নিজস্ব প্রতিবেদক | খুলনা
০২ নভেম্বর ২০২৬
খুলনা বিভাগের বিভিন্ন জেলা ও মহানগরীতে বাজার তদারকি এবং সেবার মান নিশ্চিতে সাতটি পৃথক আভিযানিক টিম নিয়ে সাঁড়াশি অভিযান পরিচালনা করেছে জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর। সোমবার দিনব্যাপী পরিচালিত এই অভিযানে মেয়াদোত্তীর্ণ পণ্য বিক্রি, খাদ্যে নিষিদ্ধ উপাদানের মিশ্রণ, মোড়কীকরণ বিধি লঙ্ঘন ও মূল্য তালিকা প্রদর্শন না করার অপরাধে বারোটি প্রতিষ্ঠানকে মোট তিরাশি হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের খুলনা বিভাগীয় কার্যালয়সহ কুষ্টিয়া, চুয়াডাঙ্গা, নড়াইল, যশোর ও ঝিনাইদহ জেলা কার্যালয়ের তদারকি টিমগুলো একযোগে এই অভিযান পরিচালনা করে।
অভিযানের অংশ হিসেবে খুলনা মহানগরীর সোনাডাঙ্গা এলাকার ডালমিল মোড়ে বিভাগীয় কার্যালয়ের উপপরিচালক মোহাম্মদ সেলিমের নেতৃত্বে অভিযান চালিয়ে মেয়াদোত্তীর্ণ পণ্য সংরক্ষণ ও বিক্রির দায়ে ‘হেয়ার লাইভ’কে পনেরো হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। এছাড়া সহকারী পরিচালক দিনারা জামানের নেতৃত্বে কেডিএ এভিনিউ এলাকায় একই অপরাধ ও যথাযথ সেবা বা পণ্য সরবরাহ না করায় ‘নিউ ফার্মল্যান্ড পোল্ট্রি এন্ড ফিসফিড’কে পাঁচ হাজার টাকা এবং ‘নিজাম’স ফিজিও থেরাপি সেন্টার’কে পনেরো হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।
অন্যান্য জেলার মধ্যে চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলা এলাকায় সহকারী পরিচালক মোহাম্মদ মামুনুল হাসানের নেতৃত্বে অভিযান চালিয়ে খাদ্যদ্রব্যে নিষিদ্ধ পণ্যের মিশ্রণ করার অপরাধে ‘টউকু ফল ভান্ডার’কে সর্বোচ্চ পঁচিশ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। অন্যদিকে কুষ্টিয়া ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় গেট বাজারে সহকারী পরিচালক মো. মাসুম আলীর নেতৃত্বে পরিচালিত অভিযানে মূল্য তালিকা প্রদর্শন না করায় ‘বিসমিল্লাহ হোটেল’ ও ‘আল্লাহর দান হোটেল’কে পাঁচশত টাকা করে, ‘নান্না বিরিয়ানি হাউজ’কে ছয় হাজার টাকা, ‘ইবি ফুসকা এন্ড চটপটি’কে দুই হাজার টাকা এবং ‘সপ্তডিঙ্গা জেনারেল স্টোর’কে দুই হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।
এছাড়া নড়াইল সদর উপজেলায় সহকারী পরিচালক শামীম হাসানের নেতৃত্বে পরিচালিত অভিযানে ওজনে কারচুপি ও খাদ্যে ভেজালের দায়ে ‘মেসার্স মেহেদী ফুড’কে চার হাজার টাকা, যশোরে সহকারী পরিচালক মো. সেলিমুজ্জামানের নেতৃত্বে ‘সবুজ মুরগী ঘর’কে পাঁচ হাজার টাকা এবং ঝিনাইদহে সহকারী পরিচালক নিশাত মেহেরের নেতৃত্বে ‘নোমান স্টোর’কে তিন হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।
অভিযান চলাকালে কর্মকর্তাগণ চাল, ভোজ্যতেল, ডিম, মুরগি, আলু, পেঁয়াজ, সবজি, গ্যাস, ওষুধ এবং ডায়াগনস্টিক সেন্টারের সেবামূল্য ও ক্রয় ভাউচার সরেজমিনে পরীক্ষা করেন। ব্যবসায়ীদের বাধ্যতামূলকভাবে দৃশ্যমান স্থানে মূল্য তালিকা প্রদর্শন, ক্রয়-বিক্রয় ভাউচার সংরক্ষণ এবং সরকার নির্ধারিত মূল্যে নিত্যপণ্য বিক্রির নির্দেশ দেওয়ার পাশাপাশি জনস্বার্থে এ ধরনের তদারকি অব্যাহত থাকবে বলে জানানো হয়।


