
স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের অধীন স¤প্রসারিত টিকাদান কর্মসূচির (ইপিআই) আওতায় ‘‘হাম-রুবেলা টিকাদান ক্যাম্পেইন’’ সমগ্র দেশের ন্যায় মহানগরীতেও আগামী ২০ মে পর্যন্ত চলমান থাকবে। প্রথম ৮ (আট) কর্মদিবসে নগরীর বিভিন্ন ইপিআই (স্থায়ী ও অস্থায়ী) টিকাদান কেন্দ্রে এবং পরবর্তী ৬ (ছয়) কর্মদিবস শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসমূহে টিকা প্রদান কার্যক্রম চলমান থাকবে। ছুটির দিন ব্যতীত প্রতিদিন সকাল আটটা থেকে বিকেল চারটা পর্যন্ত এই ক্যাম্পেইন চলবে।
কর্মসূচি সফল করতে নগরীর ৩১টি ওয়ার্ড এলাকা ৪টি জোনে বিভক্ত করে ৩৫৬টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও ২৫৬টি টিকা কেন্দ্রে ৬২ জন সুপারভাইজারের তত্ত¡াবধানে ১৪৪জন টিকাদান কর্মী ও ২০৬ জন স্বেচ্ছাসেবীর সমন্বয়ে গঠিত ৮২টি টীম এ কাজে নিয়োজিত থাকবে। ক্যাম্পেইনে ৬ মাস হতে ৫ বছরের কম বয়সী ৯৩ হাজার ৭৮৮ জন শিশুকে এক ডোজ হামের টিকা প্রদানের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে জানানো হয়, খুলনা সিটি কর্পোরেশনের ৩১টি ওয়ার্ডে ৬ মাস থেকে ৫৯ মাস বয়সী ৯৩ হাজার ৭৮৮ জন শিশুকে এক ডোজ হাম-রুবেলা টিকা প্রদানের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। যার মধ্যে স্কুল শিশুর লক্ষ্যমাত্রা ১৩ হাজার ৩৮৮ এবং কমিউনিটি শিশুর লক্ষ্যমাত্রা ৮০ হাজার ৪০৪ জন।
প্রকাশক ও সম্পাদক- আলি আবরার । নিরালা, খুলনা থেকে প্রকাশিত