জাতীয়

আন্তর্জাতিক

  • সোনায় মোড়ানো ৪৩শ বছর আগের মমি মিলল মিশরে
    সোনায় মোড়ানো ৪৩শ বছর আগের মমি মিলল মিশরে

    প্রত্নতত্ত্ববিদরা বলছেন, তারা মিশরে কফিনের ভেতর থেকে সোনায় মোড়ানো একটি মমি পেয়েছেন। এটি চার হাজার ৩০০ বছরের মধ্যে একবারও খোলা হয়নি।

    মমিটি হেকাসহেপেস নামে এক ব্যক্তির। মিশরে রাজপরিবারের বাইরে এ পর্যন্ত যত মমি পাওয়া গেছে, সেগুলোর মধ্যে এটি সম্ভবত সবচেয়ে পূর্ণাঙ্গ ও পুরাতন।   

    রাজধানী কায়রোর দক্ষিণে সাক্কারার একটি সমাধি এলাকায় ১৫ মিটার গভীর খাদ থেকে মমিটি আবিষ্কার করা হয়।

    এই স্থানে তিনটি কবরে মমি পাওয়া যায়। সবচেয়ে বড় মমিটি খনুমদজেদেফ নামে এক পুরোহিতের।  

    আরেকটি হলো মেরি নামে এক ব্যক্তির, যিনি ছিলেন রাজপ্রাসাদের এক জ্যেষ্ঠ ব্যক্তি। তার উপাধি ছিল সিক্রেট কিপার। তিনি  বিশেষ ধর্মীয় আচার পরিচালনা করতেন।  

    আরেকটি কবরে পাওয়া মমিটি ফেতেক নামে এক বিচারক ও লেখকের বলে ধারণা করা হয়। এতে ভাস্কর্যের সংগ্রহ পাওয়া গেছে। এটিকে এই সমাধি এলাকায় পাওয়া সবচেয়ে বড় ভাস্কর্য বলে ধারণা করা হচ্ছে।  

    কবরগুলোতে পোড়ামাটির পাত্রসহ বিভিন্ন জিনিস পাওয়া গেছে।  

    মিশরের পুরাকীর্তি মন্ত্রণালয়ের সাবেক মন্ত্রী ও পুরাতত্ত্ববিদ জাহি হাওয়াস বলেন, মমিসহ অন্যান্য আবিষ্কারগুলো খ্রিস্টপূর্ব ২৫ থেকে ২২ শতাব্দীর মধ্যকার সময়ের।  

    খননকাজের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট আলি আবু দেনিশ নামে আরেক পুরাতত্ত্ববিদ বলেন, এই আবিস্কার খুবই গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এটি সে সময়কার লোকজন ও রাজার সম্পর্কে ধারণা দেয়।  

    ৩ হাজার বছরেরও বেশি সময় ধরে সাক্কারা একটি সক্রিয় সমাধিক্ষেত্র। এটি ইউনেস্কোর ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ সাইট।  
     
    এটি এমন স্থানে অবস্থিত যেখানে প্রাচীন মিশরের রাজধানী মেম্ফিস ছিল। এখানে স্টেপ পিরামিডসহ ডজনখানেকেরও বেশি পিরামিড রয়েছে।  

    বৃহস্পতিবার এসব মমি আবিষ্কৃত হয়। এর একদিন আগেই বিশেষজ্ঞরা মিশরের দক্ষিণাঞ্চলীয় শহর লাক্সরে রোমান যুগের একটি পূর্ণাঙ্গ আবাসিক শহর পাওয়ার কথা জানায়। এটি খ্রিস্টপূর্ব দ্বিতীয় ও তৃতীয় শতাব্দীর মধ্যকার সময়ের।  

    পুরাতত্ত্ববিদরা সেখানে আবাসিক ভবন, টাওয়ার, মেটাল ওয়ার্কশপ, পাত্র, যন্ত্রপাতি ও রোমান মুদ্রা পান।  

    পর্যটন শিল্পকে পুনরুজ্জীবিত করার প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে গত কয়েক বছরে মিশরে অনেক পুরাতাত্ত্বিক আবিষ্কার হয়েছে।  

খেলাধুলা

  • জীবনের শেষ গ্র্যান্ডস্ল্যামে কেঁদে বিদায় নিলেন সানিয়া
    জীবনের শেষ গ্র্যান্ডস্ল্যামে কেঁদে বিদায় নিলেন সানিয়া

    চলতি মৌসুম শেষেই টেনিসকে বিদায় বলবেন ভারতীয় টেনিস তারকা সানিয়া মির্জা। এ কথা কমবেশি সবারই জানা। কিন্তু ক্যারিয়ারের শেষ গ্র্যান্ডস্ল্যামে হেরে চোখের কোনে পানি নিয়ে বিদায় জানাবেন টেনিসের এ মহাতারকা! তা হয়তো অনেকেরই অজানা ছিল। কিন্তু অস্ট্রেলিয়ান ওপেনের ফাইনালে এমন দৃশ্যই দেখা গেছে।

    ভারতীয় গণমাধ্যম ইন্ডিয়া টাইমসের খবরে বলা হয়, অস্ট্রেলিয়ান ওপেনের মিক্সড ডাবলস-এর ফাইনালে ব্রাজিলের জুটি লুইসা স্টেফানি ও রাফায়েল মাতোসের কাছে হেরে গিয়েছেন সানিয়া মির্জা ও রোহান বোপান্না জুটি। ৬-৭, ২-৬ সেটে হারল ভারতীয় জুটি।

    এদিকে অস্ট্রেলিয়ান ওপেনের ফাইনালে যাওয়ার পরেও আরও একটি গ্র্যান্ডস্ল্যামের আশায় বুক বেঁধেছিল ভারত। কিন্তু সেই ম্যাচে হারের মধ্য দিয়ে জীবনের শেষ গ্র্যান্ডস্ল্যাম শেষ করলেন সানিয়া মির্জা।

    ম্যাচ পরবর্তী অনুষ্ঠানেও হারের বিষণ্ণ দৃশ্যের প্রতিফলন ঘটে। কান্নায় ভেঙে পড়েন ভারতীয় এ টেনিস তারকা। এসময় এটিকে জীবনের শেষ গ্র্যান্ডস্ল্যাম বলে সহ-খেলোয়াড় রোহান বোপান্নাকে ধন্যবাদ জানান এবং সেরা পার্টনার হিসেবে উল্লেখ করেন।

    ৩৬ বছরের সানিয়া জীবনে ডাবলসে ৬টি গ্র্যান্ড স্ল্যাম জিতেছেন সানিয়া। এর মধ্যে সর্বশেষ ২০১৬ সালে ডাবলসে চ্যাম্পিয়ন হন তিনি। তিনটি মিক্সড ডাবলস এবং তিনটি ডাবলস খেতাব রয়েছে সানিয়ার। 

    ২০০৩ সাল থেকে পেশাদার টেনিসে খেলছেন তিনি। এরপর টানা ১৯ বছর ধরে টেনিসের শীর্ষ পর্যায়ে খেলছেন হায়দরাবাদি এই টেনিস সেনসেশন। দ্বৈত র‍্যাঙ্কিংয়ে এক সময়ের বিশ্বসেরা তিনি, জিতেছেন ছয়টি গ্র্যান্ড স্ল্যাম শিরোপাও।

    একক লড়াইয়েও সানিয়ার পরিসংখ্যানটা নেহায়েত মন্দ নয়। ২০০৭ সালে টেনিস র‍্যাঙ্কিংয়ের ২৭তম অবস্থানে এসেছিলেন তিনি, যার ফলে ভারতের ইতিহাসে সর্বোচ্চ র‍্যাঙ্কিংধারী নারী টেনিস খেলোয়াড় বনে যান সানিয়া।

    সভেতলানা কুজনেৎসোভা, ভেরা জনারেভারা, মারিওন বারতোলি, সাবেক বিশ্বসেরা টেনিস তারকা মার্টিনা হিঙ্গিস, দিনারা সাফিনা, ভিক্টোরিয়া আজারেঙ্কাদের বিপক্ষে দারুণ কিছু জয়ও আছে তার ঝুলিতে। তবে কবজির বড়সড় এক চোট তার একক ক্যারিয়ারটাকে আর বড় হতে দেয়নি।

    ভারতের ইতিহাসে মাত্র দুইজন নারী টেনিস তারকা ডব্লিউটিএ শিরোপা জিতেছেন, তার মধ্যে একজন সানিয়া। টেনিস র‍্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষ ১০০-তে পৌঁছানো একমাত্র ভারতীয় টেনিস তারকা তিনি।

বিচিত্র

  • ১১৫ বছর বয়সে গিনেস রেকর্ড
    ১১৫ বছর বয়সে গিনেস রেকর্ড

    বয়স একটি সংখ্যা মাত্র। বয়স বাধা হতে পারে না কোনো কিছুতেই। ১১৫ বছর বয়সী মারিয়া ব্রানিয়াস মোরেরা সরব সোশ্যাল মিডিয়ায়। আনন্দ করছেন পরিবারের সঙ্গে। খোঁজ খবর নিচ্ছেন বন্ধুদের এবং মোটিভেশন করছেন তার অনুসারীদের। সম্প্রতি গিনেস বুক অব রেকর্ডসেও নাম উঠেছে তার।

    বর্তমানে বিশ্বের সবচেয়ে বয়স্ক নারী তিনি। কিছুদিন আগেই ফ্রান্সের ১১৮ বছর বয়সী লুসিল র্যান্ডনের মৃত্যুর পর গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডের তালিকায় মোরেরার নাম অন্তর্ভুক্ত করা হয়। তিনি এখন বিশ্বের সবচেয়ে বয়স্ক জীবিত নারী এবং সবচেয়ে বেশি বয়সের মানুষ হিসেবে খ্যাতি অর্জন করেছেন। গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডস তার সম্পর্কে ইনস্টাগ্রামে একটি পোস্ট শেয়ার করেছে। এমনকি নিজের রেকর্ডের কথা নিজেই টুইট করে জানিয়েছেন মারিয়া তার অনুসারীদের।

    এই খবরে মারিয়ার পরিবার, বন্ধু এবং অনুসারীরাও খুশি। মেয়ের সাহায্যে টুইটারে সরব থাকেন মারিয়া। মাঝে মধ্যেই মারিয়া তার অনুসারীদের কীভাবে আনন্দ নিয়ে বাঁচা যায় সে ব্যাপারে পয়ামর্শ দিয়ে থাকেন। তার মতে, দীর্ঘায়ু প্রথমত সৌভাগ্যের এবং জেনেটিক্সের ব্যাপার। তবে শৃঙ্খলা, শান্তি, পরিবার এবং বন্ধুদের সঙ্গে ভালো সংযোগ, প্রকৃতির সঙ্গে যোগাযোগ, মানসিক স্থিতিশীলতা, উদ্বেগ এবং অনুশোচনা না করা, প্রচুর পজিটিভিটি এবং বিষাক্ত মানুষ থেকে নিজেকে দূরে রাখা এইসব তার দীর্ঘায়ুর রহস্য।

    ১৯০৭ সালে ৪ মার্চ ক্যালিফোর্নিয়ার সান ফ্রান্সিসকোতে মারিয়া মোরেরার জন্ম। ১৯৩১ সালে তিনি বিয়ে করেছিলেন এবং তার তিনটি সন্তান, ১১ জন নাতি-নাতনি এবং ১৩ জন পরনাতি-পরনাতনি রয়েছে। তবে স্বামীর মৃত্যুর পর তিনি চলে আসেন স্পেনে এবং কাতালোনিয়াতে বসতি স্থাপন করেন। এটি একটি নার্সিং হোম। সেখানে তিনি গত ২২ বছর ধরে আছেন।

    মারিয়া প্রথম এবং দ্বিতীয় উভয় বিশ্বযুদ্ধ, স্প্যানিশ গৃহযুদ্ধ এবং স্প্যানিশ ফ্লু মহামারির সাক্ষী। সেখান থেকে বেঁচে গিয়েছেন ভাগ্যের জোরে। এমনকি তার ১১৩ তম জন্মদিন উদযাপনের মাত্র কয়েক সপ্তাহ পরে ২০২০ সালে তিনি করোনায় আক্রান্ত হন। তবে এবারও তিনি খুব দ্রুত সুস্থ হয়ে ওঠেন।

চাকরির খবর

  • এবার ৩ হাজার ৯০০ কর্মী ছাঁটাই করল আইবিএম
    এবার ৩ হাজার ৯০০ কর্মী ছাঁটাই করল আইবিএম

    যুক্তরাষ্ট্রের বহুজাতিক টেক জায়ান্ট ইন্টারন্যাশনাল বিজনেজ মেশিনস কর্পোরেশন (আইবিএম) বুধবার জানিয়েছে, ৩ হাজার ৯০০ কর্মীকে ছাঁটাই করেছে তারা।

    মার্কিন প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানটির কিছু বিনিয়োগ বার্ষিক নগদ লক্ষ্যমাত্রা অর্জনেও ব্যর্থ হয়েছে, বছরের শেষ তিনমাসে যে লাভ হবে আশা করা হয়েছিল সেটি হয়নি।

    আইবিএমের প্রধান অর্থনৈতিক কর্মকর্তা জেমস কাভানগ বার্তাসংস্থা রয়টার্সকে বলেছেন, গ্রাহকদের সঙ্গে কাজ করবে এমন কর্মী নিয়োগ অব্যাহত রাখবেন তারা।

    সাম্প্রতিক সময়ে গুগল, মেটা, মাইক্রোসফট, অ্যামাজনসহ মার্কিন বড় প্রতিষ্ঠানগুলো বিপুল কর্মী ছাঁটাই করেছে। এবার আইবিএমও এই পথে হাঁটল।

    ছাঁটাইয়ের ঘোষণা দেওয়ার পর আইবিএমের শেয়ারের দাম ২ শতাংশ কমেছে বলেও জানিয়েছেন বাজার বিশ্লেষকরা।

    এদিকে বর্তমান অর্থনৈতিক পরিস্থিতির সঙ্গে মানিয়ে নিতে ছোট বড় প্রায় সব কোম্পানি তাদের খরচ কমানোর উদ্যোগ নিয়েছে।

    গত বছরের শেষ তিন মাসে আইবিএমের সফটওয়্যার এবং কনসালটেন্সি ব্যবসার ধীর থেকে আরও ধীর হয়েছে। কিন্তু পুরো কোম্পানির খরচ ছিল চোখে পড়ার মতো। বিভিন্ন সেবা নিশ্চিতে অ্যামাজন ও মাইক্রোসফটের সঙ্গে চুক্তি করতে হয়েছে তাদের।