খুলনা প্রতিনিধি:
খুলনা মহানগরীতে চাঞ্চল্যকর মো. ইসমাইল শেখ (৩৫) হত্যা মামলার রহস্য উদঘাটন করেছে খুলনা সদর থানা পুলিশ। এ ঘটনায় ১ নম্বর এজাহারনামীয় আসামিসহ মোট তিনজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এ সময় তাদের কাছ থেকে একটি বিদেশি পিস্তল, গুলি, কার্তুজ এবং একটি নির্দিষ্ট গ্যাংয়ের লোগোসংবলিত পোশাক ও গুরুত্বপূর্ণ আলামত উদ্ধার করা হয়।
হত্যাকাণ্ডের বিবরণ ও অভিযান
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত ৩১ জুলাই ২০২৬ খ্রিষ্টাব্দে রাত আনুমানিক ১২টা ৫ মিনিটে খুলনা সদর থানাধীন মহিরবাড়ি বড় খালপাড় ব্রিজের পশ্চিম পাশে মো. ইসমাইল শেখকে গুলি ও ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করা হয়। ঘটনার পর পুলিশ তাৎক্ষণিকভাবে ঘটনাস্থলে পৌঁছে আইনগত প্রক্রিয়া শুরু করে এবং আসামিদের গ্রেফতারে সাঁড়াশি অভিযান চালায়।
এরই ধারাবাহিকতায়, গত ২৩ আগস্ট ২০২৬ খ্রিষ্টাব্দে বিকেল ৪টায় মামলার প্রধান আসামি মো. ফারদিন খানকে (২৪) গ্রেফতার করা হয়। পরবর্তীতে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে লবণচরা থানা এলাকায় অভিযান চালিয়ে হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত অপর দুই আসামি মো. রায়হান মোল্লা (২৪) এবং মো. সাইফুল হাওলাদারকে (২৪) গ্রেফতার করা হয়।
উদ্ধারকৃত আলামতসমূহ
অভিযানকালে আসামিদের কাছ থেকে নিম্নলিখিত গুরুত্বপূর্ণ আলামত উদ্ধার করা হয়:
- অস্ত্র ও গোলাবারুদ: ১টি বিদেশি পিস্তল, ম্যাগাজিনসহ ৩ রাউন্ড গুলি এবং ৩টি তাজা শর্টগানের কার্তুজ।
- সিম কার্ড: বিভিন্ন মোবাইল অপারেটরের ৯টি সিমকার্ড।
- নির্দিষ্ট গ্যাংয়ের পোশাক: ‘B-COMPANY’ গ্রুপের সদস্যদের ব্যবহৃত ৫টি গেঞ্জি (যার সামনে ইংরেজিতে ‘B-COMPANY’ ও সিংহের লোগো এবং পেছনে ‘দোয়া মে ইয়াদ রাখনা, সৌজন্যে নবাব’ লেখা রয়েছে)।
- অন্যান্য: কপালে ব্যবহারের উপযোগী ৩টি সার্চলাইট, ১টি কালো রঙের কলেজ ব্যাগ এবং ১টি ছোট চামড়ার পার্স।
আসামিদের অপরাধের রেকর্ড
গ্রেফতারকৃতদের বিরুদ্ধে এর আগেও গুরুতর অপরাধের একাধিক মামলা রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ:
- মো. ফারদিন খান: হত্যা ও অস্ত্রসহ মোট ৭টি মামলা।
- মো. রায়হান মোল্লা: ১টি হত্যা মামলা।
- মো. সাইফুল হাওলাদার: ১টি অস্ত্র মামলা।
বর্তমান আইনগত পদক্ষেপ
উদ্ধারকৃত অস্ত্র ও গুলির ঘটনায় লবণচরা থানায় একটি পৃথক অস্ত্র মামলা দায়ের করা হয়েছে। পাশাপাশি, হত্যা মামলায় গ্রেফতারকৃত আসামিদের প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া শেষে বিজ্ঞ আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আসামিরা হত্যাকাণ্ডের বিষয়ে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিয়েছে।
খুলনা মহানগর পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এই হত্যাকাণ্ডের নেপথ্যের পরিকল্পনা, অন্যান্য সহযোগী ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনতে তদন্ত কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। জননিরাপত্তা ও আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় কেএমপি’র এমন অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।


