
দেশে জাতীয় নির্বাচন এলেই হিন্দু সম্প্রদায়ের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে— এমন অভিযোগ করেছে বাংলাদেশ জাতীয় হিন্দু মহাজোট। আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে সংগঠনটি জানিয়েছে, দেশের বিভিন্ন স্থানে সংখ্যালঘু হিন্দুদের ওপর নৃশংস ও পরিকল্পিত হত্যা, ধর্ষণ, নির্যাতন ও লুটপাটের ঘটনা বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
এ অবস্থায় নির্বাচনপূর্ব ও পরবর্তী সময়ে হিন্দু সম্প্রদায়ের জানমাল, ঘরবাড়ি, মন্দির ও ধর্মীয় স্থাপনার নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছে সংগঠনটি। একই সঙ্গে সাত দফা প্রস্তাবনা দিয়েছে হিন্দু মহাজোট।
আজ (শুক্রবার) সকালে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির শফিকুল কবির মিলনায়তনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব দাবি জানান বাংলাদেশ জাতীয় হিন্দু মহাজোটের নির্বাহী মহাসচিব ও মুখপাত্র পলাশ কান্তি দে। তিনি বলেন, দেশের প্রতিটি জাতীয় নির্বাচনই হিন্দু সম্প্রদায়ের কাছে আতঙ্কের নাম।
অতীত অভিজ্ঞতার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, নির্বাচন এলেই হিন্দুদের ঘরবাড়ি, মঠ-মন্দির, প্রতিমা ও নারীদের ওপর হামলা বেড়ে যায়। আসন্ন নির্বাচনকেও ঘিরে একই ধরনের সহিংসতার আশঙ্কা করছি। সংখ্যালঘু নির্যাতন দেশে একটি নিয়মিত প্রক্রিয়ায় পরিণত হয়েছে, যা সাম্প্রতিক সময়ে বহুগুণ বেড়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে মহাজোটের নির্বাহী মহাসচিব বলেন, নির্বাচনকে কেন্দ্র করে হিন্দু ভোটারদের ভয়ভীতি দেখানো, ধর্মীয় স্থাপনায় হামলা এবং পরাজয়ের অজুহাতে হিন্দু সম্প্রদায়ের ওপর প্রতিশোধমূলক আক্রমণের প্রবণতা উদ্বেগজনক। অতীতে যেসব প্রার্থী বা রাজনৈতিক কর্মী সংখ্যালঘু নির্যাতনে জড়িত ছিলেন বা উসকানি দিয়েছেন, তারা যে দলেরই হোক না কেন, তাদের ভোট না দেওয়ার আহ্বান করবো।
সরস্বতী পূজার দিনে সব ধরনের পরীক্ষা স্থগিত রাখার দাবিও জানিয়েছে মহাজোটটি।
তিনি জানান, ইতিমধ্যে প্রধান নির্বাচন কমিশনার এ এম এম নাসির উদ্দিনের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে সংখ্যালঘু ভোটারদের নিরাপত্তা নিশ্চিতের লক্ষ্যে সাত দফা প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।
প্রস্তাবগুলোর মধ্যে রয়েছে—নির্বাচনের ১০ দিন আগে থেকে ১০ দিন পর পর্যন্ত সংখ্যালঘুদের বাড়িঘর ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে বাড়তি নিরাপত্তা, নির্বাচনে সেনা মোতায়েন, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে নির্বাচনী প্রচার নিষিদ্ধ, ধর্মের অপব্যবহার বন্ধ, সংখ্যালঘুদের ওপর হামলার ঘটনায় সংশ্লিষ্ট আসনের ভোট স্থগিত ও তদন্তসাপেক্ষে ব্যবস্থা গ্রহণ, নির্বাচন কমিশনে ও প্রতিটি জেলায় সংখ্যালঘু ও নারী ভোটারদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে মনিটরিং সেল গঠন এবং ভোটারদের নিরাপদে ভোট দিয়ে ঘরে ফেরার নিশ্চয়তা দেওয়া।
সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন মহাজোটের সভাপতি ড. প্রভাস চন্দ্র রায়, সিনিয়র সহ-সভাপতি ডিসি রায়, জগন্নাথ হালদার, যুগ্ম মহাসচিব সমীর সরকার, অখিল মণ্ডল প্রমুখ।
প্রকাশক ও সম্পাদক- আলি আবরার । নিরালা, খুলনা থেকে প্রকাশিত