খুলনা (০৫ মে)
খুলনার তেরখাদা উপজেলায় প্রতিবন্ধী যুবক ইতুদুল ইসলাম ওরফে ইতু হত্যার দায়ে আসামি মো: জামিল আহম্মেদকে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদন্ড দিয়েছেন আদালত। পাশাপাশি তাকে ২০ হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরও ৬ মাসের বিনাশ্রম কারাদন্ড দেওয়া হয়। অপরদিকে এ মামলার আপর তিন আসামিকে খালাস দিয়েছেন আদালত।
রায় ঘোষণার সময় আসামি জামিল আহম্মেদ আদালতে উপস্থিত ছিলেন। আসামি তেরখাদা উপজেলার গাজীপুর গ্রামের বাসিন্দা শাহজাহান শেখের ছেলে।
খালাসপ্রাপ্ত অপর আসামিরা হলেন, শাহাজাহান শেখের ছেলে জাকির হোসনে এবং তার স্ত্রী লাকি বেগম ও তাদের ছেলে মো: আজিজুল শেখ।
আজ মঙ্গলবার খুলনার অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ প্রথম জিএম নাজমুস শাহাদাৎ এ মামলার রায় ঘোষণা করেন।
এজাহারের বরাদ দিয়ে ওই আদালতের বেঞ্চ সহকারী নজরুল ইসলাম জানান, জায়গা-জমি নিয়ে আসামিদের সাথে প্রতিবন্ধী ইতুর সাথে বিরোধ ছিল। এ বিরোধের জের ধরে গত ২০২০ সালের ২৮ এপ্রিল বিকেলে ৫টা ২৫ মিনিটের দিকে গরু বাঁধাকে কেন্দ্র করে ভিকটিমের সাথে আসামি জামিলের কথা কাটাকাটি হয়।
একই দিন বিকেল পৌনে ৬টার দিকে ইতু হুইল চেয়ারে করে বাড়ি থেকে বের হয়ে হাড়িখালি পুরাতন বাজার প্রতিবন্ধী অফিসের উদ্দেশ্যে রওনা হয়।
পথিমধ্যে হাসুয়া দিয়ে ইতুর ওপর হামলা চালায় জামিল আহমেদ। হাসুয়া দিয়ে শরীরের বিভিন্নস্থানে আঘাত করতে থাকে। ওই সময়ে খবর পেয়ে ইতুর বড়ভাই এগিয়ে এলে তাকেও আসামিরা মারপিট করে।
পরবর্তীতে তাকে উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
এ ঘটনায় নিহতের ভাই ঘটনার পরের দিন বাদী হয়ে তেরখাদা থানায় ৫জনকে আসামি করে একটি মামলা দায়ের করেন, যার নং ১০।
মামলার তদন্ত অফিসার থানার এসআই লিটন বিশ্বাস একই বছরের ৩১ আগস্ট ৪জনকে অভিযুক্ত করে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। একই বছরের ২৯ সেপ্টেম্বর সিনিয়র দায়রা জজ মশিউর রহমানের আদালতে চার্জ গঠন করা হয়।


