সড়ক নিরাপদে আমরা যে ১১ দফা দাবি দিয়েছি সেটির পূর্ণ বাস্তবায়ন এখনও হয়নি। যতদিন পর্যন্ত সড়কে জনগণের নিরাপত্তায় ১১ দফা দাবি বাস্তবায়ন না হলে আমরা রাজপথ ছাড়ব না। আমাদের এই আন্দোলন চালিয়ে যাব।
শুক্রবার (৪ ফেব্রুয়ারি) নিরাপদ সড়কের দাবিতে রাজধানীর রামপুরায় শিক্ষার্থীদের অবস্থান কর্মসূচি থেকে এ ঘোষণা দেয়া হয়।
এসময় এই আন্দোলনের পক্ষে খিলগাঁও মডেল কলেজের শিক্ষার্থী সোহাগী সামিয়া বলেন, গত ২৯ নভেম্বর রামপুরায় বাস চাপায় শিক্ষার্থী মাঈনউদ্দিন নিহতের পর থেকে আমরা ১১ দফা দাবিতে আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছি। নিরাপদ সড়কের দাবিতে দেশের বিভিন্ন জায়গায় বিভিন্ন সময় শিক্ষার্থীরা একত্রিত হয়ে এসব দাবিতে আন্দোলন করেছে।
যতদিন পর্যন্ত আমাদের দাবিগুলো মেনে না নেওয়া হয় এবং যতদিন পর্যন্ত সড়ক জনগণের জন্য নিরাপদ না হয় ততদিন পর্যন্ত আমরা আমাদের আন্দোলন চালিয়ে যাব বলে জানান সোহাগী।
সোহাগী আরও বলেন, আমরা যে দাবিগুলো নিয়ে আজও রাজপথে আছি যদি আমাদের দীর্ঘদিন রাজপথে থাকতে হয় তাও আমরা রাজপথে থাকবো।
এই শিক্ষার্থী আরও বলেন, কিছুদিন আগে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে আমাদের এক বড় ভাই ট্রাক চাপায় নিহত হয়েছে। এমন মর্মান্তিক মৃত্যু আমরা কখনো দেখতে চাইনি। দেহ থেকে তার মাথা আলাদা হয়ে গেছে। বিশ্ববিদ্যালয়ে আমাদের মা বাবারা তাদের সন্তানদেরকে পাঠায় জ্ঞান অর্জন করার জন্য, দেশের উন্নয়নে ভূমিকা রাখার জন্যে অথচ সেখানে গিয়ে তারা মৃত্যুবরণ করে। আজকে যে উন্নয়ন উন্নয়নের কথা বলা হয় আমরা সেই উন্নয়ন মানুষের জীবনের বিনিময়ে চাইনা। আমরা চাই আমাদের যা আছে তা নিয়ে যেন আমরা সুস্থভাবে যেন বাঁচতে পারি, আমরা সেটি চাই।
এছাড়া আগামী ১১ ফেব্রুয়ারি এই ১১ দফা দাবিতে বাড্ডায় ফুটওভার ব্রিজে ফের অবস্থান কর্মসূচির ঘোষণা দেয় শিক্ষার্থীরা।
এসময় অবস্থান কর্মসূচিতে গভ: কলোনী স্কুল, শেখ রাসেল স্কুল এন্ড কলেজ, আইপিএস স্কুল এন্ড কলেজ, মহাখালী মডেল স্কুল ও বাঙলা কলেজের শিক্ষার্থীরা অংশগ্রহণ করেন।
শিক্ষার্থীদের ১১ দফা দাবি:
সড়কে নির্মম কাঠামোগত হত্যার শিকার নাঈম ও মাইনুদ্দিন হত্যার বিচার করতে হবে। তাদের পরিবারকে যথাযথ ক্ষতিপূরণ দিতে হবে। গুলিস্তান ও রামপুরা ব্রিজ সংলগ্ন এলাকায় পথচারী পারাপারের জন্য ফুটওভার ব্রিজ নির্মাণ করতে হবে।
সারাদেশে সব গণপরিবহনে শিক্ষার্থীদের হাফ পাস সরকারি প্রজ্ঞাপন দিয়ে নিশ্চিত করতে হবে। হাফ পাসের জন্য কোনো সময় বা দিন নির্ধারণ করে দেওয়া যাবে না। বর্ধিত বাস ভাড়া প্রত্যাহার করতে হবে। সব রুটে বিআরটিসির বাসের সংখ্যা বৃদ্ধি করতে হবে।
গণপরিবহনে ছাত্র-ছাত্রী এবং নারীদের অবাধ যাত্রা ও সৌজন্যমূলক ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে।
ফিটনেস ও লাইসেন্সবিহীন গাড়ি এবং লাইসেন্সবিহীন চালক নিয়োগকারী প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে। গাড়ি ও ড্রাইভিং লাইসেন্স নিয়ে বিআরটিএ'র দুর্নীতির বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে হবে।
সব রাস্তায় ট্রাফিক লাইট, জেব্রা ক্রসিং নিশ্চিত করাসহ জনবহুল রাস্তায় ট্রাফিক পুলিশের সংখ্যা বাড়াতে হবে। ট্রাফিক পুলিশের ঘুষ দুর্নীতির বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে হবে।
বাসগুলোর মধ্যে বেপরোয়া প্রতিযোগিতা বন্ধে এক রুটে এক বাস এবং দৈনিক আয় সব পরিবহন মালিকের মধ্যে তাদের অংশ অনুযায়ী সমানভাবে বণ্টন করার নিয়ম চালু করতে হবে।
শ্রমিকদের নিয়োগপত্র, পরিচয়পত্র নিশ্চিত করতে হবে। চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ বাতিল করতে হবে। চুক্তির ভিত্তিতে বাস দেওয়ার বদলে টিকিট ও কাউন্টারের ভিত্তিতে গোটা পরিবহন ব্যবস্থাকে ঢেলে সাজাতে হবে। শ্রমিকদের জন্য বিশ্রামাগার ও টয়লেটের ব্যবস্থা করতে হবে
গাড়ি চালকের কর্মঘণ্টা একনাগাড়ে ৬ ঘণ্টার বেশি হওয়া যাবে না। প্রতিটি বাসে ২ জন চালক ও ২ জন সহকারী রাখতে হবে। পর্যাপ্ত বাস টার্মিনাল নির্মাণ করতে হবে। পরিবহন শ্রমিকদের যথাযথ প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করতে হবে।
যাত্রী-পরিবহন শ্রমিক ও সরকারের প্রতিনিধিদের মতামত নিয়ে সড়ক পরিবহন আইন সংস্কার করতে হবে এবং এর বাস্তবায়ন নিশ্চিত করতে হবে।
ট্রাক, ময়লার গাড়িসহ অন্যান্য ভারী যানবাহন চলাচলের জন্য রাত ১২টা থেকে ভোর ৫টা পর্যন্ত সময় নির্ধারণ করে দিতে হবে।
মাদকাসক্তি নিরসনে গোটা সমাজ জুড়ে কার্যকর উদ্যোগ নিতে হবে। চালক-সহকারীদের জন্য নিয়মিত ডোপ টেস্ট ও কাউন্সেলিংয়ের ব্যবস্থা করতে হবে।
পিএসএন/এমঅাই
প্রকাশক ও সম্পাদক- আলি আবরার । নিরালা, খুলনা থেকে প্রকাশিত