মাত্র তিন থেকে ১২ লাখ টাকায় একটি শেয়ার কিনলেই আবাসিক হোটেলের মালিক হবেন। এই টাকায় কেউ শেয়ার কিনলে সেই ব্যক্তি বছর শেষে একটি মোটা অংকের লাভও পাবেন। এছাড়া পাবেন পাঁচ থেকে সাত দিন থাকার সুবিধা। সেই সুবিধা ভোগ করবেন আত্মীয়-স্বজনও।
শনিবার (৪ মার্চ) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে বঙ্গবন্ধু সম্মেলন কেন্দ্রে তিন দিনব্যাপী ১১তম ট্রাভেল অ্যান্ড ট্যুরিজম ফেয়ার-২০২৩-এ এমন অফার নিয়ে হাজির হয়েছিল তিনটি প্রতিষ্ঠান। সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর কর্মীদের সাথে কথা বলে এসব তথ্য জানা গেছে।
তিন প্রতিষ্ঠানের একটি গোল্ডসেন্ডস। গত তিন দিন ধরে তারা মেলায় এসব নিয়ে কাজ করছেন। আজ ছিল মেলার শেষ দিন।
প্রতিষ্ঠানটির ম্যানেজার মনিরুজ্জামান অপু ঢাকা মেইলকে বলেন, আমাদের সঙ্গে কেউ হোটেলের শেয়ার কিনলে আমরা তাকে নানা সুযোগ-সুবিধা দিয়ে থাকি। কেউ একটা শেয়ার নিলে রেডি প্রজেক্টের জন্য একটা প্রাইজ আবার নির্মাণাধীন প্রজেক্টের জন্য আরেকটা প্রাইজ। রেডি প্রজেক্টের আমরা একটা লুকেটিভ অফার দিচ্ছি, তা হলো এতে আমরা ১২ লাখ টাকা পর্যন্ত ছাড় দিচ্ছি। যদি কেউ একবারেই নেয়, সেক্ষেত্রে আমাদের কিস্তির সুবিধা আছে (যেটাকে বলে ইন্টুমেন্ট)। এ ক্ষেত্রে তাকে মিনিমাম ৩০ শতাংশ টাকা ডাউন পেমেন্ট করতে হবে।
অপু বলেন, যে কেউ প্রতি শেয়ারে বছর শেষে প্রায় তিন লাখ টাকা আয় করতে পারবেন। এছাড়া ইউনাইটেড হাসপাতাল ও স্কয়ার হাসপাতাল থেকে শুরু করে ছোটখাট হাসপাতালগুলোতে সেবা নিতে গেলে সেই ব্যক্তি ১০ শতাংশ ছাড় পাবেন। দেশের বাইরে গিয়ে কোনো হোটেলে সেই ব্যক্তি থাকলেও সুবিধা পাবেন। দেশের যে হোটেলের তিনি শেয়ার কিনছেন তাতে বছরে সাত দিন ফ্রি থাকার সুবিধা পাবেন। তিনি শুধু নন, তার আত্মীয়-স্বজনরাও থাকার ক্ষেত্রে ২০ শতাংশ ছাড় পাবেন।
এই কর্মকর্তা জানান, বর্তমানে তারা কক্সবাজারে দুটি, কুয়াকাটায় একটি হোটেলের কাজ করছেন। এছাড়া তাদের মাওয়াতে একটি প্রজেক্টের কাজ চলছে।
অন্যদিকে বে অব বেঙ্গল নামের আরেকটি প্রতিষ্ঠানের ম্যানেজার মুন্সি মোস্তাফিজুর রহমান জানান, মাত্র চার লাখ টাকায় তারা তাদের তৈরি কুয়াকাটায় একটি হোটেলের শেয়ার দিতে চান। এই টাকা পরিশোধ করতে সেই ব্যক্তিকে জমি বুঝিয়ে দেওয়ার পাশাপাশি তাকে জমির সাবকবলা রেজিস্ট্রেশনপত্র পর্যন্ত তারা দেবেন। যার পরিমাণ জিরো পয়েন্ট জিরো জিরো টু ফোর ফাইভ ডেসিমেল। তখন সেই ব্যক্তি তাদের হোটেলের মালিক হবেন। তবে সেই হোটেলে তার পরিমাণ থাকবে ৪০ স্কয়ার ফিটের। পুরো হোটেলের যেকোনো অংশে থাকবে এই পরিমাণ। এছাড়া সেই ব্যক্তি প্রতি বছর দুই রাত থাকার সুবিধা, সাথে সকালের নাস্তা, বছর শেষে শেয়ার কেনার জন্য ১২ থেকে ২৪ হাজার টাকা প্রফিট দেওয়া হবে। তবে এই পরিমাণ দিন দিন বাড়বে বলে তিনি আশাবাদী।
মোস্তাফিজুর রহমান জানান, তাদের এই কার্যক্রমে এখন পর্যন্ত ৪২৫ জন ব্যক্তি শেয়ার কিনেছেন। তারা এই শেয়ার ৬০০ ব্যক্তির মাঝে বিক্রি করতে চান। মূলত তারা হোটেল তৈরির কাজ করছেন। তবে বাকি শেয়ার ৬০০ জনের বিক্রির জন্যই এই মেলায় স্টল দিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।
তাদের মতোই মাত্র তিন লাখ টাকায় হোটেলের শেয়ার বিক্রির জন্য মেলায় হাজির হয়েছিল ম্যানগ্রোভস নামে আরেকটি প্রতিষ্ঠান। প্রতিষ্ঠানটির নির্বাহী কর্মকর্তা তুহিন জানান, এই টাকায় শেয়ার কিনলে সেই ব্যক্তি প্রতি বছর সাত দিন নিজের হোটেলে ফ্রি থাকতে পারবেন। কেউ সাত দিন থাকতে না পারলে তার বিনিময়ে ৫০ হাজার টাকা পাবেন। প্রতি বছর একটি শেয়ারের জন্য ৫০ হাজার টাকা পাবেন সেই ব্যক্তি। যদি কেউ বেশি শেয়ার কিনেন তবে বেশি পাবেন।
তুহিন জানান, পুরো হোটেলের যেকোনো জায়গায় সেই ব্যক্তির ২৬ স্কয়ার ফিট জায়গা থাকবে। এছাড়া সেই হোটেলে জিম, স্পা ও সুইমিং পুলে সাঁতার সুবিধা ছাড়াও আরও কিছু সুবিধা পাবেন। তারা কুয়াকাটার জিরো পয়েন্ট থেকে সিকদার পয়েন্টে এই হোটেলটি নির্মাণ করছেন বলেও জানান তিনি।
প্রকাশক ও সম্পাদক- আলি আবরার । নিরালা, খুলনা থেকে প্রকাশিত