
স্বল্পোন্নত দেশ (এলডিসি) থেকে উত্তোরণের পর বাণিজ্যকে উদার করার ক্ষেত্রে ব্যবসায়ীরা যদি সক্ষমতা বাড়াতে না পারে, তাহলে সেটি বড় চ্যালেঞ্জ তৈরি করবে বলে জানিয়েছেন বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশির উদ্দিন। তিনি বলেন, এই উদার বাণিজ্য থেকে দেশের ভোক্তারা সুবিধাভোগী হবেন। জাপানের বিনিয়োগের ফলে কর্মসংস্থান তৈরি হবে বলেও জানান তিনি।
সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি) সচিবালয়ে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় সভাকক্ষে ইপিএ চুক্তি সই নিয়ে সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এমন মন্তব্য করেন।
ইপিএ সইয়ে বাংলাদেশ যে চ্যালেঞ্জের মুখে পড়বে, তা থেকে সুরক্ষায় কী পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে জানতে চাইলে উপদেষ্টা বলেন, ‘আমরা যে ১ হাজার ৭০টি পণ্যের শুল্কমুক্ত প্রবেশাধিকার দিয়েছি, এটার আমাদের রাজস্বের পরিমাণ ২০ কোটি টাকার নিচে প্রতি বছরে।’
এ সময়ে বাণিজ্য সচিব মাহবুবুর রহমান বলেন, এরইমধ্যে শূন্য শুল্ক আছে অনেক পণ্যে। যেমন খাদ্য পণ্য বা তুলা ও সুতা। মেশিনারিজে আছে এক শতাংশ। এই দুটো মিলিয়ে আমরা এক হাজার ৩৯টা দিয়েছি। কাজেই আমরা ইমিডিয়েটলি তেমন কোনো রাজস্ব হারাচ্ছি না।
উপদেষ্টা বলেন, ‘আমরা বাকি যে ট্যারিফ লাইনে তাদেরকে অফার করেছি, ১৮ বছর পর্যন্ত সময়ে যেতে হবে। আপনি জানেন যে, আমরা যখন এলডিসি থেকে উত্তরণ করবো, আমাদেরকে ডব্লিউটিওর ফ্রেমওয়ার্কে আমাদের বাণিজ্যকে উদার করতে হবে। সো, এই বাণিজ্য উদার করার ক্ষেত্রে আমাদের ব্যবসায়ীরা যদি সক্ষমতা বৃদ্ধি করতে না পারে, তাহলে অবশ্যই আমাদের জন্য চ্যালেঞ্জ তৈরি হবে। সেটা আমাদের রাজনৈতিক নেতৃত্ব... এই যে ১৮ বছর যাবত তারা যে সময় পাবেন, সেখানে তাদের সক্ষমতা তৈরি করার একটা সুযোগ তৈরি হবে। সর্বোপরি ভোক্তা উপকৃত হবে। এই উদার বাণিজ্যের মাধ্যমে আপনি একজন ভোক্তা হিসেবে এর বেনিফিট পাবেন।’
তিনি বলেন, জাপানের বিনিয়োগের ফলে কর্মসংস্থান তৈরি হবে। দুই দেশের মধ্যে প্রযুক্তি হস্তান্তর হবে। আমাদের বিনিয়োগ হবে। এর বিনিময়ে আমরা আশা করি যে আমাদের এখানে কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে।
উপদেষ্টা আরও বলেন, ওরা আমাদের কতগুলো... যেমন নার্সিং সেক্টরে আমাদের জনবল নেবে, ইন্ডাস্ট্রিয়াল ওয়ার্কার হিসেবে নেবে, কেয়ারগিভার হিসেবে লোক নেবে, ডমেস্টিক কেয়ারগিভার হিসেবে নেবে। এছাড়া আপনার আরও অন্যান্য যেগুলো স্কিল প্রফেশনালস, তারা যেতে পারবে। এমনকি ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার পর্যন্ত যেতে পারবে। সো আমাদের যে ৯২টা সেক্টর আমরা ওপেন করে দিয়েছি এবং ওরা আমাদের ১২০টা ওপেন করে দিয়েছে, সেখানে আমাদের ম্যানপাওয়ার যাবে এবং তারা আমাদের এখানে যে ইনভেস্টমেন্ট বাড়াবে এই সব সার্ভিসে, সেখানেও আমাদের লোকদের চাকরির সুযোগ সৃষ্টি হবে।
প্রকাশক ও সম্পাদক- আলি আবরার । নিরালা, খুলনা থেকে প্রকাশিত