নিজস্ব প্রতিবেদক, খুলনা
খুলনায় ছিনতাইয়ের সময় পুলিশ পরিদর্শক শাহ আলমকে ধারালো চাপাতি দিয়ে কুপিয়ে গুরুতর জখম করার চাঞ্চল্যকর মামলার মূল পরিকল্পনাকারী ও প্রধান আসামি মিরাজ ওরফে ‘স্পিকার মিরাজ’ এবং তার সহযোগী ইব্রাহীমকে গ্রেফতার করেছে এসআরবি-৬, স্পেশাল কোম্পানি।
আজ ১৫ অক্টোবর ২০২৬ তারিখে এসআরবি-৬, স্পেশাল কোম্পানির একটি চৌকস আভিযানিক দল গোপন সংবাদের ভিত্তিতে কেএমপি’র সোনাডাঙা থানাধীন কলাবাগান এবং খুলনা সদর থানাধীন টুটপাড়া এলাকায় পৃথক দুটি অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেফতার করে।
গ্রেফতারকৃতরা হলেন— ১. মিরাজ ওরফে স্পিকার মিরাজ (৩৯), পিতা: ফারুক মিয়া, সাং: হাজী মহসিন রোড এবং ২. মো. ইব্রাহিম গাজী (৪২), পিতা: মৃত আকবর আলী, সাং: সরকারপাড়া টুটপাড়া, উভয় থানা: খুলনা সদর, জেলা: খুলনা।
হামলার ঘটনার বিবরণ
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, গত ৯ অক্টোবর ২০২৬ তারিখে খুলনা জেলার সার্কেল অফিসে কর্মরত পুলিশ পরিদর্শক (নিরস্ত্র) শাহ আলম (৪৩) রিকশযোগে পুলিশ ক্লাবে যাওয়ার পথে খুলনা মহানগরীর সদর থানাধীন কলেজিয়েট স্কুলের সামনে পৌঁছালে তিনজন অজ্ঞাতনামা ছিনতাইকারী তার পথরোধ করে। এ সময় ছিনতাইকারীরা তার টাকা ও মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করে এবং ধারালো চাপাতি দিয়ে তার দুই হাতের কবজির উপরে কুপিয়ে গুরুতর জখম করে।
ঘটনার পর খুলনা থানার অফিসার ইনচার্জ ও সোনাডাঙ্গা থানার মোবাইল টহলের সহায়তায় তাৎক্ষণিকভাবে তাকে উদ্ধার করে প্রথমে সিটি মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে এবং পরবর্তীতে অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। অবস্থার অবনতি হলে সার্জারি বিভাগের চিকিৎসকদের পরামর্শে তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকার এভারকেয়ার হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। বর্তমানে তিনি সেখানেই চিকিৎসাধীন রয়েছেন। এ ঘটনায় জেলা গোয়েন্দা শাখায় কর্মরত এসআই (নিঃ) মো. আওয়াল হোসেন বাদী হয়ে খুলনা সদর থানায় অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে একটি মামলা দায়ের করেন।
অপরাধের পূর্ব ইতিহাস ও প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ
পুলিশ জানায়, ধৃত আসামি মিরাজ ওরফে স্পিকার মিরাজের বিরুদ্ধে কেএমপি’র আড়ংঘাটা ও সদর থানায় একাধিক গুরুতর আঘাতসহ চুরি এবং ডাকাতির মামলার রেকর্ড রয়েছে। এছাড়া সহযোগী আসামি ইব্রাহিম গাজীর বিরুদ্ধেও খুলনা সদর থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা রয়েছে।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেফতারকৃত মিরাজ ও ইব্রাহিম উভয়েই এই ন্যাক্কারজনক ঘটনার সাথে নিজেদের সরাসরি সম্পৃক্ত থাকার কথা স্বীকার করেছেন।
এসআরবি ফোর্সেস সূত্রে জানানো হয়েছে, নিয়মিত মামলার আসামিসহ সাজাপ্রাপ্ত ও ওয়ারেন্টভুক্ত অপরাধী, অস্ত্রধারী সন্ত্রাসী, মাদক কারবারি এবং চাঞ্চল্যকর হত্যা বা ধর্ষণের ঘটনায় জড়িতদের আইনের আওতায় আনতে তাদের এই ধরনের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য গ্রেফতারকৃতদের কেএমপি’র খুলনা সদর থানায় হস্তান্তরের প্রক্রিয়া চলছে।


