খুচরা যন্ত্রাংশসহ পূর্ণ ফ্রিজ, রেফ্রিজারেটর, মোটরসাইকেল, এয়ার কন্ডিশনার ও কম্প্রেসার তৈরির প্রতিষ্ঠানের কর্পোরেট কর বৃদ্ধি করে ২০ শতাংশ করা হয়েছে। এর ফলে দেশীয় মোটরসাইকেল, ফ্রিজ, এসি ও কম্প্রেসারের দাম বাড়তে পারে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) চেয়ারম্যান মো. আবদুর রহমান খান সই করা প্রজ্ঞাপন সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।
প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, খুচরা যন্ত্রাংশসহ পূর্ণাঙ্গ ফ্রিজার, রেফ্রিজারেটর, মোটরসাইকেল, এয়ারকন্ডিশনার ও কম্প্রেসর তৈরির ক্ষমতাসম্পন্ন শিল্প প্রতিষ্ঠানের কেবল এই শিল্পের ব্যবসা থেকে অর্জিত আয়ের উপর প্রদেয় আয়কর হার ২০ শতাংশ নির্ধারণ করা হলো। বর্তমানে এ ধরনের শিল্প তাদের আয়ের উপর ১০ শতাংশ কর দিচ্ছে।
এ বিষয়ে এনবিআরের এক কর্মকর্তা বলেন, দেশে উৎপাদিত মোটরসাইকেল, ফ্রিজ, এসি ও অন্যান্য ইলেকট্রনিক্স পণ্য দেশের চাহিদা মিটিয়ে কিছু পণ্য বিদেশেও রপ্তানি হচ্ছে। দেশি-বিদেশি বিনিয়োগে এসব ভারী শিল্প দেশে স্থাপিত হয়েছে। এসব শিল্প স্থাপনে সরকার বিপুল পরিমাণ কর, ভ্যাট ছাড় দিয়েছে। করছাড় দেওয়ার ফলে এসব শিল্প এখন অনেকটাই স্বাবলম্বী হয়েছে। বর্তমানে এ ধরনের শিল্প তাদের আয়ের উপর ১০ শতাংশ কর দিচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, সাধারণত এসব শিল্প প্রতিষ্ঠানকে ২০-২২ শতাংশ কর্পোরেট কর দিতে হয়। দেশীয় শিল্প সুরক্ষায় এবং তাদের স্বাবলম্বী করতে এতদিন তাদের কর কমানো ছিল। ওটাই বাড়ানো হয়েছে। মানে করছাড় প্রত্যাহার করে নিলো এনবিআর।
এনবিআরের ওই আদেশ ২০২৫-২০২৬ করবর্ষ থেকে কার্যকর হবে, যা ২০৩২ সালে ৩০ জুন পর্যন্ত বলবৎ থাকিবে। প্রজ্ঞাপনে বেশকিছু শর্তের কথা বলা হয়েছে। যার মধ্যে রয়েছে-
প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী অব্যাহতিপ্রাপ্ত কোনো শিল্প প্রতিষ্ঠান শর্ত পরিপালনে ব্যর্থ হলে এনবিআর প্রদত্ত অনুমোদন প্রত্যাহার করতে পারবে।
এনবিআর সূত্রে আরো জানা যায়, খুচরা যন্ত্রাংশসহ পূর্ণ ফ্রিজ, রেফ্রিজারেটর, মোটরসাইকেল, এয়ার কন্ডিশনার ও কম্প্রেসার তৈরির প্রতিষ্ঠানকে কর ছাড় দিয়ে ২০২১ সালের ১৯ অক্টোবর এনবিআর থেকে আদেশ জারি করা হয়েছে। যাতে শর্ত পরিপালন সাপেক্ষে ২০৩২ সালের ৩০ জুন পর্যআন্ত কর হ্রাস করে ১০ শতাংশ করা হয়। উৎপাদনের তারিখ হতে এসব প্রতিষ্ঠান তাদের আয়ের উপর ১০ শতাংশ হারে কর দিতে হতো। এর আগে ২০০৯ সাল থেকে এসব খাতকে করছাড় দিয়ে আসছে এনবিআর। সে সময় ৫ শতাংশ হারে কর দিতো হতো।
খাত সংশ্লিষ্টরা বলছেন, দেশে ফ্রিজ ও এসির কম্প্রেসার বাজারজাত করে ওয়ালটন। এছাড়া প্রতিষ্ঠানটি দেশীয় ফ্রিজের বাজারে মার্কেট লিডার। এসি তৈরিতেও তারা শক্ত স্থান লাভ করছে। দেশে মোটরসাইকেল খাতে নতুন করে হোন্ডা, টিভিএস, হিরো ও রানার – এ চারটি কোম্পানিতে ম্যানুফেকচারিং শুরু করেছে, যেখানে বিদেশি বিনিয়োগও আছে। এছাড়া বেশ কিছু প্রতিষ্ঠান ইলেকট্রনিক্স সামগ্রী তৈরি করছে। যার ফলে আমদানি নির্ভরতা প্রতিনিয়ত কমছে। অতিরিক্ত করারোপের ফলে এসব উদীয়মান শিল্প ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।
প্রকাশক ও সম্পাদক- আলি আবরার । নিরালা, খুলনা থেকে প্রকাশিত