নারায়ণগঞ্জ শহরের সিটি পার্কে অস্ত্র হাতে দুই তরুণের ঘোরাঘুরির একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা তৈরি হয়েছে।
শুক্রবার (২৯ আগষ্ট) ভিডিওটির সূত্র ধরে অভিযান চালিয়ে রাত সাড়ে ১১টার দিকে বন্দর বাজার এলাকায় অভিযান চালিয়ে লিমন তোহা (২২) ও ইয়াসিন মোল্লা (২৩) নামের ওই দুই তরুণকে আটক করা হয়।
দুজনই বন্দর বাজার এলাকার বাসিন্দা। লিমন তোহা ওই এলাকার শাহীন আহমেদের ছেলে।
ইয়াসিন মোল্লার বাবা স্বপন মোল্লা।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রায় ৩৫ সেকেন্ডের একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়ে।
ভিডিওতে দেখা যায়, কালো রঙের লম্বা পোশাক ও টুপি পরা দুই তরুণ পার্কের বিভিন্ন স্থানে ঘোরাফেরা করছেন। তাদের হাতে থাকা অস্ত্র দিয়ে পথচারী, রিকশাচালক ও শিশুদের দিকে তাক করার দৃশ্যও ভিডিওতে রয়েছে।
ভিডিওটি দ্রুত ছড়িয়ে পড়লে অনেকেই এটিকে বাস্তব অস্ত্রের ঘটনা হিসেবে ধরে নেন। বিষয়টি পুলিশের নজরে আসার পর ভিডিওটির উৎস ও জড়িতদের শনাক্তে অনুসন্ধান শুরু হয়। পরে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় দুই তরুণের পরিচয় শনাক্ত করে তাদের আটক করা হয়।
আটকের পর তাদের কাছ থেকে পাওয়া দুটি বন্দুক পরীক্ষা করে পুলিশ প্রাথমিকভাবে নিশ্চিত হয়েছে, এগুলো আসল অস্ত্র নয়, খেলনা বন্দুক। পুলিশ জানিয়েছে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের জন্য ভিডিও তৈরির উদ্দেশ্যেই এসব খেলনা বন্দুক ব্যবহার করা হয়েছিল বলে জিজ্ঞাসাবাদে তারা জানিয়েছে।
নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ ও অপারেশন) তারেক আল মেহেদী বলেন, ভিডিওতে যে অস্ত্র দেখা গেছে, সেগুলো খেলনা বন্দুক। পুলিশ দুটি খেলনা বন্দুক উদ্ধার করেছে এবং ভিডিওতে থাকা দুই তরুণকে আটক করা হয়েছে। তাদের বিষয়ে যাচাই-বাছাই চলছে।
পুলিশের এ কর্মকর্তা জানান, আটক লিমন তোহা ২০২৪ সালে এইচএসসি পাস করেছেন। এরপর আর পড়াশোনা করেননি। প্রায় সাত বছর ধরে তিনি টিকটক করেন বলে পুলিশকে জানিয়েছেন। অপর তরুণ ইয়াসিন মোল্লা ২০২২ সালে এসএসসি পাস করার পর আর পড়াশোনা করেননি। তিনি প্রায় দুই বছর ধরে টিকটক করছেন।
পুলিশের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে দুই তরুণ ভিডিও তৈরির উদ্দেশ্যেই পার্কে খেলনা বন্দুক নিয়ে গিয়েছিলেন বলে জানিয়েছে। খোঁজ নিয়ে পুলিশ আরও জানতে পারে, ‘ভাইবোন’ নামের একটি টিকটক অ্যাকাউন্ট থেকে ভিডিওটি প্রথমে প্রকাশ করা হয়। পরবর্তী সময়ে লিমনের ফেসবুক ও ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্টেও ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়ে।
পুলিশের জানায়, খেলনা অস্ত্র হলেও জনসমাগমপূর্ণ স্থানে এভাবে অস্ত্র প্রদর্শন করে ভিডিও তৈরি করা জনমনে আতঙ্ক সৃষ্টি করতে পারে। এ ধরনের কর্মকাণ্ড সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়েও বিভ্রান্তি তৈরি হওয়ার আশঙ্কা থাকে।


