
যেকোনো মূল্যে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া চালু করার আহ্বান জানিয়ে বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, মতপার্থক্য ভুলে সবাইকে একযোগে কাজ করতে হবে। হিংসা ও প্রতিশোধের পরিণতি কী হতে পারে, সেটা আমরা দেখেছি চব্বিশের ৫ আগস্ট। মতপার্থক্য যাতে মতবিভেদ না হয়ে যায়, বিভেদের কারণ না হয়। সবাই মিলে কাজ করতে হবে।
শনিবার (১০ জানুয়ারি) রাজধানীর বনানীর হোটেল শেরাটনে সাংবাদিকদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।
চেয়ারম্যান হিসেবে শুক্রবার রাতে দলের দায়িত্ব গ্রহণের পর তারেক রহমান শনিবার দিনের প্রথম কর্মসূচি শুরু করেন সাংবাদিকদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে। দেশের জাতীয় দৈনিকের সম্পাদক, ইলেক্ট্রনিক মিডিয়ার শীর্ষ প্রধানসহ জ্যেষ্ঠ সাংবাদিকরা এই অনুষ্ঠানে যোগ দেন।
তারেক রহমান বলেন, ‘আগামী নির্বাচনে ইনশাল্লাহ জনগণের ম্যান্ডেট নিয়ে আমরা সরকার গঠনে সক্ষম হলে আমাদের একটি পরিকল্পনা রয়েছে। গত ২৫ তারিখে যখন আমি দেশে এসে একটি কথা বলেছিলাম, মার্টিন লুথার কিং যেমন ৬২ বছর আগে বলেছিলেন, আই হ্যাভ এ ড্রিম। আমি বলেছিলাম, আই হ্যাভ এ প্ল্যান। সেই প্ল্যানের মধ্যে একটি অংশ আছে বাংলাদেশের যে হাফ পপুলেশন নারী তাদেরকে ঘিরে। সেটি হচ্ছে ফ্যামিলি কার্ড। যেমন- ফ্যামিলি কার্ড এর একটি পরিকল্পনা… একজন নারী এটা পাবেন, একজন গৃহিণী বা একজন হাউসওয়াইফ এটা পাবেন। কার্ডটি সারাজীবনের জন্য নয়…৫ থেকে ৭ বছরের জন্য দেব, এই ৫ থেকে ৭ বছর তাকে আমরা একটা সাপোর্ট দেওয়ার চেষ্টা করব। সবাই এক কার্ড পাবেন। সেটি লক্ষ্য বা উদ্দেশ্য হচ্ছে, এই নারী সমাজকে গড়ে তোলা। আমাদের হিসাব মতে বাংলাদেশে ৪ কোটি ফ্যামিলি আছে। আমরা যদি পরিবার হিসেবে ভাগ করি এভারেজে একটি পরিবারে ৫ জন করে সদস্য ধরা হয়েছে।
‘সামনে চ্যালেঞ্জ অনেক’
বিএনপির চেয়ারম্যান বলেন, ‘একজন রাজনৈতিক কর্মী হিসেবে আমার কাছে মনে হয় সামনে আমাদের অনেক কঠিন চ্যালেঞ্জ আছে। আমাদের মধ্যে বিভিন্ন রকম মতপার্থক্য আছে। একজন রাজনৈতিক কর্মী হিসেবে আজকে আপনাদের কাছে এবং আপনাদের মাধ্যমে সব রাজনৈতিক দলের সদস্যদের কাছে সামগ্রিকভাবে সমাজের সব মানুষের কাছে আমি একটি বিনীত আহ্বান রাখতে চাই যে, আমাদের বিভিন্ন মত পার্থক্যগুলো যাতে আমরা আলোচনা করতে পারি, আলাপ করতে পারি। আমাদেরকে যেকোনো মূল্যে ডেমোক্রেটিক প্রসেস যেটা আমরা ১২ তারিখ (ফেব্রুয়ারি) থেকে শুরু করতে যাচ্ছি।’
আমাদেরকে যেকোনো মূল্যে হোক ডেমোক্রেটিক প্রসেসটা চালু রাখতে হবে উল্লেখ করে তারেক রহমান বলেন, জবাবদিহিটা চালু রাখতে হবে যেকোনো মূল্যে। সেটি জাতীয় পর্যায়ে হোক, লোকাল পর্যায়ে হোক অর্থাৎ ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন হোক, পৌরসভা নির্বাচন, লোকাল পর্যায়ে নির্বাচন হোক, সেটা কোনো ট্রেড বডির ইলেকশন হোক। আমার যেটা বিশ্বাস আমরা যেকোনো মূল্যে যদি এই জবাবদিহিতাটা, গণতান্ত্রিক প্রসেসটা যদি কন্টিনিউ করতে পারি, অনেক বেগ হয়ত আসবে, অনেক কঠিন হবে কিন্তু একটা সার্টেন টাইম পরে আমরা যদি গণতান্ত্রিক প্রসেসটাকে কন্টিনিউ করে যেতে পারি তাহলে নিশ্চয়ই আমরা অবস্থার পরিবর্তন ঘটাতে সক্ষম হব।
‘আসুন দেশের মানুষের জন্য কাজ করি’
তারেক রহমান বলেন, ‘কাউকে আঘাত না করে আমি বলতে চাইছি, কোনো রাজনৈতিক দলের নেতা-সদস্য কাউকে আঘাত করতে চাইছি না … আমি আমার চিন্তাটা শুধু ওনাদের সামনে তুলে ধরতে চাইছি যে, আসুন দেশের মানুষের শিক্ষা, স্বাস্থ্য, নারীদের অধিকার, এমপাওয়ারমেন্ট, কর্মসংস্থান পরিবেশ… সবকিছু মিলিয়ে এই যে বিষয়গুলো যেটি সাধারণ মানুষের জন্য প্রযোজ্য। আমরা অনেকদিন ধরে রিফর্মের বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা করেছি। এই রিফর্মের মধ্যে আমার কাছে মনে হয়েছে যে তিনটি পার্ট আছে। একটি হচ্ছে সাংবিধানিক পার্ট, একটি হচ্ছে আইনগত পার্ট এবং আরেকটি হচ্ছে মানুষের প্রতিদিনের জীবনযাত্রা নিরাপত্তা, তাদের সিকিউরিটি সবকিছু নিয়ে একটি পার্ট আছে।
তিনি আরও বলেন, আমরা সাংবিধানিক বিষয় নিয়ে আলোচনা করেছি, আইনগত বিষয় নিয়ে আলোচনা করেছি। আমার মনে হয়েছে, মানুষের প্রতিদিনকার প্রত্যেকটি মানুষ সব সমাজের প্রত্যেকটি শ্রেণি পেশার মানুষ তাদের প্রতিদিনকার যেই চাওয়া-পাওয়া, প্রয়োজনগুলো সেটি নিয়ে বোধহয় আমরা আলাপ আলোচনা একটু কম করেছি। আমার কাছে মনে হয়েছে সেই বিষয়গুলো নিয়ে বোধহয় আলোচনা করা উচিত, সেই বিষয়গুলো নিয়ে বোধহয় প্রত্যেকটি রাজনৈতিক দলের আলোচনা করা উচিত। আমরা শুধু রাজনৈতিক বিষয় নিয়ে সেমিনার করছি, সিম্পোজিয়াম করছি আলোচনা করছি, তর্ক বিতর্ক করছি। অবশ্যই ওগুলো প্রয়োজন আছে কিন্তু অ্যাট দা সেম টাইম আমরা যদি মানুষের প্রতিদিনকার তার চিকিৎসা ব্যবস্থা কী হবে, তার কর্মসংস্থান কী হবে, তার পরিবারের সন্তানদের শিক্ষা ব্যবস্থা কী হবে, রাস্তায় বের হলে নিরাপদে সে ফিরে আসতে পারবে কি না…. এই বিষয়গুলো নিয়ে বোধহয় আমাদের আলোচনা আরেকটু বেশি হওয়া উচিত। এই বিষয়গুলো নিয়ে বোধহয় আমাদের প্ল্যান প্রোগ্রাম আরেকটু বেশি হওয়া উচিত, আমাদের চিন্তাভাবনা আরেকটু বেশি হওয়া উচিত।
‘নির্বাচনী প্রচারণায় মাঠে নামবেন ২২ জানুয়ারি’
তারেক রহমান বলেন, সামনে নির্বাচন, আমি একটি রাজনৈতিক দলের সদস্য। স্বাভাবিকভাবেই আমরা ২২ তারিখ থেকে আমাদের সব রকম পরিকল্পনা নিয়ে জনগণের সামনে যাব।
‘আলোচনা-সমালোচনা দুইটাই চাই’
তারেক বলেন, ‘আমরা দেশের মানুষের সমর্থন নিয়ে সরকার গঠনে সক্ষম হলে যাতে আপনাদের কাছ থেকে এমন ধরনের আলোচনা-সমালোচনা পাই যেটা আমাদেরকে সাহায্য করবে দেশকে সামনে এগিয়ে নিয়ে যেতে। শুধু সমালোচনা সমালোচনা করার জন্য নয়। আপনাদের কাছ থেকে এমন সমালোচনা আমরা পাই যাতে আমরা দেশের মানুষের যে সমস্যাগুলো আছে সেই সমস্যাগুলো যাতে আমরা সমাধান করতে সক্ষম হই। আমরা সরকার গঠনে সক্ষম হলে সেই প্রত্যাশা আপনাদের কাছে রাখছি।
‘আমরা ৫ আগস্টে ফিরে যেতে চাই না’
তারেক রহমান বলেন, আমাদের সমস্যা ছিল, সমস্যা আছে। অবশ্যই আমরা ৫ আগস্টের আগে ফিরে যেতে চাই না। আমি আমার অবস্থান থেকে যদি চিন্তা করি, আমার এক পাশে ১৯৮১ সালের একটি জানাজা। একইসঙ্গে আমার এক পাশে ২০২৫ সালের ৩১ ডিসেম্বরের একটি জানাজা। আর আরেক পাশে ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের একটি ঘটনা। কাজেই আমার মনে হয় এটি শুধু বোধহয় আমার একার জন্য নয়। যারা আমার দলের নেতাকর্মী সদস্য এবং সামগ্রিকভাবে পুরা দেশের মানুষের সামনে বোধহয় এই দুটি উদাহরণ বাদ বিবেচনা করার জন্য সবচাইতে ভালো উদাহরণ যে, আসলে ৫ আগস্টে ফিরে যাওয়ার কোনোই কারণ নেই আমাদের।
‘মতপার্থক্য যেন মতবিভেদে না যায়’
তারেক রহমান বলেন, হিংসা, প্রতিশোধ, প্রতিহিংসা, একটি মানুষ, একটি দল বা যেভাবে আমরা বিবেচনা করি তার পরিণতি কী হতে পারে দেখেছি ৫ আগস্ট। আমি সেজন্যই সবাইকে অনুরোধ করব দলমত নির্বিশেষে আমাদের মধ্যে মতপার্থক্য থাকবে কিন্তু আমরা যদি চেষ্টা করি তাহলে সেই মতপার্থক্যটাকে মতপার্থক্যের মধ্যে রেখে আলোচনার মাধ্যমে সেটির অনেক সমস্যার সমাধান হয়ত আমরা বের করে আনতে সক্ষম হব। কিন্তু কোনোভাবেই সেটি যাতে মতবিভেদের পর্যায়ে চলে না যায়। মতবিভেদ হলে বিভেদ হলে জাতিকে বিভক্ত করে ফেললে কী হতে পারে আমরা দেখেছি। আজকে সেজন্যই অনেকের মুখে অনেক কথা শুনি, হতাশার কথা আমরা শুনি কিন্তু তারপরও আশার কথা হচ্ছে যে, তাদের কাছে ভবিষ্যতের চিন্তাও আছে, ভবিষ্যতের পরিকল্পনা আছে।
‘দেশে কী হয়েছে আমি জানি’
তারেক বলেন, আমি দেশে অনেক দিন থাকতে পারিনি… কী কারণে সে প্রসঙ্গে আপনাদের কম বেশি ধারণা আছে। তবে সারাক্ষণই দেশের সঙ্গে আমার যোগাযোগ ছিল। দেশের মানুষের সঙ্গে কী হয়েছে? এখানে মাহমুদুর রহমান (আমার দেশ সম্পাদক) সাহেব বলেছেন একটি উদাহরণ দিয়ে…ওনার প্রতি পূর্ণ সম্মান রেখেই আমি বলতে চাইছি, ওনার সঙ্গে ওনার রক্ত মাখা ছবি এখনও আমার চোখের সামনে ভাসে। কাজেই ওনার সঙ্গে কী হয়েছে আমি যেমন জানি, রুহুল আমিন গাজী (ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের প্রয়াত সভাপতি) সাহেবের সঙ্গে কী হয়েছে যেভাবে নিনি মৃত্যুবরণ করেছেন জেলের মধ্যে সেটি আমি জানি। সবচেয়ে বড় বিষয় হচ্ছে আমার ৬০ লাখ নেতাকর্মী এবং তার থেকে আরেকটি হৃদয় বিদারক আমার জন্য হচ্ছে সেটি হচ্ছে, আমার মায়ের সঙ্গে কী হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, কাজেই এই ঘটনাগুলো যদি আমরা সবগুলোকে এক করি তাহলে যারা দেশে ছিলেন আপনারা অবশ্যই আমার থেকে একটু বেটার ভালো জানবেন। তবে আমি একদম যে জানি না, বোধহয় বিষয়টি তা নয়, আমার একটি ধারণা আছে।
‘নতুন প্রজন্ম দিক নির্দেশনা চায়’
তারেক বলেন, আমার দেশে ফিরে আসার পরে আমি যে কয়বার আমার বাইরে যাওয়ার একটু বেশি সুযোগ হয়েছে… আমি সাভারে গিয়েছিলাম আরও কয়েকটি জায়গায় গিয়েছিলাম আমার কাছে মনে হয়েছে নতুন প্রজন্ম একটি গাইডেন্স চাইছে, নতুন প্রজন্ম একটি আশা দেখতে চাইছে। শুধু নতুন প্রজন্ম না আমার কাছে মনে হয়েছে প্রত্যেকটি প্রজন্মই মনে হয় কিছু একটি গাইডেন্স চাইছে।
‘আমরা যারা রাজনীতিবিদ করি আমাদের কাছে হয়ত অনেক প্রত্যাশা। সব প্রত্যাশা হয়তো বা পূরণ করা সম্ভব নয়। কিন্তু আমরা রাজনীতিবিদরা যদি ১৯৭১ সাল, ১৯৯০ সাল, ২০০৪ এর ২৪ সালের ৫ আগস্ট এই সবগুলোকে আমাদের সামনে রেখে আমরা যদি দেশের স্বাধীনতা দেশের সার্বভৌমত্বের জন্য কাজ করি তাহলে নিশ্চয়ই আমার কাছে মনে হয় একজন রাজনৈতিক কর্মী হিসেবে আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি, আমরা জাতিকে একটি সঠিক ডাইরেকশনে নিয়ে যেতে সক্ষম হব।’
যুক্তরাজ্যের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, একটি ছোট ঘটনা আপনাদের সামনে আমি তুলে ধরতে চাই। আমাকে চিকিৎসার জন্য এ দেশ থেকে ২০০৮ সালে চলে যেতে হয়েছিল যুক্তরাজ্যে। ২০০৮ সালে যাওয়ার পরে ২০১০ সালে সেখানে প্রথম একটি নির্বাচন আমি দেখেছিলাম। যেহেতু সেটি নির্বাচন ছিল স্বাভাবিক রাজনৈতিক কর্মী হিসেবে আমার একটি ইন্টারেস্ট ছিল…. টিভির সামনে বসে আমি ডিবেট দেখছিলাম। সেখানে দুটি মেইন দলের নেতার মধ্যে লেবার এবং কনজারভেটিভ দলের মধ্যে এই ডিবেট। অনেকদিন ধরে লেবার ছিল, ২০১০ সালের নির্বাচনে কনজারভেটিভ আসে তো দুই দলের দুই নেতার মধ্যে একটি আলোচনা হচ্ছিল।
বিএনপির চেয়ারম্যান বলেন, খুব দুঃখজনক হলো বাংলাদেশ বাদই দিলাম শুধু ঢাকা শহরের মধ্যেই কোনো অ্যাম্বুলেন্স সার্ভিস নেই। গত ৫৪/৫৫ বছরে আমরা মানুষের চিকিৎসা সেবার জন্য অ্যাম্বুলেন্স সার্ভিস গড়ে তুলতে সক্ষম হইনি… এটি খুব দুঃখজনক ব্যাপার। এই অ্যাম্বুলেন্স সার্ভিস নিয়ে ওই দুই নেতার মধ্যে তখন কথা হচ্ছিল। যতটুকু আমার মনে আছে তখন ইমার্জেন্সির জন্য অ্যাম্বুলেন্স সার্ভিস কল করলে ২০ মিনিটের মত সময় লাগত অ্যাম্বুলেন্স আসতে। একজন বলছে ২০ মিনিট লাগে… এটাকে আমরা ১৯ মিনিটে নিয়ে আসব। আরেকজন বলছিল ২০ মিনিট লাগে এটাকে আমরা ১৫ মিনিটে নিয়ে আসব। অর্থাৎ একজন এক মিনিট কমাচ্ছে একজন ৫ মিনিট কমাচ্ছে। এই কাজটি তারা তাদের জনগণের জন্যই করতে চাইছে।
‘পানি সমস্যা’
তারেক বলেন, ‘পানির সমস্যা…এখন যেভাবে চলছে এভাবে যদি চলে আমার যতটুক ধারণা আগামী ১০ থেকে ১৫ বছর হার্ডলি ২০ বছর পরে ঢাকা শহরে কোনো জায়গা থেকে পানি আমরা পাব না। আমাদের বুড়িগঙ্গা নদী সম্পূর্ণরকম পলিউটেড… ১০০% পলিউটেড। শীতলক্ষ্যা নদী ৫০% এর মতো পলিউটেড। এখন মেঘনা নদী থেকে পানি আনার চেষ্টা করা হচ্ছে , কয়েকটা প্রজেক্ট কাজ হচ্ছে। কিন্তু এটার পানিও আগামী ১০ থেকে ১৫ বছরের মধ্যে পলিউটেড হয়ে যাবে।’
‘ঢাকা শহরে যে সাড়ে তিন কোটি মানুষের মতন মানুষ বাস করছে… এরা পানি পাবে না। পানির অপর নাম জীবন। সারা দেশে যদি এই সমস্যা শুরু হয় তাহলে বিষয়টি কত ভয়াবহ হতে পারে আমার মনে হয় এরকম বিষয়গুলো নিয়ে বোধহয় এখন আলোচনা হওয়া উচিত। সেটি সংসদে হোক সেটি বিভিন্ন সেমিনারে হোক। কারণ তা না হলে একটি ভয়াবহ ভবিষ্যৎ আমাদের সামনে অপেক্ষা করছে হয়তবা হুইচ ইজ ভেরি আনওয়ান্টেড।’
‘কর্মসংস্থান’
তারেক রহমান বলেন, ‘আমাদের ২০ কোটির মত মানুষ এই দেশে এবং এই ২০ কোটি মানুষের মধ্যে একটি বড় অংশ হচ্ছে তরুণ সমাজের সদস্য। এই তরুণ সমাজের সদস্যদেরকে বিভিন্নভাবে আমাদেরকে উপায় বের করতে হবে… কীভাবে তাদের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা যায় … সেটি দেশের ভিতরে হোক সেটি দেশের বাইরে হোক।’
‘আমরা যদি এটি সক্ষম না হই এই কাজটি করতে তাহলে আমরা ৫ আগস্ট বলি, ৯০ এর আন্দোলন বলি, ১৯৭১ সালের স্বাধীনতা যুদ্ধ বলি, আমাদের মনে হয় খুব সম্ভবত প্রত্যেকটি প্রত্যাশা ধ্বংস হয়ে যাবে।’
নারী-পুরুষের নিরাপত্তার প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশে গত বছরে ৭ হাজারের মত মানুষ রোড অ্যাক্সিডেন্টসে মারা গিয়েছে। আমার কাছে বিষয়টি খুব অস্বাভাবিক লাগে। আমার ধারণা আপনারা যদি একটু চিন্তা করেন আপনাদের প্রত্যেকের কাছে বিষয়টি অস্বাভাবিক লাগবে কিন্তু ঘটনাটি ঘটছে…. কোনো বছর বেশি কোনো বছর কম। এই অস্বাভাবিক ঘটনাটি কেন ঘটবে?’
‘একজন মানুষ রোড অ্যাক্সিডেন্টে অধিকাংশ ক্ষেত্রে যারা মারা যাচ্ছে আমরা যদি তাদের সামাজিক স্ট্যাটাসটা দেখি খুব অবস্থাপন্ন লোক যারা আর্থিকভাবে স্বচ্ছল তারা যে মারা যাচ্ছেন তা না। কিন্তু যে মানুষগুলো মারা যাচ্ছে সেই মানুষটি হয়তো বা তাদের ফ্যামিলির অনলি আর্নিং সোর্স মারা যাওয়ার পরে সেই ফ্যামিলিটির কী হচ্ছে অথবা লোকটি যদি পঙ্গু হয়ে যায়, মানুষটি যে পঙ্গু হয়ে যায় তাহলে তার ফ্যামিলির উপরে কী হচ্ছে। এই বিষয়টি বোধহয় আমাদেরকে নজরে আনা উচিত। এরকম অনেকগুলো বিষয় আছে যে বিষয়গুলো আমার মনে হয় রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে চিন্তাভাবনা হওয়া উচিত।’
কৃষকদের অবস্থা তুলে ধরে তারেক বলেন, ‘কৃষকদের বিভিন্ন অসহায়ত্বের নিউজ আপনাদের সংবাদপত্রে প্রকাশ হয় বিভিন্ন সময়ে আপনাদের খবরে প্রকাশিত হচ্ছে বিভিন্ন সময়ে সেটি ইলেকট্রনিক মিডিয়ায় হোক সেটি মেইন মিডিয়া প্রিন্টেড মিডিয়াতেই হোক প্রকাশিত হয়েছে। আমার বিগত সরকারের কথা বলব, আমার দলের বিগত সরকারের কথা বলব সেই সরকার বিভিন্ন সময় বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে।’
তারেক রহমান বলেন, এত বিশাল সংখ্যাক কৃষক যারা ২০ কোটি মানুষের খাওয়ার ব্যবস্থা করছে, অন্নের সংস্থান করছে সেই এত বড় সমাজটাকে কীভাবে সাপোর্ট দেওয়া যায়? তাদের হয়ত সেভাবে বলার সুযোগ নেই। এখানে আপনারা সংবাদপত্রের যারা কর্মী আছেন আপনাদের কিছু সমস্যার কথা বলেছেন, আপনাদের সমস্যাটা আমাদের জন্য শুনতে জানতে সহজ হয় কারণ আমাদের জন্য একটা ভেন্যু আছে যেখানে আমরা আলাপ করতে পারি। কিন্তু ওই কৃষকগুলো যাদের কোনো ভেন্যু নেই যারা এরকম একটা প্রোগ্রাম অর্গানাইজ করতে পারছে না তারা কীভাবে বলবে কথাগুলো? কাজেই তাদের কথা তো আমাদের জানতে হবে।
নারীদের শিক্ষার প্রসার এবং শিক্ষিত নারীদের অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করতে ফ্যামিলি কার্ড চালুর কথা তুলে ধরেন তারেক রহমান।
‘দুর্নীতি কমানো’
তারেক রহমান বলেন, ‘করাপশনটাকে যাতে স্প্রেড না করে, করাপশনটা যাতে স্বাভাবিক একটা পর্যায়ে থাকে। কিছু তো এনোমেলিজ হতে পারে সেটি আমরা গ্রাজুয়ালি ঠিক করব।’
‘জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণ’
‘আরেকটি ভয়াবহ পরিস্থিতি হচ্ছে যে, আমাদের জনসংখ্যা যেভাবে বাড়ছে। আমরা যদি সৌদি আরব বা কুয়েতের সবগুলো তেল খনিও এখানে নিয়ে আসি তাহলে হয়তো আমরা এই এত রিসোর্স দিয়ে আমরা এত মানুষের সমস্যা সমাধান করতে পারব না।’
তিনি আরও বলেন, সেজন্য আমাদেরকে অবশ্যই পপুলেশন কন্ট্রোলে যেতে হবে। আমাদের দেশের জনসংখ্যাকে সীমাবদ্ধতার মধ্যে আনতে হবে এবং সেজন্য এই হেলথ কেয়ার যে নিয়োগ হবে এই হেলথ কেয়ারের শতকরা ৮০ থেকে ৮৫ শতাংশ…. ১ লাখের মত আমাদের টার্গেট নিয়োগ করা। এই হেলথ কেয়ারের ৮০ থেকে ৮৫ শতাংশ আমরা নারী কর্মীকে নিয়োগ করতে চাই যাতে নারী কর্মীরা গিয়ে ঘরে ঘরে বোঝাতে সক্ষম হন যে, কী জন্য প্রয়োজন হাইজিন মেইনটেইন করা এবং পরিবারকে সুস্থ রাখা, একইসঙ্গে পরিবারকে একটি একটি রিজনেবল সাইজের মধ্যে রাখা পরিবারের সদস্য সংখ্যা।
কৃষক কার্ড, স্বাস্থ্য কার্ড, সবার জন্য চিকিৎসা সুবিধা, তরুণ সমাজের কর্মসংস্থানের জন্য ভোকেশনাল টেকনোলজিক্যাল ইনস্টিটিউশন আধুনিকায়ন এবং প্রশিক্ষনের মাধ্যমে দক্ষ জনশক্তি গড়ে তোলা, আইটি সেক্টার, উদ্যোক্তা তৈরি করা, আইটি পার্কগুলোকে নতুনভাবে সুবিধা দিয়ে গড়ে তোলা, কন্টেট তৈরির কাজে বিভিন্ন প্রতিবন্ধকতা দূর করে আরও সহজ করা।
প্রকাশক ও সম্পাদক- আলি আবরার । নিরালা, খুলনা থেকে প্রকাশিত