
২০২৪-২৫ অর্থবছরে খুলনা অঞ্চল থেকে পাট, পাটজাত পণ্য, চিংড়ি, শাকসবজি ও ফলমূল রপ্তানি করে মোট ৫,৯৭১.৪০ কোটি টাকা আয় হয়েছে।
খুলনা রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরো (ইপিবি) সূত্র জানিয়েছে, চলতি তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে দেশের ইতিবাচক ভাবমূর্তি এবং বৈশ্বিক অর্থনীতির উন্নতির কারণে রপ্তানি আদেশের পরিমাণ বেড়েছে। এ কারণে খুলনা অঞ্চল থেকে বিশেষ করে পাট ও চিংড়ি রপ্তানি উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে।
২০২৩-২৪ অর্থবছরে খুলনা অঞ্চল থেকে মোট ৫,৩৭৬.১৭ কোটি টাকার পণ্য রপ্তানি হয়েছিল। পরবর্তী অর্থবছরে এই সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৫,৯৭১.৪০ কোটিতে। ইপিবি’র তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে খুলনা থেকে ১৩,০১৯.৮০ টন হিমায়িত চিংড়ি রপ্তানি করে আয় হয়েছে ১,৯৯০.৩৯ কোটি টাকা।
এছাড়াও “কুচিয়া” (ইল মাছ), কাঁকড়া, শাকসবজি, কাঁচা পাট ও পাটজাত পণ্যের রপ্তানিও বেড়েছে।
২০২৪-২৫ অর্থবছরে খুলনার মাসভিত্তিক রপ্তানি আয় ছিল নিম্নরূপ:
জুলাই: ৫১৭.৬৮ কোটি
আগস্ট: ৪৪৭.৫৩ কোটি
সেপ্টেম্বর: ৬০১.৯৮ কোটি
অক্টোবর: ৫৬৬.৯৬ কোটি
নভেম্বর: ৫২৩.১৩ কোটি
ডিসেম্বর: ৪৫৭.৩৭ কোটি
জানুয়ারি: ৪২৩.৬৫ কোটি
ফেব্রুয়ারি: ৪০২.৫২ কোটি
মার্চ: ৪৩৮.৯১ কোটি
এপ্রিল: ৫৫০.৮৭ কোটি
মে: ৬১১.৬৯ কোটি
জুন: ৪২৯.১১ কোটি টাকা।
খুলনা ইপিবি’র পরিচালক জিনাত আরা বলেন, “বিদেশে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি, স্থিতিশীল বৈদেশিক মুদ্রার অবস্থা এবং বৈশ্বিক অর্থনীতির অগ্রগতির কারণে রপ্তানি বেড়েছে।”
তিনি জানান, গত বছর সরকারি পাটকল ও চিংড়ি কারখানাগুলো বন্ধ হওয়ার কারণে রপ্তানি কমে যায়। বর্তমান সরকার সেগুলো পুনরায় চালু করার উদ্যোগ নিয়েছে। বন্ধ পাটকলগুলো বেসরকারি খাতে ইজারা দেওয়ার পরিকল্পনাও রয়েছে।
বাংলাদেশ ফ্রোজেন ফুডস এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিএফএফইএ) সাবেক সহ-সভাপতি মো. আব্দুল বাকী জানান, খুলনায় ৬৩টি চিংড়ি প্রক্রিয়াজাত কারখানার মধ্যে ৩৩টি বর্তমানে বন্ধ। তবে পরিবেশবান্ধব ব্যবসা পরিবেশের কারণে রপ্তানি আবারও বাড়ছে।
বাংলাদেশ জুট অ্যাসোসিয়েশনের (বিজেএ) সাবেক সহ-সভাপতি শরীফ ফজলুর রহমান বলেন, “খুলনা অঞ্চলে কাঁচা পাট ও পাটজাত পণ্যের রপ্তানি দ্রুত বাড়ছে। তবে আওয়ামী লীগ সরকারের ভুল নীতির কারণেই এক সময় দেশের পাটখাত বিপর্যয়ের মুখে পড়ে।”
তিনি আরও বলেন, খুলনা অঞ্চল তার হারানো রপ্তানি গৌরব শিগগিরই ফিরে পাবে।
প্রকাশক ও সম্পাদক- আলি আবরার । নিরালা, খুলনা থেকে প্রকাশিত