
কাশ্মীরের পেহেলগামে ভয়াবহ সন্ত্রাসী হামলার প্রতিক্রিয়ায় পাকিস্তানের বিরুদ্ধে ভারতীয় বাহিনীর পরিচালিত চারদিনব্যাপী সামরিক অভিযানের নাম অপারেশন সিঁদুর। এই অভিযানের পরিপ্রেক্ষিতে আজ সোমবার (১২ মে) রাতে জাতির উদ্দেশে ভাষণ দেবেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। স্থানীয় সময় রাত ৮টায় সম্প্রচারিত এই ভাষণে সাম্প্রতিক সংঘাত ও ভারতের অবস্থান তুলে ধরবেন তিনি। সূত্র জানিয়েছে, এটি হবে যুদ্ধবিরতির পর তাঁর প্রথম জনসম্মুখে বক্তব্য।
গত ২২ এপ্রিল জম্মু-কাশ্মীরের পেহেলগামে বন্দুকধারীদের হামলায় ২৫ ভারতীয় এবং এক নেপালি নাগরিক নিহত হন। ওই ঘটনায় পাকিস্তানের সম্পৃক্ততার অভিযোগ তুলে ভারত ৭ মে থেকে সীমান্ত পেরিয়ে অভিযান শুরু করে, যার নাম দেওয়া হয় ‘অপারেশন সিঁদুর’। ভারত দাবি করেছে, অভিযানে পাকিস্তান ও পাকিস্তান-অধিকৃত কাশ্মীরের নয়টি স্থানে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালানো হয়, যেখানে অন্তত ১০০ জন সন্ত্রাসী, যারা জইশ-ই-মোহাম্মদ ও লস্কর-ই-তৈয়বার সদস্য, নিহত হয়েছেন।
জবাবে পাকিস্তানও ‘বুনইয়ান-উন-মারসুস’ নামের প্রতিরোধমূলক সামরিক অভিযান চালায়। ইসলামাবাদের দাবি, তারা ভারতের অন্তত ২৬টি সামরিক স্থাপনায় হামলা চালিয়েছে। দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা দ্রুত তীব্র হয়ে ওঠে।
শেষ পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় শনিবার (১০ মে) উভয় দেশ যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এক্স-এ দেওয়া পোস্টে জানান, “ভারত ও পাকিস্তান অবিলম্বে পুরোপুরি যুদ্ধবিরতিতে রাজি হয়েছে। শুভবুদ্ধির প্রয়োগে উভয় দেশ যে সিদ্ধান্তে পৌঁছেছে, তা প্রশংসনীয়।”
যুদ্ধবিরতি ঘোষণার পর ভারতের কেন্দ্রীয় সরকার নিশ্চিত করে, শনিবার বিকেল ৫টা থেকে তিন বাহিনী—সেনা, নৌ ও বিমান—পাকিস্তানের দিকে সব ধরনের গুলি চালানো বন্ধ রেখেছে। তবে চুক্তির কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই উভয় পক্ষ একে অপরের বিরুদ্ধে যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের অভিযোগ তোলে।
প্রধানমন্ত্রী মোদির ভাষণ ঘিরে দেশজুড়ে কৌতূহল ও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ভাষণে ভারত পরবর্তী অবস্থান ও কূটনৈতিক কৌশলের দিকনির্দেশনা দিতে পারেন। পরিস্থিতির অবনতি রোধে আন্তর্জাতিক মহলও ভারতের এই ভাষণের দিকে নজর রাখছে।
প্রকাশক ও সম্পাদক- আলি আবরার । নিরালা, খুলনা থেকে প্রকাশিত