রপ্তানি পণ্যের বৈচিত্র্য আনয়ন এবং টেকসই মৎস্য খাত গড়ে তোলার লক্ষ্যে তৃতীয় পক্ষের সার্টিফিকেশন ব্যবস্থার গুরুত্ব তুলে ধরে খুলনায় ‘অ্যাকুয়াকালচার ইম্প্রুভার প্রোগ্রাম (এআইপি)’ বিষয়ক একটি সচেতনতামূলক কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে আজ (টুডে)।
খুলনার সিএসএস আভা সেন্টারে আয়োজিত এই কর্মশালার আয়োজন করে বাংলাদেশ শ্রিম্প ও ফিশ ফাউন্ডেশন (বিএসএফএফ) এবং বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের বিজনেস প্রোমোশন কাউন্সিল (বিপিসি)। মৎস্য অধিদপ্তর (ডিওএফ) কর্মশালায় কারিগরি সহায়তা প্রদান করে।
কর্মশালায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মৎস্য অধিদপ্তরের খুলনা বিভাগের পরিচালক মোঃ জাহাঙ্গীর আলম।
বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ ফিশ ফার্মার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (BFFEA) ভাইস প্রেসিডেন্ট এস.কে. কামরুল আলম এবং বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সহকারী পরিচালক পলাশ কুমার ঘোষ। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন খুলনার জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মোঃ বদরুজ্জামান।
বক্তারা তাদের বক্তব্যে টেকসই মৎস্য চাষের উন্নয়নের জন্য সঠিক প্রযুক্তি, সঠিক উন্নত পদ্ধতিতে চাষাবাদ, এবং তৃতীয় পক্ষের সার্টিফিকেশনের গুরুত্ব তুলে ধরেন।
মৎস্য অধিদপ্তরের খুলনা বিভাগের পরিচালক মোঃ জাহাঙ্গীর আলম বলেন, শুধু বাগদা বা ব্ল্যাক টাইগার চিংড়ির ওপর নির্ভর না থেকে উপকূলীয় লবণাক্ত সহিষ্ণু মাছের আধুনিক চাষের মাধ্যমে রপ্তানি পণ্যের বৈচিত্র্য আনা যেতে পারে। তবে এর জন্য প্রয়োজন উত্তম মৎস্য চাষ পদ্ধতি (GAqP) অনুসরণ এবং আন্তর্জাতিক মান রক্ষায় তৃতীয় পক্ষের স্বীকৃতি অর্জন।
চিংড়ি চাষের আধুনিকায়নের পাশাপাশি উপকূলীয় অঞ্চলের লবণাক্ত সহিষ্ণু ও সামুদ্রিক মৎস্য প্রজাতির টেকসই ও খাদ্যনির্ভর বাণিজ্যিক চাষাবাদের মাধ্যমে রপ্তানি আয় বৃদ্ধি এবং পণ্যের বৈচিত্র্য আনার সম্ভাবনা রয়েছে। এই সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের বিজনেস প্রোমোশন কাউন্সিল (বিপিসি) মৎস্য খাতের সক্ষমতা বৃদ্ধিতে বিভিন্ন কার্যক্রম বাস্তবায়ন করছে। এর মধ্যে রয়েছে বেসরকারি খাতের অংশীজনদের দক্ষতা উন্নয়ন, উত্তম মৎস্য চাষ (GAqP) পদ্ধতির বাস্তবায়ন, আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুসরণ এবং টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিতকরণ। পাশাপাশি, বৈশ্বিক বাজারে প্রতিযোগিতা সক্ষমতা বাড়াতে তৃতীয় পক্ষের সার্টিফিকেশন ব্যবস্থা গ্রহণের প্রয়োজনীয়তা ও বাস্তবায়নযোগ্যতা নিয়ে কাজ করা হচ্ছে।
বিএসএফএফ-এর নির্বাহী পরিচালক জনাব মোঃ রফিকুল ইসলাম বলেন, এই ধরনের উদ্যোগ বাংলাদেশকে বৈশ্বিক মানের মৎস্য ও মৎস্যজাত পণ্য সরবরাহে সক্ষম করে তুলবে এবং দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।
কর্মশালায় সরকারি-বেসরকারি পর্যায়ের মৎস্য খাত সংশ্লিষ্ট শতাধিক ব্যক্তি অংশগ্রহণ করেন। কর্মশালার অংশ হিসেবে একটি উন্মুক্ত আলোচনা পর্ব অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে অংশগ্রহণকারীরা মতামত ও অভিজ্ঞতা বিনিময় করেন।


