
পূর্ব সুন্দরবনে চলছে বনরক্ষীদের কম্বিং অপারেশন। অপারেশন শুরু হওয়ার গত ১৫ দিনে সুন্দরবনের বিভিন্ন স্থান থেকে উদ্ধার হয়েছে বিপুল পরিমাণ হরিণধরা ফাঁদ, হরিণের মাংস এবং এসময় আটক করা হয়েছে ১১ জনকে। সুন্দরবনে হরিণসহ বণ্যপ্রাণী শিকার প্রতিরোধে ১ মে থেকে শুরু হয়েছে কম্বিং অপারেশন। ৩১ মে পর্যন্ত চলবে এই অপারেশন কার্যক্রম।
বনবিভাগ সূত্রে জানা যায়, সাম্প্রতিক সময়ে সুন্দরবনে ব্যাপকভাবে হরিণ শিকার বৃদ্ধি পেয়েছে। চোরাশিকারীরা বনের গহীনে নাইলনের তৈরী জালের ফাঁদ পেতে হরিণ শিকার করে আসছে। গত ৩০ এপ্রিল দায়িত্ব গ্রহণ করে সুন্দরবন পূর্ব বিভাগ বাগেরহাটে নবাগত বিভাগীয় বন কর্মকর্তা (ডিএফও) সুন্দরবনে হরিণ সহ বন্যপ্রাণী পাঁচার প্রতিরোধে ১ মে থেকে ৩১ মে পর্যন্ত পূর্ব সুন্দরবনে কম্বিং অপারেশন চালানোর জন্য বনরক্ষীদের নির্দেশনা দিয়েছেন। বনরক্ষীরা সুন্দরবনের গহীনে পায়ে হেটে তল্লাশি কার্যক্রম চালাবে। ১ মে থেকে ১৮ মে পর্যন্ত বনরক্ষীরা সুন্দরবনের শরণখোলা ও চাঁদপাই রেঞ্জের গহীন জঙ্গলে খুঁজে খুঁজে বিপুল পরিমাণ হরিণ ধরা ফাঁদ, হরিণের মাংস, বিষ মিশ্রিত চিংড়ি মাছ, নিষিদ্ধ কাকড়া ধরা চারু উদ্ধার করেছেন। এসময় ডিঙ্গি নৌকা ও ট্রলার সহ আটক হয়েছেন ১১ জন।
এর মধ্যে চাঁদপাই রেঞ্জের বন থেকে ২৪ কেজি হরিণ ধরা ফাঁদ, ৪২ কেজি হরিণের মাংস, ৭০ কেজি বিষ মিশ্রিত চিংড়ি মাছ, এক বোতল কীটনাশক, ১৪২ টি কাকড়া ধরার নিষিদ্ধ চারু এবং ৪টি ডিঙ্গি নৌকা সহ আটক হয়েছে ৫জন।
এ সময় শরণখোলা রেঞ্জের বন থেকে উদ্ধার হয়েছে ২০ কেজিরও বেশি হরিণ ধরা ফাঁদ। এবং সুন্দরী কাঠ বোঝাই ট্রলার সহ আটক হয়েছেন ৬ জন। এ সকল ঘটনায় পৃথক পৃথক বিভাগীয় বন মামলা দায়ের করেছে।
পূর্ব সুন্দরবন বিভাগ বাগেরহাটের নবাগত বিভাগীয় বন কর্মকর্তা (ডিএফও) মোঃ রেজাউল করিম চৌধুরী বলেন, সুন্দরবনে হরিণ শিকার প্রতিরোধ ও বন অপরাধ কমানোর লক্ষ্যে ১ মে থেকে মাসব্যাপী পূর্ব সুন্দরবনে বনরক্ষীদের দিয়ে কম্বিং অপারেশন শুরু করা হয়েছে। গত ১৮ দিনে অপারেশনের সফলতা পাওয়া গেছে। এ সময় বিপুল পরিমান হরিণ ধরা ফাঁদ উদ্ধার সহ বিভিন্ন দ্রব্য জব্দ করা হয়েছে। এমনকি ১৮ মে সকালে চাঁদপাই রেঞ্জের শ্যালা নদীর পাড়ে বনের মধ্যে গর্ত করে মাটির নিচে লুকিয়ে রাখা বেশ কিছু হরিণ ধরা ফাঁদ বনরক্ষীরা উদ্ধার করেছে। এছাড়া অপারেশন চলাকালীন সুন্দরবনে কাকড়া ধরা নিষিদ্ধ চারু ও মাছ ধরা জাল পুড়িয়ে ধ্বংস করা হয়েছে বলে ডিএফও জানিয়েছেন।
প্রকাশক ও সম্পাদক- আলি আবরার । নিরালা, খুলনা থেকে প্রকাশিত