খুলনা (২৯ অক্টোবর)
ভাসমান ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের (হকার) পুনর্বাসনের লক্ষ্যে ১১ সদস্য বিশিষ্ট কমিটি গঠন করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর খুলনা সফর উপলক্ষে খুলনা সিটি কর্পোরেশনের প্রস্তুতিমূলক কার্যক্রমের অগ্রগতি সম্পর্কিত এক পর্যালোচনা সভায় এ কমিটি গঠন করা হয়। বৃহস্পতিবার বিকেলে নগর ভবনের শহিদ আলতাফ মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত সভায় সভাপতিত্ব করেন প্রশাসক নজরুল ইসলাম মঞ্জু। কেসিসি’র সকল বিভাগ ও শাখা প্রধানসহ ওয়ার্ডের ক্ষমতাপ্রাপ্ত কর্মকর্তাগণ সভায় উপস্থিত ছিলেন।
সভার শুরুতে প্রশাসক বলেন, অবৈধভাবে সড়ক ও ফুটপথ দখলে রেখে ব্যবসা পরিচালনাকারীদের অপসারণে দুই ধরনের প্রতিক্রিয়া আছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এ কাজের প্রতি ব্যাপক সমর্থন আছে, আবার তিগ্রস্তদের পওে কিছু মানুষের সহানুভূতি আছে। সকল মন্তব্যই আমাদের আমলে আনতে হবে। অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ অভিযানে কেসিসি’র মালিকানাধীন ১২নং ওয়ার্ড অফিসের বর্ধিত অংশসহ অনেক স্থাপনাও অপসারণ করা হয়েছে উল্লেখ করে প্রশাসক বলেন, নাগরিকবৃন্দ যেন মৌলিক অধিকার থেকে বঞ্চিত না হয়, কর্মহীন না হয়ে পড়েন, সেটি নিশ্চিত করা রাষ্ট্র তথা সরকারের দায়িত্ব। আবার নগরবাসীও যাতে স্বাচ্ছন্দে চলাচল করতে পারে, সেটিও আমাদের নিশ্চিত করতে হবে। প্রধানমন্ত্রীরও এ বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনা রয়েছে। সেই নির্দেশনার আলোকে সড়ক ও ফুটপথ থেকে অপসারণকৃত ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের পুনবার্সনে কি পদক্ষেপ গ্রহণ করা যায় সে বিষয়ে মতামত উপস্থাপনের তিনি উপস্থিত সকলের প্রতি অনুরোধ জানান।
এছাড়া প্রশাসক প্রধানমন্ত্রীর খুলনা সফর উপলক্ষ্যে ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের সভা থেকে কেসিসি’কে দেয়া দায়িত্বের অগ্রগতিসহ নগরীর সড়ক ও ফুটপথ মেরামত, পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতা ও সৌন্দর্যবর্ধন কাজের অগ্রগতি এবং আরো কি কি প্রয়োজন সে সম্পর্কেও তিনি উপস্থিত সকলকে মতামত প্রদানের অনুরোধ জানান।
সভায় উপস্থিত সকলের মতামতের ভিত্তিতে সড়ক ও ফুটপথ থেকে অপসারণ করা ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের (হকার) ৫টি থানা এলাকায় বিদ্যমান উম্মুক্ত জমিতে অথবা যে সড়কগুলিতে যান চলাচল কম সেখানে পুনর্বাসনের ব্যবস্থা নেয়ার বিষয়ে পরিকল্পনা প্রণয়নের জন্য কেসিসি’র সচিব-কে আহবায়ক করে ১১ সদস্য বিশিষ্ট কমিটি গঠন করা হয়।
সভায় প্রশাসক অবৈধ স্থাপনা অপসারণের পর উম্মুক্ত জায়গা সংরক্ষণ, কচুরিপানা অপসারণকৃত পুকুরে পুনরায় যাতে কচুরিপানা না জমে সে বিষয়ে ব্যবস্থা নেয়া এবং ডেঙ্গু সংক্রমণ হ্রাসে আগামী এক মাস চলমান পরিচ্ছন্নতা অভিযান পরিচালনা করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। একইসাথে প্রধানমন্ত্রীর খুলনায় শুভ আগমন ও এ সম্পর্কিত সকল অনুষ্ঠান সফলভাবে সম্পন্ন করার জন্য কেসিসি’র কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ওপর অর্পিত দায়িত্ব সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে সংশ্লিষ্টদের নির্দেশনা দেন। বিদ্যমান সৌন্দর্যবর্ধন কাজগুলি স্থায়ীভাবে ধরে রাখতে তিনি নগরবাসীসহ সংশ্লিষ্ট সকলের সার্বিক সহযোগিতা কামনা করেন।
এছাড়া সভায় ৯ নং ওয়ার্ডের বাস্তুহারায় ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্প স্থাপনসহ পরিচ্ছন্ন কার্যক্রম ও মশক নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রম জোরদারকরণ, হামের টিকাদানের বিষয়ে কর্মপরিকল্পনা প্রণয়ন এবং আক্রান্ত এলাকার বাড়ি বাড়ি ঘুরে শিশুদের হামের টিকার আওতায় আনা এবং জরায়ু ক্যান্সার প্রতিরোধে আগামী ১ নভেম্বর থেকে স্কুলভিত্তিক কিশোরীদের এইচপিভি টিকা প্রদান কার্যক্রম সুষ্ঠু ও সফলভাবে সম্পন্ন করার সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।
কেসিসি’র প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা রাজিব আহমেদ, সচিব মো: রেজা রশীদ, প্রধান প্রকৌশলী মশিউজ্জামান খান, প্রধান রাজস্ব কর্মকর্তা রহিমা সুলতনা বুশরা, প্রধান বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা মো: আনিসুর রহমান, এক্সিকিউটিভ ম্যাজিষ্ট্রেট আব্দুল্লাহ আল ইমরান, বাজেট কাম একাউন্টস অফিসার মো: মনিজরুজ্জামানসহ সকল বিভাগ ও শাখা প্রধান এবং ওয়ার্ডের ক্ষমতাপ্রাপ্ত কর্মকর্তাগণ সভায় উপস্থিত ছিলেন।


