খুলনায় নর্থ ওয়েস্টার্ন ইউনিভার্সিটির ইংরেজি বিভাগের প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী আয়মান মো . আজমুল হোসেন হত্যা মামলায় চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে এসআরবি ও ডিবি পুলিশ। এরমধ্যে দুজন হত্যার সাথে জড়িত থাকার বিষয়ে নিজেদের সম্পৃক্ত থাকার কথা স্বীকার করেছে।
খুলনার হরিণটানা থানার চাঞ্চল্যকর বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী আজমুল হত্যা মামলার অন্যতম অভিযুক্ত শেখ আসিফ হোসেনকে (২৮) আজ গ্রেফতার করেছে এসআরবি-৬। আজ ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখ রাত আড়াইটার দিকে এসআরবি-৬, স্পেশাল কোম্পানি ও ভাটিয়াপাড়া ক্যাম্পের একটি যৌথ আভিযানিক দল গোপন সংবাদের ভিত্তিতে গোপালগঞ্জ জেলার কাশিয়ানী থানাধীন ভাটিয়াপাড়া গোলচত্বর এলাকায় বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে। অভিযানে খুলনা মহানগরীর হরিণটানা থানার চাঞ্চল্যকর আজমুল হত্যা মামলার অন্যতম আসামি শেখ আসিফ হোসেনকে গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতারকৃত আসামি পাইকগাছা থানার সনাতনকাটির শেখ মিরাজের ছেলে। পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য তাকে খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশের (কেএমপি) হরিণটানা থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।
এর আগে গতকাল কৃষি ব্যাংকের খুলনার টাউন নওয়াপাড়া শাখার ক্যাশ অফিসার হাবিব রিফাত (৩০) এবং খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের খাজা হলের সামনে থাকা ‘মা বাবার দোয়া জুস কর্ণারের মালিক তারেক ওরফে রুবেলকে (৩৫) গ্রেপ্তার করে এলিট ফোর্স এসআরবি। হত্যার সাথে তারা দুজন নিজেদের সম্পৃক্ততা থাকার কথা স্বীকার করেছেন। অপরদিকে প্রতাপ সরকার (২৮) নামের আরো একজনকে গ্রেপ্তার করেছে ডিবি পুলিশ।
জানতে চাইলে এসআরবি-৬ এর অধিনায়ক নিন্তার আহমেদ বলেন, চাঞ্চল্যকর শিক্ষার্থী আজমুল হত্যা মামলার অন্যতম অভিযুক্ত হাসনাত হাবিব রিফাতকে (৩০) গ্রেফতার করে এসআরবি-৬ ও এসআরবি-৮ এর যৌথ আভিযানিক দল।
গতকাল ২২ সেপ্টেম্বর (মঙ্গলবার) রাত আড়াইটার দিকে এসআরবি-৬, খুলনা ও এসআরবি-৮, বরিশাল এর যৌথ আভিযানিক দল গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পিরোজপুর জেলার নেছারাবাদ থানাধীন কুড়িয়ানা আদাবাড়ি এলাকায় বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে।
এসময়ে খুলনা মহানগরীর হরিণটানা থানার চাঞ্চল্যকর আজুমল হত্যা মামলার অন্যতম অভিযুক্ত মোঃ হাসনাত হাবিব রিফাতকে গ্রেপ্তার করা হয়। সে সিরাজগঞ্জ জেলা সদরের গুনেরগাতি এলাকার মনোয়ার হোসেনের ছেলে।
তিনি বলেন, গ্রেফতারকৃত অভিযুক্ত মোঃ হাসনাত হাবিব রিফাত উক্ত ঘটনায় তার সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করেছে। ঘটনার সময় সে উপস্থিত থেকে আজমুলকে লাঠি দিয়ে দুইটি আঘাত করে বলে স্বীকার করেছে।
গ্রেপ্তার হওয়া রিফাত খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষার্থী। সে ওই বিশ্ববিদ্যালয়ের এফএমআরটি ডিসিপ্লিনের ১৬ তম ব্যাচের ছাত্র ছিল।
এক প্রশ্নের জবাবে নাম প্রকাশ না করার শর্তে একটি সূত্র জানায়, ভাত চুরি করে খাওযার অভিযোগে আজমুলকে নির্যাতন করা হয়েছে বলে যে অভিযোগ করা হচ্ছে তার সত্যতা এখনও পাওয়া যায়নি। তবে তার বিরুদ্ধে টাকা, মোবাইল ফোন চুরি করার অভিযোগ রয়েছে।
তার দেয়া স্বীকারোক্তি অনুযায়ী জুস বিক্রেতা তারেক ওরফে রুবেলকে আজ মঙ্গলবার দুপুরে গ্রেপ্তার করা হয়। আজমুল হত্যার সাথে নিজের সম্পৃক্ততা থাকার বিষটি সে স্বীকার করেছে।
গ্রেপ্তার হওয়া তারেক ওরফে রুবেলকে হরিণটানা থানার খানজাহান নগর এলাকার লাল মিয়ার ছেলে। পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য গ্রেপ্তারকৃত আসামিকে কেএমপি, খুলনার হরিণটানা থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে বলে জানান এই কর্মকর্তা।
এদিকে একটি সূত্র জানিয়েছে, গ্রেপ্তার হওয়া জুস বিক্রেতা তারেক ওরফে রুবেলকে জিজ্ঞাসাবাদে স্বীকার করে যে, সে আজমুলকে কয়েকটি লাথি, কিলঘুসি দিয়েছিলো। ওই রাতে চোর চোর চিৎকার শুনে সে এগিয়ে গিয়ে নাজমুলকে কয়েকটি লাথি, কিলঘুসি মারে।
সূত্রটি আরো জানায়, গত শুক্রবার গভীর রাতে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের হল রোড – সংলগ্ন ইসলামনগর সড়কের একটি চারতলা ভবনের ছাদে ভাত চুরির অভিযোগ এনে আজমুলকে পেটানো হয়। তাকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে বলে দাবি স্বজনদের।
এ ঘটনায় গত শনিবার রাতে নিহত আজমুলের বাবা কুতুবউদ্দিন বাদী হয়ে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের চার শিক্ষার্থীসহ ২০-২৫জন অজ্ঞাত আসামি করে হরিণটানা থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলার আসামিরা হলেন, খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের এফএমআরটি ডিসিপ্লিনের ১৭ ও ১৯ ব্যাচের রবিন ও মবিন, গণিত ডিসিপ্লিনের ১৯ ব্যাচের সাগর এবং এগ্রোটেকনোলজি ডিসিপ্লিনের ২৬ ব্যাচের শিক্ষার্থী ওবায়দুল।
এ মামলায় এজাহারভুক্ত আসামিদের বাইরে এ পর্যন্ত দুইজনকে গ্রেপ্তার করা হলো। ফলে আজমুল হত্যায় খুলনা বিম্ববিদ্যালয়ের ৫ জন শিক্ষার্থীর সমৃক্ততা থাকার অভিযোগ উঠেছে।
এসআরবির ওই সূত্রটি জানায়, ঘটনার পর পর পুলিশ ও অন্যান্য গোয়েন্দা সংস্থার পাশাপাশি এলিট ফোর্স ‘এসআরবি’ ছায়া তদন্ত শুরু করে। তারা ঘটনাস্থলের আশপাশের ভিডিও ফুটেজ সংগ্রহ করে আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান চালাচ্ছে। এছাড়া ওই এলাকায় গোয়েন্দা নজরদারী বাড়িয়েছে।
এদিকে আজমুল হত্যা মামলায় প্রতাপ সরকার (২৮) নামের একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গতকাল বিকাল সাড়ে চারটায় বরিশালের উজিরপুর থানা এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে খুলনা নগর গোয়েন্দা পুলিশ। গ্রেপ্তারের পর তাকে নিয়ে খুলনার উদ্দেশ্যে রওয়ানা হয়েছে ডিবি পুলিশ।
জানতে চাইলে সত্যতা স্বীকার করে খুরনা মেট্রোপলিটন পুলিশের উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিবি) মোঃ আহাদুজ্জামান মিয়া বলেন, গ্রেপ্তার হওয়া প্রতাপ সরকার যশোরের সিদ্ধিপাশা দলিগ্রামের শিবপদ সরকারের ছেলে।
তাকে খুলনায় এনে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে বলে তিনি জানান। সিসি টিভির পুটেজ পর্যালোচনা করে তথ্য প্রযুক্তর মাধ্যমে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে এই কর্মকর্তা জানান।


