
সরকার পতনের আন্দোলন শুরু হয়ে গেছে, কাজেই দফারফা না করে আর ঘরে ফিরবো না বলে মন্তব্য করেছেন গণঅধিকার পরিষদের (একাংশ) সভাপতি নুরুল হক নুর।
তিনি বলেন, এই আন্দলনে যারা আহত, নিহত হবে প্রত্যেকের দায়ভার, ক্ষতিপূরণ বিএনপিসহ আমরা বিরোধী দল দেবো। খেলা এতদিন কাদের সাহেব বলেছেন, শামীম ওসমানরা বলেছেন, আজ আমরা বাঁশি দিয়ে দিলাম। ফাইনাল খেলা শুরু হয়েছে। সুতরাং এখন আর কোনো নির্দিষ্ট মাঠে, নির্দিষ্ট দলে নয়, পুরো মাঠ ধরে খেলতে হবে।
শুক্রবার (২৮ জুলাই) এক দফা দাবিতে বিক্ষোভ সমাবেশে এসব কথা বলেন তিনি। পল্টনের জামান টাওয়ারের সামনে এই বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।
নুরুল হক নুর বলেন, আপনারা সবাই সর্বাত্মক প্রস্তুতি নিন। কোনো খেলায় অন্যায়ভাবে যদি আমাদের নেতাকর্মীদের অবরুদ্ধ করে, আপনারা ঘেরাও করবেন। একজন সহযোদ্ধাকে গ্রেফতার হতে দেবেন না।
তিনি বলেন, এরই মধ্যে সামরিক বাহিনী, পুলিশ বাহিনী, প্রশাসন থেকে আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ শুরু হয়ে গেছে। তারা বলছেন- চালিয়ে যান আপনারা, আমরা দাঁড়িয়ে যাবো আপনাদের পাশে। সুতরাং আপনারা ভয় পাবেন না। প্রশাসনের কোথায় কী হচ্ছে, সব তথ্য আমরা পাচ্ছি। কাজেই এই আন্দোলন ইন্টারনেট বন্ধ করে, বাস-গাড়ি চেক করে দমন করা যাবে না। একটা বাসে যদি ৫০-৬০ জন লোক আসে, পাঁচজন পুলিশ থাকলে তাদের প্রতিহত করে আপনারা ঢাকায় ঢুকতে পারবেন না? ১০-১৫ জন ছাত্রলীগ থাকলে আপনারা ৫০-৬০ জন আছেন, প্রতিহত করতে পারবেন।
নুর বলেন, আগামীকাল বেলা ১১টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত শান্তিপূর্ণভাবে ঢাকাকে অবরুদ্ধ করার জন্য ঢাকার প্রবেশ মুখে গণঅধিকার পরিষদসহ সব বিরোধীদলের অবস্থান কর্মসূচি। যেখানেই যার কর্মসূচি এটাই আপনাদের ঠিকানা।
এই আন্দলনে যারা আহত, নিহত হবে প্রত্যেকের দায়ভার, ক্ষতিপূরণ বিএনপিসহ আমরা বিরোধীদল দেবো। আন্দোলন শুরু হয়ে গেছে, কাজেই দফারফা না করে আমরা আর ঘরে ফিরবো না। কাজেই আন্দোলনে যার যতটুকু সামথ্র্য আছে, আপনারা সহযোগিতা নিয়ে আমাদের পাশে দাঁড়াবেন। বিএনপি, জামায়াত, বাম, ডান যারাই রাস্তায় আছে এক প্যাকেট খিঁচুড়ি কিংবা এক বোতল পানি, এক প্যাকেট বিস্কুট যার যা কিছু আছে তাই নিয়ে আপনারা এই আন্দোলন সফল করার জন্য আন্দোলনকারীদের পাশে দাঁড়িয়ে যাবেন, বলেন ডাকসুর সাবেক এই ভিপি।
তিনি বলেন, বিভিন্ন পত্রপত্রিকায় একটি রিপোর্ট দেখেছি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রদের হল থেকে ছাত্রলীগ, যুবলীগের সমাবেশে আসতে বাধ্য করা হচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ সারা দেশের ছাত্র সমাজের ভাই-বোনদের প্রতি ডাকসুর ভিপি হিসেবে উত্তপ্ত আহ্বান রাখতে চাই, কোটা সংস্কার আন্দোলনের সময় আপনারা দেখেছেন ছাত্রলীগের নেত্রীদেরকে আন্দোলনকারীরা জুতার মালা পরিয়ে হল থেকে বিতাড়ন করেছিল। আপনারা ঐক্যবদ্ধ হন, ওরা ক্যাম্পাস ছেড়ে পালাবে। সাধারণ শিক্ষার্থীরা দুর্বৃত্তদের রূখে দাঁড়ানোর প্রস্তুতি নেন। সারা দেশে যেখানে সমাবেশে আসতে বাধা হবে, সেখানেই লড়াই হবে।
নুর আরও বলেন, চূড়ান্ত লড়াই-সংগ্রাম এখন চলছে। এসপার ওসপার করার এখন আমাদের মোক্ষম সময়। আমাদের পিছু তাকানোর সময় নেই। বিশেষ করে ঢাকাবাসীকে অনুরোধ করবো, তৃতীয় মুক্তিযুদ্ধের ডাক এসেছে আপনাদের সামনে। বাংলার মানুষের রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক মুক্তির জন্য এই তৃতীয় মুক্তিযুদ্ধ যার যা কিছু আছে তাই নিয়ে রাজপথে নেমে আসুন। আমাদের … অনুরোধ করবো আপনারা রান্না ঘর থেকে খুন্তি, হাড়ি-পাতিল নিয়ে আপনাদের সন্তান, স্বামী তথা এই দেশকে রক্ষা করার জন্য এই আন্দোলনে আগামীকাল সামিল হোন।
তিনি বলেন, জনতার আন্দোলনের স্রোত যদি রাস্তায় নেমে যায়, ওই শামীম ওসমান, টোসমান, ক্যাডার, ম্যাডার, জনতার স্রোতে ঢেউয়ের মতো ভেসে যাবে। তাই এখন আমাদের চূড়ান্ত কাজ হচ্ছে আত্মীয়-স্বজন, পাড়া প্রতিবেশী সবাইকে নিয়ে ঢাকার রাজপথ দখল রাখা। একবার যদি আপনারা দাঁড়িয়ে যান, ওরা পালিয়ে যাবে।
ডাকসুর সাবেক এ ভিপি বলেন, আমরা ব্যাংক লুট করি নাই, শেয়ারবাজার লুট করি নাই, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে ক্যান্টনমেন্ট বানায় নাই। সাধারণ মানুষ তার ইনকামের টাকায় বাড়ি করতে গেলে ইট-বালু, রড-সিমেন্ট সাপ্লাইয়ের নামে জোর করে টাকা নেই নাই। প্রতিটি মার্কেট থেকে ছাত্রলীগ, যুগলীগ চাঁদাবাজি করছে।
প্রকাশক ও সম্পাদক- আলি আবরার । নিরালা, খুলনা থেকে প্রকাশিত