খুলনা (২৮ সেপ্টেম্বর)
দেশের প্রতিরক্ষা ও জাহাজ নির্মাণ শিল্পে ‘মেইড ইন বাংলাদেশ’ সক্ষমতার আরও এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে বাংলাদেশ নৌবাহিনী পরিচালিত খুলনা শিপইয়ার্ড লিমিটেড (কেএসওয়াই)। দেশীয় প্রযুক্তি, প্রকৌশল জ্ঞান ও দক্ষ জনবলের সমন্বয়ে পায়রা বন্দর কর্তৃপক্ষের জন্য নির্মিত হয়েছে ৭০ টন বোলার্ড পুল ক্ষমতাসম্পন্ন আধুনিক টাগবোট ‘টিয়াখালী-৪’।
আজ সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) খুলনা শিপইয়ার্ড লিমিটেডে আনুষ্ঠানিকভাবে টাগবোটটির লঞ্চিং করা হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন খুলনা শিপইয়ার্ড লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক রিয়ার এডমিরাল মো. আব্দুল লতিফ।
এ সময় কেএসওয়াই ও পায়রা বন্দর কর্তৃপক্ষের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং প্রকল্প সংশ্লিষ্টরা উপস্থিত ছিলেন।
পায়রা বন্দর কর্তৃপক্ষের জন্য ৭০ টন বোলার্ড পুল ক্ষমতাসম্পন্ন দুটি টাগবোট নির্মাণ প্রকল্পের আওতায় দ্বিতীয় টাগবোট হিসেবে ‘টিয়াখালী-৪’ নির্মাণ করা হয়েছে। সিঙ্গাপুরের Navnautic Private Limited-এর নকশায় এবং আন্তর্জাতিক মান নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠান Bureau Veritas (BV)-এর তত্ত্বাবধানে নির্মিত হয়েছে টাগবোটটি।
৩৭ মিটার দীর্ঘ ‘টিয়াখালী-৪’-এর ডিসপ্লেসমেন্ট ১ হাজার ১০০ টন এবং ড্রাফট ৫ মিটার। টাগবোটটির সর্বোচ্চ গতি ঘণ্টায় ১৩ দশমিক ৮ মাইল। এতে সংযোজন করা হয়েছে আধুনিক Z-Drive Propulsion System, যা পায়রা বন্দরে জাহাজের বার্থিং, আনবার্থিং, টোয়িং এবং জাহাজের দিক পরিবর্তন ও নিয়ন্ত্রণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
শুধু বন্দরের স্বাভাবিক কার্যক্রমেই নয়, টাগবোটটি বহুমুখী সামুদ্রিক কাজেও ব্যবহারের উপযোগী। এতে রয়েছে আধুনিক ফায়ার ফাইটিং সিস্টেম। পাশাপাশি রেসকিউ অপারেশন, আন্ডারওয়াটার সার্ভে, স্যালভেজ কার্যক্রম, প্রতিকূল আবহাওয়ায় সমুদ্রে চলাচল এবং পাইলট পরিবহনের মতো গুরুত্বপূর্ণ কাজেও এটি ব্যবহার করা যাবে।
খুলনা শিপইয়ার্ডের এই অর্জনকে দেশের জাহাজ নির্মাণ শিল্পে আধুনিক প্রযুক্তি ও দেশীয় দক্ষতার সমন্বয়ের আরেকটি মাইলফলক হিসেবে দেখা হচ্ছে। প্রতিষ্ঠার পর থেকে কেএসওয়াই ৮০০টিরও বেশি নতুন জাহাজ নির্মাণ এবং ২ হাজার ৫০০টিরও বেশি জাহাজ মেরামতের অভিজ্ঞতা অর্জন করেছে।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, উচ্চপ্রযুক্তিনির্ভর ‘টিয়াখালী-৪’ নির্মাণের মাধ্যমে দেশের জাহাজ নির্মাণ শিল্পে নিজস্ব সক্ষমতা ও কারিগরি উৎকর্ষের আরও একটি দৃষ্টান্ত তৈরি হলো। একই সঙ্গে পায়রা বন্দরের সামুদ্রিক কার্যক্রমকে আরও গতিশীল করার পাশাপাশি দেশের সামুদ্রিক অবকাঠামো ও ব্লু ইকোনমি বিকাশেও টাগবোটটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।


