বাংলাদেশের সকল রাজনৈতিক দলের সঙ্গে যোগাযোগ করে যুক্তরাষ্ট্র, সে দল ক্ষমতায় থাকুক আর না থাকুক। সকল দলের সঙ্গে যোগাযোগে মার্কিনিদের দীর্ঘ ইতিহাস রয়েছে বলে জানিয়েছেন ঢাকায় নবনিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসেন।
বুধবার বিকেলে রাজধানীর ইএমকে সেন্টারে কয়েকজন সাংবাদিকের সঙ্গে আলাপচারিতায় এ কথা বলেন তিনি।
রাষ্ট্রদূত বলেন, বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিসরে আমার ২০ বছরের পরিচিতি ও বন্ধু রয়েছে। ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে যে দলই জয়ী হয়ে সরকার গঠন করুক না কেন, আমরা তাদের সঙ্গে কাজ করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
বুধবার বিকেলে রাষ্ট্রদূত হিসেবে নিয়োগের পর প্রথম কয়েকজন সাংবাদিকের সঙ্গে আনুষ্ঠানিকভাবে আলাপ করেন নবনিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসেন।
আপনি যেহেতু এর আগে ঢাকায় দায়িত্ব পালন করেছেন, আপনি বাংলাদেশকে ভালোভাবে জানেন। জুলাই গণঅভ্যুত্থান পরিবর্তী বাংলাদেশ নিয়ে আপনার মূল্যায়ন কী– জানতে চাইলে ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসেন বলেন, আমি প্রথমবার বাংলাদেশ সফর করেছিলাম ২০০৪ সালের ফেব্রুয়ারিতে। তখন
আমি একজন পর্যটক হিসেবে আমাদের মার্কিন দূতাবাসে কিছু বন্ধুর সঙ্গে দেখা করতে এসেছিলাম। বিভিন্ন স্থানে ঘুরে বেড়িয়েছিলাম, নৌকা ভ্রমণ করেছিলাম। ঢাকায়ও বেশ কিছু জায়গা ঘুরেছি। আমার মনে আছে, তখন গুলশানে কেবল একটি উঁচু ভবন ছিল।
তিনি বলেন, বাংলাদেশে আমার দীর্ঘ ইতিহাস রয়েছে। আমি ২০০৫ থেকে ২০০৭ সাল পর্যন্ত মার্কিন দূতাবাসের ডেস্ক অফিসার হিসেবে কাজ করেছি। আমার বিএনপি সরকার, ১/১১ এর তত্ত্বাবধায়ক সরকার এবং আওয়ামী লীগ সরকারের সঙ্গে কাজ করার অভিজ্ঞতা রয়েছে, আর এখন এই অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সঙ্গে।
রাষ্ট্রদূত বলেন, ফেব্রুয়ারিতে যে সরকারই নির্বাচিত হোক না কেন, তাদের সঙ্গে কাজ করার জন্য অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছি। একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় তুলে ধরতে চাই যে যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের নির্বাচনে কোনও পক্ষ নেয় না। কে বাংলাদেশের পরবর্তী নির্বাচিত সরকার হবে, তা বাংলাদেশি জনগণের সার্বভৌম সিদ্ধান্ত এবং কেবল বাংলাদেশি জনগণই তা ঠিক করবে। অন্য কোনো দেশের এই বিষয়ে কোনো বক্তব্য নেই। এটি বাংলাদেশের জনগণের সার্বভৌম অধিকার যে তারা নির্বাচনে গিয়ে ভোট দেবে নতুন সরকার গঠনের জন্য।
তিনি বলেন, বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ নিয়ে আমি আশাবাদী। ২০২৪ সালের আগস্টের পর থেকে আমরা এখানে ব্যাপক পরিবর্তন দেখেছি এবং আমি মনে করি আমরা পরিবর্তন দেখতে থাকব।
ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসেন বলেন, বাংলাদেশি জনগণ কথা বলেছে, ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে বাংলাদেশি জনগণ আবার মতামত দেওয়ার সুযোগ পাবে। আমি মনে করি যুক্তরাষ্ট্র-বাংলাদেশ সম্পর্কে উন্নতির অনেক সম্ভাবনা রয়েছে। এমন অনেক ক্ষেত্র রয়েছে যেখানে আমরা একসঙ্গে কাজ করতে পারি, অর্থনৈতিক, ব্যবসা, বাণিজ্যে এবং নিরাপত্তায়।
তিনি বলেন, আমি বাংলাদেশের মানুষের সঙ্গে কাজ করার জন্য অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছি। আর আমিও আপনাদের মতোই অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছি, কে নির্বাচনে জিতবে এবং আমরা একসঙ্গে কী করতে পারি, তা দেখার জন্য।


