
বেলারুশের তারকা টেনিস খেলোয়াড় আরিনা সাবালেঙ্কা টানা চতুর্থবারের মতো অস্ট্রেলিয়ান ওপেনের ফাইনালে উঠেছেন। বৃহস্পতিবার মেলবোর্নে রাজনৈতিক উত্তেজনায় ঘেরা সেমিফাইনালে ইউক্রেনের এলিনা স্বিতোলিনাকে ৬-২, ৬-৩ গেমে হারিয়ে শেষ দুইয়ে জায়গা করে নেন তিনি।
এই জয়ে সাবালেঙ্কা সামনে পেলেন এলেনা রিবাকিনাকে। মেলবোর্নে এটি হতে পারে তাঁর তৃতীয় শিরোপা। রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে ম্যাচ শেষে দুজনের মধ্যে কোনো করমর্দন হয়নি। ইউক্রেনীয় খেলোয়াড়েরা রাশিয়া ও তার মিত্র দেশ বেলারুশের খেলোয়াড়দের সঙ্গে হাত মেলান না, এ কারণেই এই সিদ্ধান্ত। ম্যাচের আগে রড লেভার অ্যারেনার বড় পর্দায় বিষয়টি জানিয়ে দর্শকদের ‘সম্মান দেখাতে’ অনুরোধ করা হয়।
দুজনই ম্যাচে নামেন দুর্দান্ত ফর্ম নিয়ে। মেলবোর্নে এক সেটও না হারিয়ে এবং টানা ১০ ম্যাচ জয়ের ধারায় ছিলেন তাঁরা। তবে কোর্টে শুরু থেকেই আধিপত্য দেখান সাবালেঙ্কা। প্রথম সেটের চতুর্থ গেমে গ্রান্টিং নিয়ে সাবালেঙ্কার বিরুদ্ধে ‘হাইন্ড্রেন্স’ কল দেওয়া হলে কিছুটা বিতর্ক তৈরি হয়। ভিডিও রিভিউয়ের পর পয়েন্টটি হারালেও দ্রুতই ছন্দে ফেরেন তিনি। ৩-১ গেমে ব্রেক করে প্রথম সেট নিজের করে নেন মাত্র ৪১ মিনিটে।
দ্বিতীয় সেটের শুরুতে স্বিতোলিনা ২-০ ব্যবধানে এগিয়ে গিয়ে লড়াইয়ে ফেরার ইঙ্গিত দেন। তবে সাবালেঙ্কা এরপর টানা পাঁচটি গেম জিতে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ আবার নিজের হাতে নেন এবং নিশ্চিত করেন ফাইনাল। ম্যাচ শেষে আবেগাপ্লুত সাবালেঙ্কা বলেন, “জয়ে আমি খুবই খুশি। স্বিতোলিনা অসাধারণ একজন প্রতিপক্ষ, পুরো সপ্তাহ জুড়েই সে দুর্দান্ত টেনিস খেলেছে। তবে কাজ এখনো শেষ হয়নি।”
উল্লেখ্য, গত বছর অস্ট্রেলিয়ান ওপেনে ম্যাডিসন কিজের কাছে হেরে হতাশ হতে হয়েছিল সাবালেঙ্কাকে। এবার মেলবোর্নের শিরোপা পুনরুদ্ধার করাই তাঁর প্রধান লক্ষ্য বলে আগেই জানিয়েছিলেন, ‘ট্রফি বা কিছুই নয়’। অন্যদিকে, এই হারে ইতিহাস গড়ার সুযোগ হাতছাড়া হলো ১২ নম্বর বাছাই স্বিতোলিনার। উন্মুক্ত যুগে ইউক্রেনের কোনো নারী খেলোয়াড় এখনো গ্র্যান্ড স্লাম একক ফাইনালে উঠতে পারেননি।
প্রকাশক ও সম্পাদক- আলি আবরার । নিরালা, খুলনা থেকে প্রকাশিত