
সেন্টার ফর পলিসি ডায়লগের (সিপিডি) সম্মাননীয় ফেলো ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক অধ্যাপক ড. রওনক জাহান বলেছেন, নির্বাচন ছাড়া কোনো বিকল্প নেই। দেশের মানুষ নির্বাচন চায়। আসন্ন নির্বাচন নিয়ে কোনো অনিশ্চয়তা নেই। জনগণ একটি সুষ্ঠু নির্বাচনের অপেক্ষায় আছে। বিগত তিনটি নির্বাচন মোটেই গ্রহণযোগ্য ছিলো না। যেহেতু এবারের নির্বাচনে একটি বড় দল অংশগ্রহণ করতে পারছে না। তারা নির্বাচনকে বিতর্কিত করার চেষ্টা করতে পারে। আমাদের নির্বাচনে অন্য দেশের হস্তক্ষেপ গ্রহণযোগ্য নয়। রাজনৈতিক দলগুলো এমন সুযোগ দিবে না; যাতে অন্য কেউ আমাদের নির্বাচনে হস্তক্ষেপ করতে পারে।
আজ শুক্রবার বিকেলে রাজধানীর এফডিসিতে ‘ডিবেট ফর ডেমোক্রেসি’র উদ্যোগে নির্বাচনী বিতর্ক প্রতিযোগিতার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
অধ্যাপক রওনক জাহান বলেন, নির্বাচনে হারজিত থাকবেই। অথচ আমাদের বড় সমস্যা হলো, কোনো দলই নির্বাচনে হারতে চায় না। বর্তমানে সামাজিক পরিবেশ কিছুটা অসহিষ্ণু, যা নির্বাচনের জন্য প্রতিকূল। আসন্ন নির্বাচনে সহিংসতার ভয় আছে। তবে সহিংসতা পরিহারে রাজনৈতিক দলগুলোকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে। নির্বাচন কমিশন, প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে পূর্বপ্রস্তুতি নিতে হবে। পাশাপাশি অধিকার আদায়ে নাগরিকদের সার্বক্ষণিক নজরদারি বজায় রাখতে হবে।
সভাপতির বক্তব্যে ডিবেট ফর ডেমোক্রেসির চেয়ারম্যান হাসান আহমেদ চৌধুরী কিরণ বলেন, নির্বাচনী প্রচার-প্রচারণাকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে সংঘাত কোনোভাবেই কাম্য নয়। সম্প্রতি নির্বাচনকে কেন্দ্র করে বিএনপি ও জামায়াতের সমর্থকদের সংঘর্ষ রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা উসকে দিচ্ছে। এতে নির্বাচন বানচাল করতে তৎপর দেশি-বিদেশি শক্তি সক্রিয় হওয়ার সুযোগ পাবে। নির্বাচনের প্রচার প্রচারণায় উৎফুল্লতা যাতে বিষাদে পরিণত না হয় তার জন্য রাজনৈতিক দল ও প্রার্থীদের সতর্ক থাকতে হবে। ইতোমধ্যে আমরা দেখছি নির্বাচনকে সামনে রেখে ঢাকাকে চাপে রাখতে বিভিন্ন তৎপরতা চালাচ্ছে প্রতিবেশী রাষ্ট্র। ভারতে আশ্রয় নেওয়া পতিত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে প্রকাশ্যে আনার সুযোগ করে দিচ্ছে দিল্লি। যা দু-দেশের জনগণের মধ্যে সম্পর্কের চিড় ধরাচ্ছে। এতে স্থিতিশীলতা নষ্ট হওয়ার শঙ্কা তৈরি হতে পারে।
‘আসন্ন গণভোট ও সংসদ নির্বাচন সুষ্ঠু হলেই গণতন্ত্র সুরক্ষিত হবে’ শীর্ষক নির্বাচনী বিতর্কের উদ্বোধনী প্রতিযোগিতায় বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব বিজনেস অ্যান্ড টেকনোলজির (বিইউবিটি) বিতার্কিকদের পরাজিত করে ইডেন মহিলা কলেজের বিতার্কিকরা বিজয়ী হয়। প্রতিযোগিতায় বিচারক ছিলেন, অধ্যাপক আবু মোহাম্মদ রইস, রোকেয়া পারভীন জুই, অধ্যাপক ড. তাজুল ইসলাম চৌধুরী তুহিন, সাংবাদিক মাইদুর রহমান রুবেল, সাংবাদিক সাইদুর রহমান। প্রতিযোগিতা শেষে অংশগ্রহণকারী দলকে ট্রফি, ক্রেস্ট ও সনদপত্র প্রদান করা হয়।
প্রকাশক ও সম্পাদক- আলি আবরার । নিরালা, খুলনা থেকে প্রকাশিত