আলি আবরার
খুলনার কয়রা, পাইকগাছা, বটিয়াঘাটা ও দাকোপ উপজেলায় পানির স্তর বিশ ফুট নীচে নেমে গেছে। ফলে এই চার উপজেলায় বিশুদ্ধ খাবার পানির মারাত্মক সংকট দেখা দিয়েছে। এক দিকে প্রচন্ড গরম ও অপরদিকে খাবার পানির অভাবে সেখানকার মানুষদের নিদারুণ কষ্ট পোহাতে হচ্ছে। গত ৩-৬ মার্চ ঢাকায় অনুষ্ঠিত ডিসি সম্মেলনে এ এলাকায় পানি সংকটের দাবি তুলে ধরেছেন খুলনা জেলা প্রশাসক।
খোঁজ নিয়ে জানাগেছে-সুুন্দরবন সংলগ্ন শিবসা, ভৈরব, হাড়িয়া, কাজিবাছা, কপোতাক্ষ, শৈলমারী, হরিভদ্রা ও আত্রাই ভরাট হওয়ায় বিশুদ্ধ পানির উৎস নষ্ট হয়েছে।
এর পাশাপাশি কয়রা, পাইকগাছা, বটিয়াঘাটা ও ডুমুরিয়ায় বাগদা চিংড়ি আবাদের ফলে নোনা পানির আধিক্য দেখা দেওয়ায় পানির সংকট দেখা দেয়। পাইকগাছা উপজেলার গড়ইখালি, সোলাদানা, দেলুটি, লস্কর, হরিঢালী, লতা, চাঁদখালি, বটিয়াঘাটা উপজেলার সুরখালি, জলমা, বটিয়াঘাটা, কয়রা উপজেলার আমাদী, বাগালি ও মহেশ্বরীপুর ইউনিয়নে পানির সংকট দেখা দিয়েছে। মার্চ থেকে মে পর্যন্ত যে পরিমাণ বৃষ্টিপাত হয়েছে তাতে পানির স্তর পাওয়া যাচ্ছে না।
জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর, খুলনার উপ-সহকারী প্রকৌশলী সুমন কুমার রায় আমাদী, বাগালি ও মহারাজপুর ইউনিয়নের গভীর নলকূপ সফল না হওয়ার চিত্র তুলে ধরে বলেছেন, উত্তর বেদকাশী, দক্ষিণ বেদকাশী ইউনিয়নে বিশ শতাংশ গভীর নলকূপ স্থাপন সফল হয়েছে। কিন্তু নলকুপে পানি উঠছে না। তবে কিছু এলাকায় সামান্য পানি পাওয়া গেলেও তা লবনাক্ত। এসব এলাকার মানুষ বৃষ্টির পানির উপর নির্ভরশীল। সংকট নিরসনে নতুন কোনো উদ্যোগ নেই বলে তিনি জানান।
উপজেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশলী মোঃ আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ দাকোপ উপজেলার তিলডাঙ্গা, পানখালী, সুতারখালী, কামারখোলা, লাউডোব, কৈলাশগঞ্জ, বানিশান্তা ইউনিয়নে বছরের আট মাস পানির সংকটের বর্ণনা দিয়েছেন। তিনি বলেন, এলাকার মানুষের সংকট নিরসনে দশ বছর আগে ৪০ হাজার জল সংরক্ষণের ট্যাংকি সরবরাহ করা হয়েছে। তবে এখানকার বাজুয়া ও দাকোপ ইউনিয়নে গভীর নলকূপ সফল হয়েছে।
জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর, বটিয়াঘাটার উপ-সহকারী প্রকৌশলী রুনা আক্তার সুমি তিনটি ইউনিয়নে পানির স্তর ২৫ ফুট নীচে নামার তথ্য এ প্রতিবেদককে জানান। তিনি বলেন, এক হাজার মিলি গ্রাম লবণাক্ততার পানি পানের যোগ্য। তিনটি ইউনিয়নে লবণাক্ততার মাত্রা অনেক বেশি।
পাইকগাছা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ওয়াসিউজ্জামান চৌধুরী বলেন, এলাকার দেড় লাখ জনগোষ্ঠী সুষ্ঠু মৌসুমে খাবার পানির সংকটে ভোগে। শিবসা নদীর তীরবর্তী এলাকাবাসী কয়েক বছর বিশুদ্ধ পানির সংকটে ভুগছে। উপজেলার দেলুটি ও শামুকপোতায় বারো মাসই খাবার পানির সংকট থাকে।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের রেকর্ড অনুযায়ী চলতি মৌসুমে বড় মাপের বৃষ্টিপাত হয়নি। এপ্রিলে ৩৩ দশমিক ৭০ মিলি মিটার ও মে মাসে ৫০ মিলি মিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়। আশানুরূপ বৃষ্টি না হওয়ায় শুস্ক মৌসুমে পানির স্তর আরো নীচে নেমে গেছে।


