
খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ে ২৩ জানুয়ারি (শুক্রবার) নানা আয়োজনের মধ্য দিয়ে বাণী অর্চনা (সরস্বতী পূজা) উদযাপিত হয়েছে। এ উপলক্ষ্যে সকাল ৯.৩০ মিনিটে বিশ্ববিদ্যালয় মন্দির প্রাঙ্গণে এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। আলোচনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তৃতা করেন উপ-উপাচার্য প্রফেসর ড. মোঃ হারুনর রশীদ খান।
তিনি বলেন, খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় ধর্মীয় সম্প্রীতির একটি উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। এখানে সব ধর্মের মানুষ নিজ নিজ ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান নির্বিঘ্নে পালন করে আসছে। প্রত্যেক ধর্মই মানুষকে নিজের ধর্ম পালনের পাশাপাশি অন্য ধর্মের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হতে শেখায়। তিনি আরও বলেন, সরস্বতী বিদ্যা ও জ্ঞানের দেবী। বাণী অর্চনার মাধ্যমে জ্ঞানের সাধন করা হয়। জ্ঞানচর্চাই এখানে মুখ্য আরাধ্য। খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় রেখে প্রতিবছর বাণী অর্চনা উদযাপিত হয়ে আসছে। ভবিষ্যতেও এই সম্প্রীতি অটুট থাকবে বলে তিনি প্রত্যাশা করেন।
অনুষ্ঠানে বাণী অর্চনা উদযাপন কমিটি এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের জনসংযোগ ও প্রকাশনা বিভাগের মাধ্যমে প্রকাশিত স্মরণিকা ‘পঞ্চমী’ এর মোড়ক উন্মোচন করেন উপ-উপাচার্য।
খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় মন্দির কমিটির সভাপতি প্রফেসর ড. উত্তম কুমার মজুমদারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরও বক্তৃতা করেন মন্দির কমিটির সহ-সভাপতি ও স্থাপত্য ডিসিপ্লিনের সহযোগী অধ্যাপক গৌরী শংকর রায় ও শিক্ষার্থী হৃতিক বিশ্বাস। স্বাগত বক্তৃতা করেন মন্দির কমিটির সাধারণ সম্পাদক দীপঙ্কর কুমার সাহা। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন আমন্ত্রণপত্র ও প্রচার উপ-কমিটির আহ্বায়ক প্রফেসর ড. তুহিন রায়। এ সময় বিভিন্ন ডিসিপ্লিনের শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও কর্মকর্তা-কর্মচারী ছাড়াও বিপুল সংখ্যক মানুষ উপস্থিত ছিলেন।
এর আগে বিভিন্ন কর্মসূচির মধ্য দিয়ে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ে বাণী অর্চনা উদযাপন করা হয়। কর্মসূচির মধ্যে ছিলো- সকাল ৮টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের মন্দিরে বিগ্রহ স্থাপন, ৮.১৫ মিনিটে দেবীর আমন্ত্রণ, ৮.৩০ মিনিটে দেবীর বরণ, ৮.৪৫ মিনিটে ষোড়শোপচারে পূজা নিবেদন, ১০টায় পুষ্পাঞ্জলি নিবেদন, ১১টায় রাজভোগ নিবেদন, ১১.১৫ মিনিটে হোমযজ্ঞ, দুপুর ১২টায় প্রসাদ বিতরণ। এছাড়া বিকেল ৫টায় ধর্মীয় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে।
প্রকাশক ও সম্পাদক- আলি আবরার । নিরালা, খুলনা থেকে প্রকাশিত