বাণিজ্য মন্ত্রণালয়াধীন জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের খুলনা বিভাগীয় ও খুলনা বিভাগের আওতাধীন বিভিন্ন জেলা কার্যালয় কতৃক ২৩ অক্টোবর ২০২৫ তারিখ ভোক্তা অধিকারের ১০ টি টিম তদারকিমূলক অভিযান পরিচালনা করে। এসময়ে নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্য সামগ্রী, চাল, ভোজ্য তেল, গ্যাস, ঔষধ, ডায়াগনস্টিক, আলু, দেশি পেয়াজ, সবজি, মুরগির বাজার ও ডিমের বাজার দর ও ক্রয় ভাউচার যাচাই করা হয় এবং সকল ব্যবসায়ীকে সরকার নির্ধারিত মূল্যে পণ্য বিক্রির নির্দেশনা দেয়া হয়।
তদারকিকালে সরকার নির্ধারিত মূল্যে নিত্য প্রয়োজনীয় পণ্য বিক্রির জন্য ব্যবসায়ীদের সতর্ক করা হয় এবং কেউ সরকার নির্ধারিত মূল্যের থেকে বেশি মূল্য নিলে আইনানুগ কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের হুশিয়ারি দেওয়া হয়। অভিযান কালে খুলনা বিভাগের বিভিন্ন জেলায় বাজার তদারকি ও জরিমানা করা হয়।
খুলনা বিভাগীয় কার্যালয়ের উপপরিচালক জনাব মোহাম্মদ সেলিম এর নেতৃত্বে খুলনা মহানগরীর সোনাডাঙ্গা থানার গোবরচাকা বাজার এলাকায় অভিযান চালিয়ে মেয়াদ উত্তীর্ণ পণ্য সংরক্ষণ ও বিক্রয় করার অপরাধে নাসির স্টোরকে ৫ হাজার টাকা জরিমানা আরোপ করা হয়। এসময় ১টি প্রতিষ্ঠানকে মোট ৫ হাজার টাকা জরিমানা আরোপ ও আদায় করা হয়
খুলনা বিভাগীয় কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক জনাব প্রনব কুমার প্রামাণিকের নেতৃত্বে খুলনা মহানগরীর সোনাডাঙ্গা থানার গোবর চাকা এলাকায় অভিযান চালিয়ে মূল্য তালিকা প্রদর্শন না করার অপরাধে সোহেল স্টোরকে ৫ শত টাকা, অবৈধ প্রক্রিয়ায় খাদ্য উৎপাদন করার অপরাধে টোকন হোটেল কে ২ শত টাকা এবং জয়নব স্টোরকে পণ্যের মোড়ক যথাযথ ব্যবহার না করার অপরাধে ১ হাজার ৫ শত টাকা জরিমানা করা হয়। এ সময় মোট ৩ টি প্রতিষ্ঠান-কে ২ হাজার ২ শত টাকা জরিমানা আরোপ ও আদায় করা হয়।
মাগুরা জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক জনাব মোঃ সজল আহম্মেদ এর নেতৃত্বে
সদর উপজেলার জামরুলতলা বাজার এলাকায় অভিযান চালিয়ে মেসার্স ভাই ভাই স্টোরকে ভেজাল পণ্য বিক্রয় ও মেয়াদ উত্তীর্ণ পণ্য সংরক্ষণ ও বিক্রয় করার অপরাধে ৩০ হাজার টাকা এবং মেসার্স মামুন স্টোরকে ভেজাল পণ্য বিক্রয় করার অপরাধে ৭০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। এ সময় মোট ২ টি প্রতিষ্ঠানকে মোট ১ লক্ষ টাকা জরিমানা আরোপ ও আদায় করা হয় ।
বাগেরহাট জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক শরিফা সুলতানা এর নেতৃত্বে সদর উপজেলার কেবি বাজার এলাকায় অভিযান চালিয়ে মীম এন্টারপ্রাইজকে অবৈধ প্রক্রিয়ায় পণ্য উৎপাদন করার অপরাধে ৮ হাজার টাকা জরিমানা আরোপ করা হয়। এ সময় মোট ০৮ টি প্রতিষ্ঠানকে ৮ হাজার টাকা জরিমানা আরোপ ও আদায় করা হয় ।
সাতক্ষীরা জেলা কার্যালয়ে সহকারী পরিচালক জনাব মোঃ মেহেদী হাসান তানভীর এর নেতৃত্বে সদর উপজেলার ঝাউডাঙ্গা বাজার এলাকায় অভিযান চালিয়ে সাজঘর কে পণ্যের মোড়ক যথাযথ ব্যবহার না করার অপরাধে ১০ হাজার টাকা জরিমানা আরোপ করা হয়। এ সময় ০১ টি প্রতিষ্ঠানকে মোট ১০ হাজার টাকা জরিমানা আরোপ ও আদায় করা হয়।
যশোর জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক জনাব মোঃ সেলিমুজ্জামানের নেতৃত্বে সদর উপজেলার চৌগাছা ও রেলগেট সড়কএলাকায় অভিযান চালিয়ে কমলা আইসক্রিম কে অবৈধ প্রক্রিয়ায় পণ্য উৎপাদন করা ও মেয়াদ উত্তীর্ণ পণ্য সংরক্ষণ ও বিক্রয় করার অপরাধে ১ লক্ষ টাকা এবং আফি গোলপাটা হোটেলকে ২ হাজার টাকা জরিমানা আরোপ করা হয়। এসময় ০২ টি প্রতিষ্ঠানকে ১ লক্ষ ২ হাজার টাকা জমিমানা আরোপ ও আদায় করা হয়।
ঝিনাইদহ জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক জনাব নিশাত মেহের এর নেতৃত্বে কালিগঞ্জ উপজেলার বারোবাজার এলাকায় অভিযান চালিয়ে চয়ন ট্রেডার্সকে ধার্যকৃত মুল্যের অধিক মূল্যে পণ্য বিক্রয় করার অপরাধে ১০ হাজার টাকা এবং একই অপরাধে মেসার্স কৃষি ভান্ডারকে ১০ হাজার টাকা জরিমানা আরোপ করা হয়। এসময় মোট ০২ টি প্রতিষ্ঠানকে ১০ হাজার টাকা জরিমানা আরোপ ও আদায় করা হয় ।।
চুয়াডাঙ্গা জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক জনাব মোহাম্মদ মামুনুল হাসান এর নেতৃত্বে দামুড়হুদা উপজেলার দশমী বাজার এলাকায় অভিযান চালিয়ে মেসার্স মিষ্টি ভান্ডারকে অবৈধ প্রক্রিয়ায় পণ্য উৎপাদন করার অপরাধে ৩০হাজার টাকা জরিমানা আরোপ করা হয়। এসময় ০১ টি প্রতিষ্ঠানকে ৩০ হাজার টাকা জরিমানা আরোপ ও আদায় করা হয়।
খুলনা জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক জনাব ওয়ালিদ বিন হাবিব এর নেতৃত্বে খুলনা মহানগরীর লবনচরা থানার রুপসা ব্রিজ এলাকায় অভিযান চালিয়ে মেয়াদ উত্তীর্ণ পণ্য সংরক্ষণ ও বিক্রয় করার অপরাধে আল্লাহর বান্দার চটপটি কে ১ হাজার ৫ শত টাকা এবং এনএফসি কে ১ হাজার ৫ শত টাকা জরিমানা আরপ করা হয়। এ সময় মোট ০২ টি প্রতিষ্ঠান কে ৩ হাজার টাকা জরিমানা আরোপ ও আদায় করা হয়।
কুষ্টিয়া জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক জনাব মোঃ মাসুম আলী এর নেতৃত্বে সদর উপজেলার ঝাউদিয়া বাজার এলাকায় অভিযান চালিয়ে যথাযথ পন্য সরবরাহ না করা ও মেয়াদ উত্তীর্ণ ঔষধ সংরক্ষণ ও বিক্রয় করার অপরাধে মন্ডল ড্রাগস হাউসকে ৫ হাজার টাকা এবং মেসার্স খন্দকার মেডিসিন প্লাজা কে ৩০ হাজার টাকা জরিমানা আরোপ করা হয়। এ সময় মোট ০১ টি প্রতিষ্ঠান-কে ৩ হাজার টাকা জরিমানা আরোপ ও আদায় করা হয়।
অভিযানে ১৭ টি প্রতিষ্ঠানকে ৩ লক্ষ ১৫ হাজার ২ শত টাকা জরিমানা আরোপ ও আদায় করা হয় ।
অভিযান চলাকালে ব্যবসায়ীদেরকে সচেতন করার পাশাপাশি বাধ্যতামূলকভাবে মূল্য তালিকা দৃশ্যমান স্থানে প্রদর্শন ও ক্রয়-বিক্রয় ভাউচার সংরক্ষণ এবং নির্ধারিত মূল্যে পণ্য বিক্রি করার নির্দেশনা দেয়া হয়।
জনস্বার্থে অভিযান অব্যাহত থাকবে।


