খুলনা রিজিওনাল শাখার আওতাধীন ডাচ-বাংলা ব্যাংক (এজেন্ট মুন-মানহা) আড়ংঘাটা শাখার প্রায় কোটি টাকা লোপাট করার অভিযোগ উঠেঠে। মঙ্গলবার খুলনা প্রেসক্লাবে এ অভিযোগ করেন শাখার গ্রাহকরা।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত অভিযোগে বলা হয়, খুলনা রিজিওনাল শাখার আওতাধীন ডাচ-বাংলা ব্যাংক (এজেন্ট মুন-মানহা) আড়ংঘাটা, দীর্ঘদিন যাবৎ এজেন্ট ব্যাংকিং কার্যক্রম চালিয়ে আসছে। কিন্তু গত ৬ ফেব্র“য়ারি হঠাৎ পূর্ব ঘোষণা ছাড়াই ব্যাংকটি বন্ধ দেখা যায় এবং গ্রাহকরা তাদের লেন-দেন করতে গিয়ে এ বিষয়ে অবগত হয়।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত অভিযোগে আরও বলা হয় পরবর্তীতে এ বিষয়ে গ্রাহকগণ লিখিত ভাবে খুলনা রিজিওনাল শাখাকে অবগত করে এবং টাকা লোপাটের বিষয়ে প্রাথমিক পর্যায়ে কয়েকটি পত্রিকা ও চ্যানেলে সংবাদ প্রচার করা হয়। পরবর্তীতে এ বিষয়ে ক্ষতিগ্রস্ত গ্রাহকদের কি পরিমাণ টাকা খোয়া গেছে সেটা ডাচ-বাংলা ব্যাংক হেড অফিস ঢাকার প্রতিনিধিগণ রিজিওনাল শাখার মারফত গত ২০ ফেব্র“য়ারি খুলনা অফিসে গ্রাহকদের সাথে সরাসরি কথা বলেন এবং তাদের নিকট সংরক্ষিত কাগজপত্র যাচাই বাছাই করেন ও গ্রাহকদের লোপাট হওয়া আনুমানিক ১ কোটি টাকা অতিদ্রুত ফেরত দেওয়ার ব্যাপারে আশ্বস্ত করেন। একই সাথে খুলনা রিজিওনাল শাখাকে টাকা ফেরতের বিষয়ে নির্দেশনা দেন। উক্ত নির্দেশনার আলোকে খুলনা রিজিওনাল শাখার সিনিয়র ম্যানেজার এ এইচ এম কামরুজ্জামান কয়েক দফা ক্ষতিগ্রস্ত গ্রাহকদের সাথে বৈঠক করেন ও মৌখিক সময় নেন। সর্বশেষ গত ২০২৩ সালে ১১ মার্চ ডাচ-বাংলা ব্যাংক (এজেন্ট মুন মানহা) এর স্বত্বাধিকারী মোঃ সোহেল মাহমুদ ও কর্মকর্তা মোঃ হান্নানের সঙ্গে আর এম এ এইচ এম কামরুজ্জামান আলোচনা করে টাকা ফেরত দেওয়ার ব্যাপারে ৩০০ টাকা সমমানের তিনটি স্ট্যাম্প-এ লিখিতভাবে লোপাটকৃত টাকার স্বীকারোক্তি ও গত ১১ এপ্রিলের মধ্যে সমুদয় টাকা ফেরত দেওয়ার বিষয়ে চুক্তিবদ্ধ হয়। গত ১১ এপ্রিলের টাকা ফেরত দেওয়ার ব্যাপারে আর এম এ এইচ এম কামরুজ্জামান রিজিওনাল শাখা নিরালা, খুলনাতেও কয়েকজন গ্রাহককে ডেকে টাকা ফেরত না দিয়ে বিভিন্ন প্রকার টালবাহানা শুরু করেন।
তিনি বলেন, এ বিষয়ে তিনি দায়বদ্ধ নন। পরবর্তীতে গ্রাহকগণের পক্ষ থেকে আমি মোঃ কামাল হোসেন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে বিষয়টি নিয়ে লেখালেখি করলে আর এম এ এইচ এম কামরুজ্জামান আমাকে ফোন দিয়ে বলেন, আপনি তো সামাজিক যোগযোগ মাধ্যমে লেখালেখি করছেন এটা করে কি আপনি টাকা ফেরত পাবেন, যদি পারেন তো টাকা ফেরত নিয়েন আমার এ বিষয়ে কোন দায় নেই। যার অডিও রেকর্ড আমার কাছে সংরক্ষিত আছে। অদ্যাবধি প্রাপ্ত তথ্যানুযায়ী ৬০/৬৫ জন গ্রাহক উক্ত শাখা কর্তৃক সর্বস্ব খুঁইয়ে দুর্বিসহভাবে জীবন যাপন করছে।
প্রকাশক ও সম্পাদক- আলি আবরার । নিরালা, খুলনা থেকে প্রকাশিত