
খুলনা (১৮ ফেব্রুয়ারি)
মিল-কল কারখানা বন্ধ থাকায় খুলনা অর্থনৈতিকভাবে পিছিয়ে আছে। বিশেষ করে সরকারী পাটকল একের পর এক বন্ধ হয়ে যাওয়ায় এ অঞ্চলে বেকারত্বের সংখ্যা বেড়েছে। ফলে বন্ধ মিল-কল- কারখানা চালু ও আধুনিকায়নের মাধ্যমে পরিচালনার নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন খুলনা- ৩ আসনের নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য বিএনপির রকিবুল ইসলাম বকুল। বিএনপির কেন্দ্রীয় ছাত্র বিষয়ক সম্পাদক ও সংসদ সদস্য রকিবুল ইসলাম বকুল নির্বাচিত হওয়ার পর বন্ধ মিল-কল কারখানা চালুর বিষয়ে তার নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি পুনঃব্যক্ত করেছেন।
গত ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে রকিবুল ইসলাম বকুল ধানের শীষের প্রতীকে ৭৪ হাজার ৮৪৫ ভোট পেয়ে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। তার নিকটতম প্রার্থী দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের প্রার্থী মাহফুজুর রহমান পেয়েছেন ৬৬ হাজার ১০ ভোট। ৮ হাজার ৮৩৫ ভোটের ব্যবধানে বিজয়ী হন রকিবুল ইসলাম বকুল।
তিনি বলেন, খুলনার ঝিমিয়ে পড়া অর্থনীতিতে প্রাণ ফেরাতে এবং বেকারত্ব দূর করতে এখানে রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ অঞ্চলের (ইপিজেড) আদলে একটি অত্যাধুনিক শিল্প নগরী গড়ে তোলা হবে। খুলনার শিল্পাঞ্চল খ্যাত খালিশপুর ও দৌলতপুর এলাকার হারানো গৌরব ফিরিয়ে আনতে মহাপরিকল্পনা গ্রহণ করা হবে। একইসঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ থাকা রাষ্ট্রায়ত্ত ও ব্যক্তি মালিকানাধীন কলকারখানা গুলো পুনরায় চালুর উদ্যোগ নেওয়া হবে।
নির্বাচিত হওয়ার পর রকিবুল ইসলাম বকুল বলেন, “এই অঞ্চলের মানুষের প্রধান সমস্যা হলো কর্মসংস্থান এবং এই অভাব দূর করতে হলে পরিকল্পিত ও আধুনিক শিল্পায়নের কোনো বিকল্প নেই। তিনি বলেন, “খুলনার সোনালি অতীত ছিল এই কলকারখানা গুলো। এই অচলাবস্থা কাটাতে বন্ধ হয়ে যাওয়া জুট মিলসহ সকল কলকারখানা পুনরায় চালু করা হবে এবং আধুনিক প্রযুক্তির সমন্বয় ঘটিয়ে এসব মিলকে লাভজনক প্রতিষ্ঠানে রূপান্তর করা হবে।”
তিনি আরও বলেন, খুলনার ভৌগোলিক অবস্থান ও মোংলা বন্দরের বাণিজ্যিক সুবিধা কাজে লাগিয়ে এখানে বড় আকারের নতুন বিনিয়োগ আনা সম্ভব। ইপিজেডের আদলে শিল্প নগরী গড়ে তোলা হলে, দেশি-বিদেশি বিনিয়োগকারীরা খুলনার প্রতি আকৃষ্ট হবেন। যা পুরো দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের অর্থনৈতিক মানচিত্র বদলে দেবে। নগর জীবনে ফিরে আসবে কর্মচঞ্চলতা।
বকুল আরও বলেন, “অবহেলিত এই শিল্পাঞ্চলকে পুনরায় কর্মচঞ্চল করে তোলা এবং স্থানীয় যুবসমাজের জন্য দীর্ঘমেয়াদি কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করাই তার মূল লক্ষ্য। একটি আধুনিক ও শিল্পবান্ধব পরিবেশ তৈরির মাধ্যমে খুলনার হারানো ঐতিহ্য পুনরুদ্ধারের করা হবে।”
বকুল বলেন, “খুলনা ৩ এ সবার দায়িত্ব আমার। আমার পোস্টারে বা বিভিন্ন বিল বোর্ডে এবং প্যানায় এ স্লোগান ছিল। আমি ছাত্রজীবন থেকে বিশ্বাস করি সকলকে নিয়ে ভালো থাকা হচ্ছে রাজনৈতিক বিজয়। আমি খালিশপুর, দৌলতপুর ও খানজাহান আলী থানার সকল দলের এবং মতের ও ধর্মের মানুষকে একটা ম্যাসেজ দিয়ে ছিলাম, আমি নির্বাচিত হলে সকলের এমপি হবো। রাজনৈতিক সৌন্দর্য আমার চেয়ারম্যান তারেক রহমান সকলকে শিখিয়েছেন। আমি তার আদর্শ ও চিন্তার খুব কাছ থেকে উপলব্ধি করেছি এবং তা বাস্তবায়নে নির্বাচনের আগে যে ওয়াদা করেছি তা অক্ষরে অক্ষরে পালন করবো। ভিন্ন মতাদর্শীদের সঠিক প্রস্তাব এবং সমালোচনা গ্রহণ করে একটি আদর্শ বাস্তবায়ন করে দেখিয়ে দিতে চাই খুলনার উন্নয়নে আমি সকলের বকুল।
এছাড়া তিনি দৌলতপুর বিএল কলেজকে বিশ্ববিদ্যালয়ে রূপান্তরে চেষ্টা করবেন বলে জানান বকুল। বিশেষায়িত আধুনিক মানের হাসপাতাল, অংশীজনদের সাথে নিয়ে খুলনাকে চাঁদাবাজ-সন্ত্রাসীমুক্ত নগরী হিসেবে গড়ে তোলার অঙ্গীকার করেন। তরুণ ও যুবকদের কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে কারিগরি প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়ার আশ্বাস দেন এই নেতা।
প্রকাশক ও সম্পাদক- আলি আবরার । নিরালা, খুলনা থেকে প্রকাশিত