বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের বিভাগীয় ও জেলা কার্যালয়ের উদ্যোগে খুলনা বিভাগের বিভিন্ন এলাকায় একযোগে তদারকিমূলক বাজার অভিযান পরিচালিত হয়েছে। রোববার (৮ নভেম্বর ২০২৬) পরিচালিত এই তদারকিতে তিনটি বিশেষ টিম নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য, ভোজ্যতেল, চাল, পেঁয়াজ, ওষুধ ও ডিমের বাজারদর এবং ক্রয় ভাউচার যাচাই করে। ভোক্তা আইন লঙ্ঘনের অপরাধে তিনটি প্রতিষ্ঠানকে সর্বমোট ৫৫ হাজার টাকা জরিমানা আরোপ ও নগদ আদায় করা হয়।
খুলনা মহানগরী ও কুষ্টিয়ায় ভ্রাম্যমাণ আদালত
অভিযান চলাকালে খুলনা মহানগরী ও কুষ্টিয়া জেলায় আইন অমান্যকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়। খুলনা মহানগরীর সদর থানাধীন গল্লামারী এলাকায় বিভাগীয় কার্যালয়ের উপপরিচালক মোহাম্মদ সেলিমের নেতৃত্বে পরিচালিত অভিযানে শাওন স্টোরকে মেয়াদোত্তীর্ণ পণ্য সংরক্ষণ ও বিক্রির দায়ে দুই হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। একই এলাকায় সহকারী পরিচালক দিনারা জামানের নেতৃত্বে পরিচালিত অন্য একটি অভিযানে সুমাইয়া’স বিউটি জোনকে মেয়াদোত্তীর্ণ প্রসাধন সামগ্রী সংরক্ষণ ও ব্যবহারের অপরাধে তিন হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।
সবচেয়ে বড় জরিমানার ঘটনাটি ঘটে কুষ্টিয়া জেলা কার্যালয়ের তদারকিতে। কুষ্টিয়া সদর উপজেলার ঝাউদিয়া বাজার এলাকায় সহকারী পরিচালক মো. মাসুম আলীর নেতৃত্বে অভিযান চালিয়ে বেবি ফার্মেসিকে যথাযথ পণ্য সরবরাহ না করা এবং মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ সংরক্ষণ ও বিক্রির মারাত্মক অপরাধে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।
মূল্য তালিকা ও সচেতনার বার্তা
অভিযান চলাকালে সাধারণ ব্যবসায়ীদের সচেতন করার পাশাপাশি অসাধু ব্যবসায়ীদের প্রতি কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন তদারকি কর্মকর্তা। সরকার নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে অতিরিক্ত দাম নেওয়া হলে ভবিষ্যতে আরও কঠোর আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার বিষয়ে সতর্ক করা হয়। একই সাথে প্রতি দোকানে বাধ্যতামূলকভাবে দৃশ্যমান স্থানে মূল্য তালিকা টাঙানো এবং পণ্য ক্রয়-বিক্রয়ের ভাউচার সংরক্ষণের নির্দেশ দেওয়া হয়। ভোক্তা অধিকার রক্ষা ও বাজার পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে জনস্বার্থে এমন তদারকিমূলক অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।


