
স্বাধীনতার পর ৫৪ বছর পার হলেও এ দেশে ক্ষমতার হস্তান্তর ও গণতান্ত্রিক পরিবেশ নিশ্চিত না হওয়া নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন অন্তর্বর্তী সরকারের সমাজকল্যাণ উপদেষ্টা শারমিন এস মুরশিদ।
তিনি বলেন, ‘ক্ষমতায় যেই আসে, তিনি ডিক্লেয়ার করে দেন যে আর ওভাবে নির্বাচন হবে না, ক্ষমতা হস্তান্তর হবে না। এই করতে করতে আমরা ৫৪টি বছর পার করে দিলাম। আমরা গণতন্ত্রের শান্তির মুখ দেখতে পেলাম না।’
শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি) জাতীয় প্রেস ক্লাবের জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম হলে আয়োজিত ‘প্রকৃতি এবং পরিবেশ: ছবিতে পৃথিবীর প্রতিধ্বনি’ শীর্ষক আলোকচিত্র প্রতিযোগিতা ও প্রদর্শনী ২০২৬-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।
উপদেষ্টা শারমিন এস মুরশিদ বলেন, এ দেশের তরুণ ও শিক্ষার্থীরা যুগে যুগে অন্যায়ের বিরুদ্ধে লড়াই করেছে। বর্তমান পরিস্থিতিকে একটি ‘পচে যাওয়া সমাজের ফল’ হিসেবে অভিহিত করে তিনি বলেন, ‘যারা এই সমাজটা গড়েছে, তারা অপরাধী; তারা দেশদ্রোহী। আমাদের চুল পেকেছে, আমরা বসে বসে দেখেছি আমাদের বাচ্চারা জীবন দিয়েছে। তারা স্বৈরাচার হটাতে পারে, কিন্তু দেশ চালানোর দায়িত্ব তো শেষ পর্যন্ত অন্যদের হাতেই যায়।’
একাত্তরের স্মৃতিচারণা করে তিনি বলেন, ১৯ থেকে ২২ বছরের তরুণ ও কৃষকেরা যখন শত্রু হটিয়ে দেশটা বড়দের হাতে তুলে দিল, তখন তারা দেশটাকে গণতন্ত্রে ফিরতে দেননি। ক্ষমতা হস্তান্তরের সংস্কৃতি তৈরি হতে না পারায় দীর্ঘ ৫৪ বছরেও গণতন্ত্রের সুফল মেলেনি। বর্তমান তরুণ প্রজন্ম বা ‘জেন-জি’র ওপর আস্থা প্রকাশ করে তিনি বলেন, ‘তারা আমাদের বলে দিচ্ছে– নতুন বাংলাদেশ গড়ব। আমাদের এই রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক কাঠামো ভাঙতে হবে।’
নতুন নির্বাচনের প্রস্তুতির কথা উল্লেখ করে সমাজকল্যাণ উপদেষ্টা বলেন, ‘আমরা আগামী দিনে এমন নেতৃত্ব চাই, যারা গভীরভাবে এগুলো অনুধাবন করে বাংলাদেশকে নতুন পথে নিয়ে যাবে। বর্তমান কাঠামো না ভাঙলে স্বচ্ছ পানি, সবুজ বন বা শস্য-শ্যামল বাংলাদেশ পাওয়া সম্ভব নয়।’
নিজের সরকারের অবস্থান ব্যাখ্যা করে তিনি বলেন, ‘আমাদের দিকে আঙুল তুলে বলা হয়– এনজিও সরকার। এনজিও সরকার হয়েছে তো কী হয়েছে? আমরা তো অনেক সরকার দেখলাম। দেখুন না একজন সমাজবিজ্ঞানী, পরিবেশবিদ বা অধ্যাপক ইউনূসের মতো বিদগ্ধ ব্যক্তি কীভাবে দেশ চালায়। সুযোগটা দিন।’
বক্তব্যের শেষে তিনি জুলাই-আগস্ট আন্দোলনের শহীদদের স্মরণ করে বলেন, ‘দৃঢ়চিত্তে বিশ্বাস করুন আমাদের বাচ্চারা পাহাড়সম সমস্যা দূর করেছে। আমরা যেন হাদি, আবু সাঈদ বা সেই মেয়েটিকে না ভুলে যাই। বাংলাদেশের ইতিহাসে এই প্রথম ১১ জন নারী শহীদ হয়েছেন। তাদের মৃত্যুটাকে আমরা যেন অর্থহীন না করি।’
প্রকাশক ও সম্পাদক- আলি আবরার । নিরালা, খুলনা থেকে প্রকাশিত