খুলনা(০৭ সেপ্টেম্বর)
র্যাবের হাতে গ্রেপ্তার হওয়া আরমান বাহিনীর প্রধান আরমান ওরফে আরমিন ওরফে দিপুর (৪৫) কাছ থেকে একটি বিদেশি পিস্তল, দুইটি ওয়ান শুটার গান ও ১২ রাউন্ড তাজা গুলি উদ্ধার করেছে র্যাব। গতকাল রবিবার নগরীর দৌলতপুর ও ফুলবাড়ি গেট এলাকার বিভিন্নস্থানে অভিযান চালিয়ে এ অস্ত্র ও গুলি উদ্ধার করা হয়। এর আগে তাকে ফরিদপুর জেলার বোয়ালমারি উপজেলা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়।
আজ সোমবার খুলনা র্যাব কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এক সংবাদ সম্মেলনে র্যাব-৬ এর উপ-অধিনায়ক মেজর নাজমুল ইসলাম বলেন, দীর্ঘ দিন ধরে আমরা তাকে খুঁজছিলাম। বাহিনীর প্রধান আরমান ওরফে আরমিন ওরফে দিপু নগরীর দৌলতপুর, খালিশপুর, আড়ংঘাটা এবং দিঘলিয়াসহ আশপাশ এলাকার মানুষের কাছে আতঙ্কের নাম ছিল।
খুলনা নগরীর সন্ত্রাসীদের ধর পাকড় এবং একাধিক অভিযানের ফলে পরিবারের সদস্যদের নিয়ে ফরিদপুর জেলা বোয়ালমারিতে অবস্থান করে। বিভিন্ন সোর্স মারফত সংবাদ পেয়ে র্যাব সেখানে অভিযান চলিয়ে দুপুরে গ্রেপ্তার করে।
তার দেওয়া তথ্য মতে র্যাব খানজাহান আলী থানার জাব্দিপুর এলাকার জাহাঙ্গীরের বাড়ির পাশে টিনের একটি ঘরের মধ্য ইটের ইস্তুপের মধ্য থেকে বিদেশি পিস্তল ও দৌলতপুর থানার কার্তিককুল এলাকার একটি ঘেরের টোং ঘরের ভেতর থেকে দুইটি ওয়ান সুটার গান ও ১২ রাউন্ড গুলি উদ্ধার করা হয়। এছাড়া তার কাছ থেকে তিনটি মোবাইল ও একটি পকেট রাউটার উদ্ধার করা হয়।
র্যাবের এ কর্মকর্তা আরও জানান, চলতি বছরের ১৭ জুন দৌলতপুর একটি মসজিদে প্রবেশ করে দুই মুসল্লির ওপর হামলার ঘটনায় নিজের সম্পৃক্ততার কাথা তাদের কাছে স্বীকার করেছে সে। তার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী দৌলতপুর ও আড়ংঘাটা এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে একটি সক্রিয়া সন্ত্রাসী গ্রুপের সাথে জড়িত ছিল।
যেভাবে বাহিনী গড়ে তোলে আরমান
একাধিক গেয়েন্দা সূত্র জানায় খুলনার শীর্ষ সন্ত্রাসী হয়ে ওঠা আরমান ওরফে আরমিন অপর সন্ত্রাসী হুমায়ুন কবীর হুমার পিকআপ চালক ছিলেন। পিকআপে করে তিনি বিভিন্নস্থানে মালামাল পৌছে দিতেন। একটি তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে স্থানীয় একটি গ্রুপের সাথে দ্বন্দ্বে জড়িয়ে পড়ে সে। তার সাহস আর বিশ^স্ততার কারণে তাকে বাহিনী প্রধানের সেকেন্ড ইন কমান্ড করা হয়। এর পর তাকে আর পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি।
সূত্র আরো জানায়, পরবর্তীতে তাদের উভয়ের মধ্যে বিশ^স্ততার ঘাটতি দেখা দেয়। এতে তারা দুই মেরুতে বিভাক্ত হয়ে পড়ে। নিজেই গড়ে তোলেন আলাদা বাহিনী এবং বাহিনী প্রধান হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেন আরমান।
সূত্র জানায়, আরমান ও হুমা বাহিনী প্রধানের দ্বন্দ্বের কারণে দৌলতপুর, খালিশপুর, আড়ংঘাটা ও দিঘলিয়া এলাকায় একাধিক হত্যাকান্ড সংগঠিত হয়। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী নড়েচড়ে বসে এবং একের পর এক সন্ত্রাসীকে খুলনা এবং খুলনার বাইরে থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। গত রবিবার গোপন সংবাদের ভিত্তিতে তাকে ফরিদপুর জেলার বোয়ালমারী উপজেলা থেকে গ্রেপ্তার করে র্যাব-৬ খুলনার সদস্যরা।
আরমান বাহিনী এলাকার আধিপাত্য বিস্তার, চাঁদাবাজি, ভয়ভীতি প্রদর্শণ করে মানুষের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি করত বলে তার বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে। তার গ্রেপ্তারের মাধ্যমে আরমান বাহিনীর সন্ত্রাসী কর্মকান্ড, চাদাবাজি ও আধিপত্য বিস্তারের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের পথ আরও সুগম হয়েছে।
গত বছর (২০২৫) ৩০ নভেম্বর খুলনার আদালতের প্রধান ফটকের সামনে প্রকাশ্য দিবালোকে গুলি ও কুপিয়ে হত্যা করা হয় ফজলে রাব্বি রাজন ও হাসিব হাওলাদার নামে দুই সন্ত্রাসীকে। এই হত্যাকান্ডের দুই দিন আগে কারাগার থেকে মুক্তি পান আরমান। এই জোরা হত্যা মামলায় আরমানকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হতে পারে বলে পুলিশের একটি সূত্র জানায়।
তার বিরুদ্ধে দৌলতপুর থানায় হত্যাসহ একাধিক মামলা রয়েছে বলে র্যাব ও পুলিশ সূত্রে জানাগেছে।


